সিপিএম প্রার্থীকে জল কেন, বলেই শুরু মার

চৈত্রের দুপুরে প্রচার শেষে ক্লান্ত হয়ে তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন রানাঘাট (উত্তর-পূর্ব) কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী বাবুসোনা সরকার। সঙ্গে ছিলেন জনা পঞ্চাশেক সিপিএম ও কংগ্রেস কর্মী। বাবুসোনা যাঁর বাড়িতে উঠেছিলেন সেই শ্যামল মজুমদার নিজেও সিপিএমের কর্মী।

Advertisement

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০১৬ ০৩:৩৭
Share:

ঘটনার বিবরণ দিচ্ছেন গীতাদেবী ও শীতল সিকদারের ভাঙা বাড়ি।— সুদীপ ভট্টাচার্য

চৈত্রের দুপুরে প্রচার শেষে ক্লান্ত হয়ে তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন রানাঘাট (উত্তর-পূর্ব) কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী বাবুসোনা সরকার। সঙ্গে ছিলেন জনা পঞ্চাশেক সিপিএম ও কংগ্রেস কর্মী। বাবুসোনা যাঁর বাড়িতে উঠেছিলেন সেই শ্যামল মজুমদার নিজেও সিপিএমের কর্মী। তবে শনিবার তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী গীতাদেবী সবাইকে চা খাইয়েছিলেন। বাবুসোনা নিজেও এক গেলাস জল চেয়ে খেয়েছিলেন।

Advertisement

নদিয়ার হাঁসখালির কৈখালির বাসিন্দা মজুমদার পরিবারের ‘অপরাধ’ বলতে এটাই। তার শাস্তিও মিলেছে। শনিবার রাতেই বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি গীতাদেবীকে মারধরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। মজুমদার পরিবারের দাবি, তাণ্ডব চালিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় তারা শাসিয়ে গিয়েছে, ‘সিপিএম প্রার্থীকে জল খাওয়ানো? দেখ, কেমন লাগে।’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় হাঁসখালি থানার পুলিশ। রাতেই ছ’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। রবিবার প্রার্থী বাবুসোনা সরকারকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে হাঁসখালি থানায় বিক্ষোভ দেখান জেলা সিপিএম নেতৃত্ব। জেলার পুলিশ সুপার শিশরাম ঝাঝারিয়া বলেন, ‘‘তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’

Advertisement

পেশায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী শ্যামলবাবু এলাকায় সিপিএমের সক্রিয় কর্মী বলেই পরিচিত। সেই হিসেবেই এ দিন প্রচার শেষে শ্যামলবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী। আর সেটাই যেন কাল হল। রবিবারেও গীতাদেবীর চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। কী ঘটেছিল জানতে চাইলে চারপাশ ভাল করে দেখে তিনি বলেন, ‘‘আমরা সিপিএম করি। সেই জন্যই দলের প্রার্থী এসেছিলেন আমাদের বাড়িতে। এক গেলাস জলও চেয়ে খেয়েছেন তিনি। আর এটাই কি আমাদের অপরাধ?’’

গীতাদেবীর অভিযোগ, রাত তখন প্রায় দশটা। দুই ছেলেকে সবে তিনি খেতে দিয়েছেন। আচমকা তাঁদের দোকানের শাটারে কয়েকজন সজোরে ধাক্কা দেয়। বিপদ বুঝে তিনি ছেলেদের বাড়ির বাইরে বের করে দেন। তারপরেই এলাকার জনাকয়েক তৃণমূলের লোকজন সোজা ঘরের ভিতরে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। ওদের হাতে দা, লোহার রড ছিল। ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে তাঁকে গলা টিপে ধরে মারধর করে। গীতাদেবী বলেন, ‘‘ওরা বারবার বলছিল যে, সিপিএম প্রার্থীকে জল দিয়েছিস? আবার আদর করে চা খাওয়ানো হয়েছে। দেখ, কেমন লাগে।’’

শুধু গীতাদেবীর বাড়িতেই নয়, এ দিন রাতের তৃণমূল কর্মীরা এলাকার কংগ্রেসকর্মী শীতল সিকদারের বাড়িতেও হামলা চালায় বলে অভিযোগ। রবিরার সকাল থেকে ভয়ে এলাকা ছাড়া শীতলবাবু। তাঁর স্ত্রী শান্তিদেবী বলেন, ‘‘আমার স্বামী এখনও কংগ্রেস করেন। তিনি সিপিএম প্রার্থীর হয়ে প্রচার করছেন। এটাই তার অপরাধ।’’

হাঁসখালি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দুলাল বিশ্বাস। তিনি আবার এই এলাকারই বগুলা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানও। সিপিএমের অভিযোগ, দুলাল বাহিনীই এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে। তাঁর লোকেরাই গীতাদেবীর বাড়িতে হামলা করে। আর দুলালবাবু বলছেন, ‘‘এমন ঘটনার কথাই আমার জানা নেই।’’ সিপিএম প্রার্থী বাবুসোনা সরকার বলেন, ‘‘হেরে যাওয়ার ভয়টা ওদের কতটা গ্রাস করেছে একবার ভাবুন!’’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত বলছেন, ‘‘সিপিএম প্রার্থীকে চা-জলখাবার খাওয়ানোর মতো নাগরিক এই দেশে এখ‌নও আছে নাকি? সব সাজানো। মিথ্যে কথা।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement