WB Assembly Elections 2026

‘ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না, নাগরিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে’! বাইকে কমিশনের বিধিনিষেধে মন্তব্য হাই কোর্টের

শুক্রবার কমিশনের তরফে আদালতে হলফনামা জমা দেওয়া হবে। ওই হলফনামায় কমিশন জানাবে যে, কেন ভোটের দু’দিন আগে বাইক সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫০
Share:

বাইকে নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ নিয়ে কড়া মন্তব্য হাই কোর্টের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাইকে বিধিনিষেধ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। নাগরিকদের এই ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।”

Advertisement

বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণের পর শুক্রবার কমিশনের তরফে আদালতে হলফনামা জমা দেওয়া হবে। ওই হলফনামায় কমিশন জানাবে যে, কেন ভোটের দু’দিন আগে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বাইক নিয়ে অতীতের খারাপ দৃষ্টান্তের কথাও আদালতকে জানাতে পারে কমিশন।

বৃহস্পতিবার কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি রাও আরও বলেন যে, “এই ভাবে সাধারণ নাগরিকের অধিকার হরণ করা যায় না। তা হলে গাড়িও বন্ধ করে দিন। তাতেও তো লোকজন বোমা-বন্দুক নিয়ে গিয়ে গোলমাল পাকাতে পারে!” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, আদালতকে দেখান, গত পাঁচ বছরে ক’টা ক্ষেত্রে বাইকবাহিনীর গোলমাল পাকানোর নজির আছে? দু’দিন আগে থেকে সব কিছু স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ। আবারও বলছি কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ঢাকতে এটা করা হচ্ছে।”

Advertisement

মঙ্গলবার কমিশনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, ভোটের দু’দিন আগে থেকে কোনও বাইক মিছিল করা যাবে না। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোটের দু’দিন আগে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে। কিন্তু এই সময় বাইকের পিছনে কোনও যাত্রী বসতে পারবেন না। ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে। তবে শর্ত হল, ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা জরুরি কোনও কাজে বাইক নিয়ে বেরোলে তবেই এই ছাড় মিলবে।

তবে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে (যেমন চিকিৎসা, পারিবারিক কাজ কিংবা স্কুলে শিশুদের নিয়ে যাওয়া-নিয়ে আসা) এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য যাঁরা বাইকে সওয়ার হবেন, তাঁদেরও ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, র‌্যাপিডো কিংবা অন্যান্য অ্যাপভিত্তিক পরিষেবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। এর বাইরে কেউ বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেতে চাইলে তাঁকে স্থানীয় থানার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে বলে জানায় কমিশন।

Advertisement

কমিশনের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিচারপতি রাও মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই মামলারই শুনানি হল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement