এসআইআর বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশন অভিযানে পুলিশের বাধা। শনিবার। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী।
হতাশ, বিস্মিত আলোচনায় ঘুরে ফিরে উঠে আসছে রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের ব্লকে বা পঞ্চায়েতের অমুক পার্ট, তমুক বুথের ভোটারদের কথা। অতিরিক্ত ভোটার তালিকা কয়েক দফায় বেরোলেও এখনও কারও ভাগ্য, অনিশ্চয়তায় ঝুলে। কেউ কেউ ভোটার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। কিন্তু ২০০২ বা তারও আগে কয়েক প্রজন্মের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও বিবেচনাধীন থেকে নাম বাতিল হয়েছে এমন নমুনাও বহু। এমন নানা জনের উৎকণ্ঠা, ক্ষোভ বহন করেই শনিবার পার্ক সার্কাসে অবস্থানরত ভোটাধিকার মঞ্চের আওয়াজ রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে কড়া নাড়ল।
পার্ক সার্কাস থেকে মিছিল মসৃণ ভাবে ধর্মতলা পৌঁছলেও তার পরে পুলিশি বাধা নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ মিছিলকারীদের কয়েক জনের গায়ে হাত তুলেছে বলেও অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে তিক্ততা সৃষ্টি হলেও কর্তব্যরত পুলিশকর্তারা মৌখিক ক্ষমা চেয়ে মধ্যস্থতা করেন বলে দাবি। প্রতিবাদীদের পাঁচ প্রতিনিধি সাইফুল্লা, মাসুদ করিম, রাহুল চক্রবর্তী, শর্মিষ্ঠা রায়, আনিসুর রহমান পরে বিবাদী বাগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগীর সঙ্গে কথা বলেন। তালিকার নানা অসঙ্গতির জেরে এই মঞ্চের দাবি, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের তালিকা মেনে ভোট হোক।
এসআইআর বিড়ম্বনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শিকার অনেকেরই মত, গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত খসড়া তালিকা অল্পস্বল্প ভুল নিয়েও ঠিকঠাক ছিল। এর পরে ধরে ধরে নাম-বিভ্রাট খুঁজে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি দেখিয়ে নাম বাদ বা বিবেচনাধীন বলে ফেলে রাখা হয়েছে। যা অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায্য ভোটারকে বঞ্চিত করছে। রঘুনাথগঞ্জের স্কুল শিক্ষক তইবুর শেখ শুক্রবার প্রিসাইডিং অফিসারের ডিউটি সেরে ফিরে দেখেছেন শেষতম তালিকায় তাঁর নাম বাদ।
পার্ক সার্কাসেও আলোচনা চলছিল, ফরাক্কার সমসেরগঞ্জ ব্লকে ১৫২ নম্বর পার্টে ৪১৮ জন বিবেচনাধীন এবং ১৫৮ নম্বর পার্টে ৬৯৮ বিবেচনাধীনের কেউই ভোটার তালিকায় ঠাঁই পাননি। অতিরিক্ত তালিকায় এক ধাক্কায় সকলেই বাদ। জন্মসূত্রে বিহারের বাসিন্দা কয়েক দশক কলকাতাবাসী আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামিম আখতার ২০০২ সালেও এ রাজ্যের ভোটার ছিলেন। তাঁর নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি। আলিয়ার বাংলার অধ্যাপক সাইফুল্লাহর নাম এখনও বিবেচনার গেরোয় ঝুলে। গণ সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর আর্জি, “পারিবারিক গোরস্থানে আমার পূর্বপুরুষের দেহাবশেষ মিলিয়ে দেখুন! তবে বুঝবেন, আমরা এ দেশের ভোটার!”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে