অনন্তদেব অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
এসএসসি-র নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীকে তলব করেছিল ইডি। মঙ্গলবার সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দেন তিনি। এসেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈনও। ইডি সূত্রে খবর, এই মামলায় দু’জনেরই বয়ান নেওয়া হয়েছে।
আগেও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মণীশকে তলব করেছিল সিবিআই। তার পর সিবিআই দফতরে গিয়ে হাজিরাও দিয়েছিলেন তিনি। এ বার এসএসসি-র নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে তলব করা হয় অনন্তদেব এবং মণীশকে। মঙ্গলবার তাঁরা সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দেন। তাঁদের দু’জনেরই বয়ান রেকর্ড করা হয়।
চলতি মাসেই এই মামলার তদন্তে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে তলব করা হয়। ইডির সূত্র মারফত জানা যায়, মার্চের ১৬ এবং ১৮ তারিখ তলব করা হয়েছে পার্থ এবং অর্পিতাকে। এই মামলায় এর আগে তলব করা হয় মনীশ এবং হুগলির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষকেও।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জুলাই মাসে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ এবং অর্পিতা। দীর্ঘ তল্লাশির পর অর্পিতার দু’টি ফ্ল্যাট থেকে নগদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছিল ইডি। তার পরেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সিবিআই-এর এসএসসি এবং প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও পার্থকে গ্রেফতার দেখানো (শোন অ্যারেস্ট) হয়। ওই সময় পার্থের বাড়িতে যে নথি পাওয়া যায় তার মধ্যে ছিল অনন্তের লেটারহেড প্যাড। তাতে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা ছিল। এমনটাই ইডি-র দাবি। (যদিও ইডি-র ওই দাবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)
ঘটনাচক্রে, এসএসসি দুর্নীতি-কাণ্ডে রজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থের গ্রেফতারের আবহে মুখ খুলেছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অনন্তদেব। তাঁর দাবি, শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন পার্থ তাঁর কাছে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছিলেন। তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর কথা শুনে তিনি ২০১৬ সালে এসএসসি-র মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগের জন্য নিজের বিধায়কের লেটারহেডে পাঁচ জনের নাম দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, যাঁদের নাম পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের কেউই নিয়োগপত্র পাননি। এই বিষয় অনন্তদেব বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। বলেন, “আমার ছেলেমেয়ে দু’জনেই স্নাতকোত্তর পাশ, টেট উত্তীর্ণ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সুপারিশে ওদের নামও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দিয়েছিলাম। যোগ্যতা থাকলেও ওদের নিয়োগ হয়নি। এখন বোঝাই যাচ্ছে, তখন টাকা ছাড়া নিয়োগ হয়নি।” তিনি এও বলেন, ‘‘এ সব নিয়ে এখন বিতর্ক করে কী লাভ!”