West Bengal Election 2026

আট আসন ছেড়ে প্রার্থী বাছল কংগ্রেস

বহরমপুর কেন্দ্র থেকে এ বার প্রার্থী হওয়ার কথা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরীর। তিনি এ দিনও বলেছেন, ‘‘দল যে লড়াই করতে বলবে, সৈনিক হিসেবে সেটাই করব। আমি পালানোর লোক নই!’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ০৭:১৫
Share:

পশ্চিমবঙ্গের প্রার্থী তালিকা ঠিক করতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে রাহুল গান্ধী। দিল্লিতে। — ফাইল চিত্র।

দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত রাজ্যে ভোট-যুদ্ধে সেনা নামানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে রাখল কংগ্রেস! তবে প্রার্থী তালিকার কিছু জট এখনও থেকে গেল।

রাজ্যে কুড়ি বছর পরে এ বার বিধানসভা ভোটে একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। দিল্লিতে শনিবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ২৮৬টি আসনের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি ৮টি নিয়ে দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা জারি আছে। রাজ্যে দলের পরিচিত ও প্রথম সারির সব নেতাকেই ভোটে প্রার্থী করতে চাইছে এআইসিসি। তবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কোথায় প্রার্থী হবেন, তা এখনও চূ়ড়ান্ত হয়নি। একটি সূত্রের ইঙ্গিত, তিনি এ বার ভোটে লড়বেন না। পাশাপাশিই সূত্রের ইঙ্গিত, কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মুসলিম মুখ থাকতে পারে।

রাজ্যে দলের নেতা-কর্মীদের ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়েই কংগ্রেস ২৯৪ আসনে লড়াই করছে বলে ফের মন্তব্য করেছেন এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই ২৯৪টি আসনের জন্য প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছিল। স্ক্রিনিং কমিটির ঝাড়াই-বাছাইয়ের পরে নির্বাচন কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। শীঘ্রই তালিকা ঘোষণা হবে।’’ গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ভবানীপুর কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, সে বার তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি কংগ্রেস। এ বার এই সংক্রান্ত প্রশ্নে মীর অবশ্য বলেছেন, ‘‘সব আসন মানে ২৯৪ কেন্দ্রেই কংগ্রেসের প্রার্থী থাকবে। কোনও আসন আমরা ছেড়ে রাখব না। দলের তরফে যিনি ভবানীপুরে লড়াই করবেন, তিনি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাই হবেন।’’ কংগ্রেসের একটি সূত্রের খবর, ভবানীপুরের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদের নাম আছে।

বহরমপুর কেন্দ্র থেকে এ বার প্রার্থী হওয়ার কথা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরীর। তিনি এ দিনও বলেছেন, ‘‘দল যে লড়াই করতে বলবে, সৈনিক হিসেবে সেটাই করব। আমি পালানোর লোক নই!’’ তবে ওয়ার্কিং কমিটির আর এক সদস্য দীপা দাশমুন্সি কেরলে দলের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব সামলে এ রাজ্যে ভোটে লড়বেন কি না, সেই প্রশ্ন আছে। রাজ্যে নির্বাচনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করার সময়েই শ’খানেক আসন বেছে নিয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন মীরেরা। প্রার্থী তালিকাও সেই ভাবে বিন্যাস করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

একা লড়াই করে পশ্চিমবঙ্গে ভাল ফল করতে গেলে কংগ্রেসের বিশেষ নজর থাকবে মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর জেলায়। তবে সেখানেও সংখ্যালঘু ভোটের ভাগাভাগি নিয়ে এখন নানা চর্চা চলছে। এই পরিস্থিতিতে রামনবমী ঘিরে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে গোলমালের ঘটনার সূত্রে অধীর মনে করিয়ে দিয়েছেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে মেরুকরণের অঙ্ক পোক্ত করতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস, দু’পক্ষই সক্রিয় হয়েছিল। এখনও একই রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন