West Bengal Election 2026

প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই ছন্দপতন, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি মেজো-সেজো-ছোট নেতাদের, হল সংঘর্ষও

খণ্ডঘোষ বিধানসভায় নবীনচন্দ্র বাগ ও মন্তেশ্বর বিধানসভায় সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণা হতেই ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ২৩:৪২
Share:

বিক্ষুব্ধ নেতা অপার্থিব ইসলাম। — নিজস্ব চিত্র।

প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই পূর্ব বর্ধমানে প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। খণ্ডঘোষ বিধানসভায় নবীনচন্দ্র বাগের নাম ঘোষণা হতেই নেতা-কর্মীদের একাংশের হুঁশিয়ারি দলীয় কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়া ও পদত্যাগের। মন্তেশ্বরে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণা হতেই গোষ্ঠী সংঘর্ষ বাধে। দু’পক্ষের দ্বন্দ্বে আহত এক জন।

Advertisement

খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে নবীনের নাম ঘোষণা হতেই দলের অন্দরে বিদ্রোহ। প্রার্থী হিসেবে নবীন বাগকে মানি না— এই দাবিকে সামনে রেখে ব্লক সভাপতি-সহ একাধিক নেতা পদত্যাগের ‘সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন। ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম ওরফে ফাগুন অভিযোগ করেন, দলে থেকে যাঁরা ‘বেইমানি’ করছেন তাঁদেরই মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিদ্রোহী শিবির স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও ভাবেই প্রার্থী হিসেবে নবীনকে মেনে নেওয়া হবে না। বিদ্রোহীদের তরফে দলের সমস্ত কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। শুধু ব্লক সভাপতি নন, পদত্যাগের পথে হেঁটেছেন একাধিক পঞ্চায়েত প্রধানও। পাশাপাশি, গোপালবেড়া, কৈয়র, বেরুগ্রাম, সগরাই, শাঁকারি-১ ও উখরিদ অঞ্চলের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতিরাও পদত্যাগ করতে চলেছেন বলে সূত্রের খবর। একই সুর শোনা গিয়েছে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়ের গলাতেও। তিনি জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে শীঘ্রই জেলা পরিষদের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।

এই প্রসঙ্গে প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে এই আসনে নবীন জয়ী হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে মুকুল রায়ের হাত ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ওই বছরেই খণ্ডঘোষ থেকে দলের প্রার্থী হন তিনি। জয়ী হয়ে বিধায়কও হন। ২০২১ সালেও তৃণমূলের প্রতীকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।

Advertisement

কালনার মন্তেশ্বর বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে সিদ্দিকুল্লার নাম প্রকাশিত হওয়ার পরে দীর্ঘনগর গ্রামে মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমেদ হোসেন ও সিদ্দিকুল্লার অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় সিদ্দিকুল্লার এক অনুগামী আহত হয় বলে অভিযোগ। আহতকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় পুলিশ মন্তেশ্বর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement