মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘আমার পরিবারে সব কমিউনিটির লোকেরা আছে। বিয়ে হয়েছে পঞ্জাবির সঙ্গে। নিউ জেনরেশনের কারও বিয়ে হয়েছে পঞ্জাবির সঙ্গে, কারও গোর্খার সঙ্গে। আমার বাড়িতে তিনটে তফসিলি মেয়ে আছে। ওদের আমি মানুষ করি, বিয়ে দিয়েছি। তার পরেও ওরা আমার সঙ্গে থাকে।’’
‘‘যুব সাথী ভিক্ষা নয়, ভাতাও নয়। ছাত্রছাত্রীরা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে যখন কলেজে যায়, অনেকের ক্ষমতা নেই। কিন্তু তাদেরও তো ইচ্ছা করে একটু ঘুগনি কিনে খেতে। একটু চা-বিস্কুট খেনে খেতে। একটু আলুর চপ কিনে খেতে। তাই ওদের স্কলারশিপের টাকাও চলবে (দেওয়া হবে)। প্লাস এটা ওদের হাতখরচ, পকেটমানি হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। আগামিদিনে কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হবে।’’
‘‘শুনুন, সেঞ্চুরি হয়ে গিয়েছে। ডবল সেঞ্চুরি করতে হবে। যাতে ভাল করে পর্যুদস্ত করতে পারা যায়। যাতে মেম্বার কিনে নিয়ে আর টাকা দিয়ে, অন্য ভাবে খেলে গভর্নমেন্ট ভেঙে দিতে না পারে, পাঁচ বছরের স্থায়ী গভর্নমেন্ট চাই।’’
‘‘খিদিরপুর দিয়ে আসছিলাম আমি। ২০০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান গটগট করতে যাচ্ছে। আর তাদের সঙ্গে একটা পুলিশ। যেন প্রেম করতে করতে যাচ্ছে। রাস্তা চেনাচ্ছে। আলিপুর দিয়ে ভবানীপুরে ঢোকাচ্ছে। আমি রাস্তাটাও দেখে এসেছি।’’
‘‘মুখে তো বলতে হয় ওকে। না হলে কর্মীদের চাঙ্গা করবে কী ভাবে! এদিকে বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসে। বাস ঢুকিয়েছিল ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে। এদের ২৭ তারিখের পর... এই আউটসাইডারদের একজনকেও দেখতে না পাই। এটা প্রশাসনের দায়িত্ব। আজকেও বেহালায় গুলি চালিয়েছে। গুন্ডামি করেছে। কারণ, পুলিশও ছেড়ে দিয়েছে। ওরা অন্য রাজ্য দিয়ে ঢুকে গিয়েছে। এর পর তো পুলিশও বুঝবে যে, কী ভুল করলাম! নাকা চেকিং করলাম না। বন্দুক ঢোকালাম। ড্রাগ ঢোকালাম। আজকে আপনাদের ভয় দেখাচ্ছে, আপনারা চমকাচ্ছেন। যে দোষ করল আর যে দোষ করল না, দু’জনে এক হয়ে গেল? কেন অ্যালাও করলেন বন্দুক!’’
‘‘আগে তো খেতে পেতিস না। একটা বিড়ি দিলে তিন বার টানতিস। এখন চামড়া মোটা হয়ে গিয়েছে। দিল্লির দয়ায় অন্যকে ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখাস। পোষ্যদের ঘরে রেখেছিস। আগে নিজেদের দিকে তাকা। তার পর অন্যদের দেখিস। বলছে, সব কাউন্সিলরকে দেখে নেব। নিজের ভাই-ও কাউন্সিলর। তাকে আগে দেখিস। কত কামিয়েছো? আমি নাম করতে ভালবাসি না। বলি না। সবসময় অভিষেককে গালাগালি দিয়ে বেড়ায়। অভিষেকের তুই পায়ের নখের যোগ্য নয়। যা, তোকে বলে দিলাম। তুই আগে ওকে লড়। তার পর আমাকে লড়বি।’’
‘‘এর পর আমার দুটো প্ল্যান আছে। একটি কিডনি ব্যাঙ্ক এবং একটি হার্টের ব্যাঙ্ক। অল্প বয়সে অনেকে মারা যান। অনেকে মারা যাওয়ার আগে হার্ট দান করতে চান। সেগুলো সংরক্ষণের কাজ করতে হবে।’’
‘‘পিজি হাসপাতাল দেখুন। কী ছিল আর কী হয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভার মধ্যেই পড়ে। আগে গেটগুলো কেমন ছিল? ঘুপচি-ঘুপচি। এখন দেখে মনে হয় বড় নার্সিংহোম। পিজি-কে কী ভাবে মেডিক্যাল হাব করেছি জানেন? শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল, কলকাতা পুলিশের হাসপাতাল, বাঙুর হাসপাতাল, একবালপুর হাসপাতাল— সবগুলোকে একসঙ্গে করে পিজি-র মধ্যে করেছে। আগে হাড় ভাঙলে জায়গা হত না। পিজিতে সবচেয়ে বেশি হাড়ভাঙা রোগীরা যান। সেই জন্য ক্যালকাটা পুলিশ হসপিটাল ব্যবহার করি। কিন্তু চিকিৎসা করেন পিজি-র ডাক্তারেরা। আমি তো বোন-ব্যাঙ্ক করার কথা ভেবেছি এ বার।’’
‘‘বন্দুক পাঠিয়ে দিয়েছে। গুন্ডা পাঠিয়ে দিয়েছে। আর লোকাল থানার পুলিশকে বলছে, ওকে অ্যারেস্ট করো! কী করে করবে? কোর্টের অর্ডার আছে, ৩০ মে পর্যন্ত করতে পারবেন না। স্টে করা হয়েছে। আর যাঁরা এখন অ্যারেস্ট করছেন, ভবিষ্যতে তাঁরা অ্যারেস্ট হওয়ার কথা চিন্তা করবেন। পাপ বাপকে ছাড়ে না। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। কোথাও কোথাও এলাকায় বন্দুক নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আমার অ্যাপয়েন্ট করা লোকগুলোকে সেঅই এসআইআরের নাম করে সরিয়েছে। তার পর বর্ডার দিয়ে বন্দুক ঢুকিয়েছে। ড্রাগ ঢুকিয়েছে। তার পরে টাকা ঢুকিয়েছে। পুরো ওড়িশার বর্ডার দিয়ে ঢুকিয়েছে। বিহার বর্ডার ব্যবহার করেছে। আর যে পুলিশকে দিয়ে আমি নাকা চেকিং করাতাম, সে সব আর কিচ্ছু হয় না। বিজেপি কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঢুকে যাচ্ছে আর বলছে আমরা চোর! ডাকাতের সর্দার! অত্যাচারী!’’
‘‘রবিবার ক্যাম্পেন হয়ে যাওয়ার পর কাল ৬টার পর বাইরের কেউ যেন হোটেলগুলোতে থাকতে না পারে। খেয়াল রাখবেন। ওরা আপনাদের ভোট দিয়ে চলে যাবে।’’
‘‘পুজো এলেই বিজেপি কোর্টে চলে যায়, আমিও কোর্টে যাওয়ার আগে টাকা দিয়ে দিই পুজো কমিটিগুলোকে! প্রতি পুজোয় ওদের একই কাজ।’’
মমতা বলেন, ‘‘এসএসকেএমের বিপরীতে দেখবেন একদিকে মন্দির এবং মসজিদ। আমাদের বিধানসভা এলাকার মধ্যে চার্চও পড়ে। গুরুদুয়ার তো আছেই। অনেক ফেস্টিভ্যাল হয়। একসময় বিজেপি বলত, আমি নাকি দুর্গাপুজো করতি দিই না। এথন কার্নিভাল দেখতে কত মানুষ আসেন।’’
গঙ্গাপ্রসাদ মুখার্জি রোড এবং পদ্মপুকুর রোডের সংযোগস্থলে সভা মমতার।
শনিবার ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় বিজেপির বিরুদ্ধে মাইক আস্ফালনের অভিযোগ করে সভামঞ্চ ছেড়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার পদ্মপুকুর এলাকায় ভোট প্রচার রয়েছে তৃণমূলনেত্রীর। মনসাতলা রোড ক্রসিংয়ের জনসভা করেন তিনি।