ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। —ফাইল চিত্র।
ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ‘ঘনিষ্ঠ’দের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। নির্দেশের অন্যথা হলে পুলিশের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে পুলিশকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করতে হবে।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের সময় থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায়। বেশ কিছু বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবিও উঠেছে। শনিবার রাজ্যের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে ঠিকই, তবে সেই তালিকায় ফলতা নেই। এরই মধ্যে শনিবার সকাল থেকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় ফলতায়। এলাকায় বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। এই ঘটনায় উঠে এসেছে জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ইস্রাফুল চোকদার নাম। তাঁর নেতৃত্বেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন গ্রামবাসীদের একাংশ।
এ অবস্থায় হুমকি দেওয়া এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে জাহাঙ্গিরের ‘ঘনিষ্ঠ’দের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিল কমিশন। ইস্রাফুল এবং অপর এক জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ সুজাদ্দিন শেখের নামোল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি ওই এলাকার পুলিশের উদ্দেশেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে কমিশন। জানিয়ে দিয়েছে, ওই এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে পুলিশকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে। না-হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে।
শুক্রবার থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় ফলতায়। বিজেপি কর্মীদের উপর মারধরের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ফলতার হাশিমনগর। শনিবারও ওই একই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। হাশিমনগর এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ তথা বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। তার প্রতিবাদ করায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে কিছু লোকজন হামলা চালিয়েছেন। বিজেপির কর্মী এবং সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে শুক্রবারও জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিলেন গ্রামবাসীদের একাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফলতা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যায়। তবে শনিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীরা রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। এক বিক্ষোভকারীর কথায়, ‘‘বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমরা ইস্রাফুলের গ্রেফতারি চাই। কিন্তু রাজ্য পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। আমরা চাই ওকে গ্রেফতার করা হোক। আর চাই ফলতায় দু’টি বুথ আছে, যেখানে পুনর্নির্বাচন করা হোক।’’ বিক্ষোভকারীদের দাবি, ‘‘ফলতায় পুনর্নির্বাচন চাই।’’ কেউ কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ আধিকারিক জানান, কোনও লাঠিচার্জ হয়নি।