শীতলকুচির সেই বুথ। —ফাইল চিত্র।
শীতলকুচির মতো ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হতে দেওয়া যাবেই না। সামান্য গন্ডগোল হলেও সঙ্গে সঙ্গে সামলাতে হবে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। আর সে জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বাক্যালাপ। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবাঙালি জওয়ান থেকে আধিকারিক, সকলকে কাজ চালানোর মতো বাংলাভাষা আয়ত্ত করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে এমনটাই খবর।
আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় সমগ্র উত্তরবঙ্গে ভোট হবে। কমিশনের নির্দেশে ইতিমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোচবিহারেও নিয়মিত রুট মার্চ চলছে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে হলে শুধু নিরাপত্তাই নয়, সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সহজ-সরল যোগাযোগ স্থাপন করতে জোর দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। সূত্রের খবর, এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা যাতে বাংলাভাষাটা অন্তত বুঝতে পারেন, সে বিষয়ে জোর দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। শুধু টহল নয়, রুট মার্চের সময় নাগরিকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের যুক্তি, অনেক ক্ষেত্রেই ভাষাগত সমস্যার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অসুবিধা তৈরি হয়। কী ভাবে ওই অসুবিধা কাটানো যায়, সে দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে দৈনন্দিন ব্যবহারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাংলা শব্দ, বাক্য অন্তত শিখে নিতে বলা হচ্ছে অবাঙালি জওয়ানদের। কোনও রাস্তা বা ঠিকানা জিজ্ঞাসা করা, পরিচয় জানা, কোনও সাহায্যের জন্য অনুরোধ করার সময় যাতে তাঁরা বাংলায় কথা বলেন, সে জন্য শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে যাতে অসুবিধা না-হয়, সে দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “ভোটের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভাষা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। জাওয়ানেরা বাংলাভাষাটা আয়ত্ত করতে পারলে ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধা হবে।’’
২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে শীতলকুচির জোরপাটকি ৫/১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে ভোটারদের বচসা এবং তার পর গুলি চালানোর ঘটনায় চার জনের মৃত্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে যায়। এমন ‘ভুল বোঝাবুঝি’-র পুনরাবৃত্তি যাতে কোনও ভাবেই না-হয়, সে দিক নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন।