রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফার ভোটে শনিবার বড় রকমের গণ্ডগোল হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী বিধানসভা আসনের বেশ কয়েকটি জায়গায়।
কোথাও বুথ দখল, কোথাও বড় ধরনের ভোট হামলা, সংঘর্ষ। কোথাও বা পুলিশ, সিআরপিএফের লাঠি। কোথাও অপহরণ করা হল পোলিং এজেন্টকে।
সবক’টি অভিযোগেরই তির শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে।
এ দিন বাসন্তী বিধানসভা আসনে সবচেয়ে বেশি গণ্ডগোল হয়েছে আঠারোবাঁকি, চড়াবিদ্যা, কাঁঠালবেড়িয়া, শিমুলতলা, ও ভাঙনখালি এলাকায়। অভিযোগ, বেশির ভাগ জায়গাতেই বুথে বুথে বাম এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি, মারধোর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, দুপুরে বড় রকমের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ভাঙনখালির ৭৮, ৭৯ আর ৮০ নম্বর বুথে।
ভাঙনখালির ওই তিনটি বুথে মহিলাদের লাইনে একটা বচসা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়, আরএসপি ও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। তাতে ৫ আরএসপি সমর্থকের মাথা ফাটে। এক মহিলা তৃণমূল সমর্থক জখম হন। তাঁর কানের দুল ছিঁড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, কাঁঠালবেড়িয়ার ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৯ আর ৭০ নম্বর বুথে তৃণমূল সকাল থেকেই একতরফা ভোট করাচ্ছিল। এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছিল। দুপুরে বুথ জ্যাম করার জন্য বহিরাগতদের নিয়ে জমায়েত করে তৃণমূল।
আরও পড়ুন- শনিবাসরীয় ভোটে লাইমলাইট একাই কেড়ে নিল সূর্য!
খবর পেয়ে এসডিপিও (ক্যানিং) পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পৌঁছন ঘটনাস্থলে। জমায়েত হটিয়ে দেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী ফিরে যেতেই আবার শুরু হয়ে যায় জমায়েত। সঙ্গে সঙ্গে আবার ডাক পড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর। এ বার বাহিনী এসে লাঠি চালায়। তখন তৃণমূল কর্মী, সমর্থকরাও চড়াও হন বাহিনীর ওপর। সিআরপিএফের বাস ভাঙচুর করা হয়। এর পর লাঠি চালিয়ে সিআরপিএফ এলাকা ফাঁকা করে দেয়। তৃণমূলের দাবি, সিআরপিএফ দু’রাউন্ড গুলিও চালিয়েছে শূন্যে। কিন্তু পুলিশ, সিআরপিএফ তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
ও দিকে, চড়াবিদ্যায় আরএসপি প্রার্থীর দুই পোলিং এজেন্টকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।