Md Salim Sujan Chakraborty

এগিয়ে থাকা রানিনগরে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি সিপিএম, প্রথম তালিকায় বাদ টালিগঞ্জও, সেলিম-সুজনের রাস্তা খুলতে?

সিপিএমের একটি অংশ মনে করে, রানিনগরে সেলিমের মতো ওজনদার প্রার্থী দাঁড়ালে তবেই বিধানসভা ভোটে ওই আসনে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু নিয়মের জটিলতায় সেলিমের দাঁড়ানো থমকে গিয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ২০:১৩
Share:

(বাঁ দিকে) মহম্মদ সেলিম। সুজন চক্রবর্তী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র মুর্শিদাবাদের রানিনগরে এগিয়ে ছিল সিপিএম। কিন্তু সোমবার প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থিতালিকায় সেই রানিনগরেই প্রার্থী ঘোষণা করল না আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। প্রথম তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে সিপিএমের অন্দরে। সেই সূত্রে জুড়ে যাচ্ছে টালিগঞ্জ বিধানসভা আসনে প্রার্থী ঘোষণা না-হওয়ার প্রসঙ্গটিও।

Advertisement

লোকসভা ভোটে মুর্শিদাবাদ আসনে লড়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। মুর্শিদাবাদ লোকসভার সাতটি বিধানসভার মধ্যে একমাত্র রানিনগরেই তিনি এগিয়ে ছিলেন এক হাজারের সামান্য কম ভোটে। সেলিম বিধানসভা নির্বাচনে রানিনগরে দাঁড়াবেন কি না, সেই জল্পনা ছিল। কিন্তু প্রথম তালিকায় রানিনগর বাদ থাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সিপিএমের একটি সূত্রের বক্তব্য, দল এ বার ঠিক করেছে, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসাবে একমাত্র মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ই বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মিনাক্ষী লড়বেন হুগলির উত্তরপাড়া থেকে। আর কোনও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ভোটে লড়বেন না। কিন্তু বাঁকুড়ার জেলা সিপিএম নেতৃত্বের অনুরোধে রানিবাঁধ বিধানসভায় লড়ার জন্য দেবলীনা হেমব্রমকে ‘বিশেষ অনুমতি’ দেওয়া হয়েছে। এই নীতির জটেই আপাতত আটকে রানিনগর এবং টালিগঞ্জ।

সিপিএমের একটি অংশ মনে করে, রানিনগরে সেলিমের মতো ‘ওজনদার’ প্রার্থী দাঁড়ালে তবেই বিধানসভা ভোটে ওই আসনে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু ‘সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লড়বেন না’ নীতিতে সেলিমের প্রার্থিপদে নাম ঘোষণা থমকে গিয়েছে। সেই ‘জট’ আবার কাটাতেই সুজন চক্রবর্তীকে টালিগঞ্জ আসনে লড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে সিপিএমের কেউই এ নিয়ে মুখ খোলেননি। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকের শেষে আলিমুদ্দিনে ঘরোয়া পরিবেশে সেলিমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সম্পাদকমণ্ডলী থেকে কি ভোটে লড়ার সংখ্যা বাড়বে? স্বভাবসিদ্ধ হালকাচালে সেলিম ‘ইন্তেজার’ (অপেক্ষা) করার কথা বলেছেন।

Advertisement

সুজন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীরও সদস্য। সূত্রের খবর, তাঁকে এক প্রবীণ নেতা সোমবারেও অনুরোধ করেছেন টালিগঞ্জে লড়ার জন্য। সিপিএম সূত্রে এ-ও জানা যাচ্ছে যে, সুজন সেই নেতাকেও জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ভোটে লড়তে চান না। প্রচারে এবং সংগঠনে কাজ করতে চান। সুজন-ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, প্রাক্তন সাংসদ ও বিধানসভার প্রাক্তন বাম পরিষদীয় নেতাকে নিয়ে কয়েকটি নির্বাচনে ঠেলাঠেলি হচ্ছে। বিধানসভায় তিনি লড়েছিলেন যাদবপুর কেন্দ্রে। লোকসভায় তাঁকে জেলা বদলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার দমদমে। এ বার আবার তাঁকে বলা হচ্ছে টালিগঞ্জে দাঁড়াতে। যাদবপুরের সুজন-ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, ‘‘দাদা কি যাযাবর নাকি?’’ যদিও তাঁরা এ-ও বলছেন যে, অনেক ক্ষেত্রে একমত না-হলেও সুজন শেষপর্যন্ত পার্টির সিদ্ধান্ত মেনে নেন। টালিগঞ্জের ক্ষেত্রে তিনি কী করবেন, সেটাই আপাতত প্রশ্ন। তবে সুজন লড়তে রাজি হলে সেলিমেরও রানিনগরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার রাস্তা খুলে যাবে। তা না-হলে সেলিম লড়বেন কি না, সম্পাদকমণ্ডলী অনুমোদন দেবে কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে দলের অন্দরে।

সোমবার প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় ১৯২টি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। তবে সেই তালিকার ‘যৌক্তিকতা’ নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে দলের অনেকের। দীপ্সিতা ধর গত লোকসভায় লড়েছিলেন শ্রীরামপুর লোকসভায়। তাঁকে এ বার জেলা বদলে উত্তর দমদমে প্রার্থী করা হয়েছে। সূত্রের খবর, দীপ্সিতাকেও ‘শেষবেলায়’ রাজি করিয়েছে সিপিএম। আবার যে ভাবে ‘প্রবীণ নেতা’ হিসাবে মানস মুখোপাধ্যায়, যাদবপুরে বিকাশ ভট্টাচার্য এবং মালদহের ইংরেজবাজারে অম্বর মিত্রকে প্রার্থী করা হয়েছে, তা নিয়ে দলে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে। এক প্রবীণ নেতার কথায়, ‘‘তরুণ-তরুণ করে পার্টিটাকে গানবাজনার আখড়া করে ফেলা হচ্ছিল! কয়েক জনকে প্রার্থী করায় সেই লঘু রাজনীতি ধাক্কা খাবে। যা দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’’ আবার ‘তরুণ নেতা’ কলতান দাশগুপ্তকে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে প্রার্থী করার নেপথ্যেও নকশা রয়েছে। কলতান কলকাতার বাসিন্দা। কিন্তু আরজি কর আন্দোলনের সময়ে তাঁকে একটি মামলায় বেশ কয়েক দিন জেল খাটতে হয়েছিল। সেই কলতানকে প্রার্থী করা হয়েছে আরজি করের নির্যাতিতার বাড়ির এলাকাতেই। বামফ্রন্টের বাইরের দল হিসাবে সিপিআইএমএল (লিবারেশন) সমঝোতা করেছে বিমান বসুদের সঙ্গে। দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের দল সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছে, তারা বামফ্রন্টের সমর্থনে ১০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রার্থিতালিকা পরে ঘোষণা করা হবে।

অন্য দিকে প্রার্থী ঘোষণার সাংবাদিক বৈঠকে সব শরিকের মতো ফরওয়ার্ড ব্লকের নরেন চট্টোপাধ্যায়ও হাজির ছিলেন। কিন্তু সেই সাংবাদিক বৈঠকের তিন ঘণ্টা কাটার আগেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি লিখেছেন তিনি। তাতে বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক স্তরে নিষ্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও কলকাতার শ্যামপুকুর আসনে ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি। তা ছাড়া কোচবিহার উত্তর, জলপাইগুড়ি, হরিশচন্দ্রপুর এবং গলসি আসনে ফরওয়ার্ড ব্লকের দাবি থাকা সত্ত্বেও কেন একতরফা ভাবে সিপিএম প্রর্থীদের নাম ঘোষণা করা হল, চিঠিতে সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement