(বাঁ দিকে) স্বপ্না বর্মণ এবং খগেশ্বর রায় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
মঙ্গলবার দুপুর ৩টে। জলপাইগুড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসেছিলেন রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়। চোখ ছিল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থিতালিকা ঘোষণায়। মেখলিগঞ্জ থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেন মমতা। টানটান হয়ে বসলেন খগেশ্বর। কিন্তু একে একে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল খগেশ্বরের। তার পর মমতা, অভিষেক আর কোন কোন কেন্দ্রে কাকে প্রার্থী করলেন, কানে ঢোকেনি তৃণমূল বিধায়কের।
তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পর কয়েক ঘণ্টাও যায়নি। মঙ্গলবার দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন খগেশ্বর। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণের হার নিশ্চিত!
২০১৮ সালের এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্নার হাতে গত ফেব্রুয়ারিতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবও। জলপাইগুড়ির ভূমিকন্যা ২০১৮ সালে এশিয়াডে সোনা জিতলেও পরে চোটের কারণে খেলা ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি রেলকর্মী। গত জানুয়ারি মাসে শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে স্বপ্নাকে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কিন্তু স্বপ্নাকে ভোটের টিকিট দেওয়া হতে পারে, এমনটা ভাবতে পারেননি রাজগঞ্জের কয়েক বারের বিধায়ক খগেশ্বর। তাঁর এক ঘনিষ্ঠের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছেন৷ খগেশ্বরদা থেকে কর্মীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু রাজগঞ্জ বিধানসভার প্রার্থী নাম ‘স্বপ্না বর্মণ’ বলতেই সব উৎসাহ যেন এক লহমায় মাটি হয়ে গেল৷ বন্ধ করে দেওয়া হয় টিভি৷’’
তার পর অনুগামীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বসেই জলপাইগুড়ি জেলার তৃণমূলের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন খগেশ্বর। কিছু ক্ষণ বাদে জেলার চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেন।
তৃণমূল সংগঠন তৈরি থেকে উত্তরবঙ্গে যে কয়েক জন নেতা মমতার রাজনৈতিক সঙ্গী হয়েছেন, খগেশ্বর তাঁদের অন্যতম। ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে প্রথম জয়লাভ করেন। তার পর ২০১১ সাল ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা রাজগঞ্জ থেকে জিতে আসছেন তিনি। টিকিট না পেয়ে খগেশ্বরের বক্তব্য, “আজ টাকার কাছে হেরে গেলাম! মুখ্যমন্ত্রী যখন কংগ্রেস ছেড়ে দল গঠন করেন, সেই সময় থেকে তাঁর সঙ্গে আমি। নিশ্চয়ই এমন কোনও লিডার (নেতা) এমন টাকা দিয়েছে যে, সে জন্য আমার নাম বাদ পড়ল। যিনি কোনও দিন তৃণমূল দলটাই করলেন না, তিনি আমার বিধানসভায় প্রার্থী!’’ বিদায়ী বিধায়ক আরও বলেন, “আমার প্রতি যে অবিচার হল, তার জন্য দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। রাজগঞ্জ সিট (আসন) তৃণমূল হারবে। এখানে দলের ভিত আমি তৈরি করেছি। অন্য দলে যাব কি না তা এখনও চিন্তা করিনি। তবে দলকে চিঠি পাঠালাম। দেখি দল কী সিদ্ধান্ত জানায়।”
জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের সভাপতির সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে সদ্য প্রার্থী হওয়া স্বপ্নার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “ব্যক্তিগত কারণে এই মুহূর্তে ব্যস্ত রয়েছি। পরে কথা হবে৷"