WB Assembly Election

হাঁসখালির বিডিও-কে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন, ভোট প্রশিক্ষণে যাওয়া কর্মীকে মারধরের ঘটনায় পদক্ষেপ

চলতি মাসের ২৭ তারিখ রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ় স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ করেন সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ করল কমিশন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ২০:১২
Share:

হাঁসখালি ব্লকের বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হাঁসখালি ব্লকের বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। দিনকয়েক আগে নদিয়ার রানাঘাটের স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে পদক্ষেপ করা হল। এই ঘটনায় আগেই সায়ন্তনকে শো কজ় করেছিল কমিশন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

কমিশন জানিয়েছে, হাঁসখালিতে ভোট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করার সামগ্রিক দায়িত্ব ছিল বিডিও-র। তবে তিনি তাঁর নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে এবং প্রয়োজনীয় প্রোটোকল বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিডিও সায়ন্তনের এই গাফিলতি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির কমিশনের চেষ্টাকে ব্যর্থ করেছে। সেই সব বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ।

চলতি মাসের ২৭ তারিখ রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ় স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ করেন সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক। ওই ভোটকর্মীর দাবি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করায় তাঁর উপর হামলা হয় বিডিও-র নেতৃত্বেই। সৈকতের কয়েক জন সহকর্মীও অভিযোগ করেন, ভোটের প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ এবং দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত ভিডিয়ো প্রদর্শন করা হয়। এতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সৈকত। তার পরেই মারধরের ঘটনা ঘটে।

Advertisement

বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়। বিতর্কের মধ্যে সাফাই দেন সায়ন্তনও। তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গন্ডগোলের কথা স্বীকার করলেও মারধরের অভিযোগ মানতে চাননি। ঘটনা নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই সায়ন্তনকে শো কজ় করে কমিশন। বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে, কেন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রাজ্য সরকারের প্রকল্প দেখানো হল? এ প্রসঙ্গে নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লি জানান, ভুলবশত মুখ্যমন্ত্রীর ছবি প্রজেক্টরে ভেসে উঠেছিল। তবে তা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গও বলেও জানিয়েছিলেন শ্রীকান্ত। ওই ঘটনায় কমিশনকে রিপোর্টও পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দুই কর্মীর নামে এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছিল। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। যদিও বর্তমানে তাঁরা জামিনে মুক্ত।

সায়ন্তনের সাসপেন্ডের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন ‘প্রহৃত’ ভোটকর্মী সৈকত। তিনি বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্ত আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রের পক্ষে কমিশনের ভূমিকার ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের পক্ষে থাকা এক শ্রেণির আমলাদের জন্যেও একপ্রকার হলুদ কার্ড হয়ে থাকল।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement