‘নির্বাচনী ঘোষণাপত্র’ প্রকাশে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন নেতৃত্ব।
প্রতি পরিবারের জন্য অন্তত একটি স্থায়ী কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইতিমধ্যেই বিধানসভা ভোটের ইস্তাহার প্রকাশ করেছে বামফ্রন্ট। একই কথা বলে এবং বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর ডাক দিয়ে এ বার ‘নির্বাচনী ঘোষণাপত্র’ (ইস্তাহার) প্রকাশ করল সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনও। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) আবহে তাদের ইস্তাহারে বিশেষ ভাবে জায়গা পেয়েছে ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই। এসআইআর-বিরোধিতায় এ দিন মুখর হয়েছে সিপিএম এবং এসইউসি-ও।
গত বার শুধু ‘নো ভোট টু বিজেপি’ ডাক দেওয়া লিবারেশন এ বার বিজেপি ও তৃণমূল, দুই শক্তিকে হারানো এবং বামপন্থার পুনর্জাগরণের কথা বলে বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। সেই রাজনৈতিক অবস্থানের সূত্রেই ইস্তাহার প্রকাশ করে লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার শুক্রবার বলেছেন, “রাজ্য জুড়েই বিজেপির আগ্রাসন ও তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গবাসী লড়ছেন।” বিজেপির ‘বিদ্বেষ, বিভাজন, বাংলা দখলের চক্রান্ত’ ও ‘তৃণমূলের দুর্নীতি, সামাজিক সন্ত্রাস’কে হারানোর ডাক দেওয়া হয়েছে ইস্তাহারে।
এসআইআর-এর মাধ্যমে বহু মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে এ দিন সরব হয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে তিনি বলেছেন, ‘‘এসআইআর-এ লক্ষ লক্ষ লোককে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট যা বলছে তার অর্থ, এ বার ভোট দিতে না-পারলেও চলবে! আমরা বলছি, ভোটাধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার। তাকে রক্ষা করতেই হবে। বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকারকে সঙ্কুচিত করতে। আমরা তীব্র প্রতিবাদ করছি।’’
এসআইআর-এ বাদ পড়া সব ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা, অসংগঠিত ক্ষেত্রে মাসে ন্যূনতম ২৬ হাজার টাকা মজুরি, শ্রমিক-পরিযান রোধে স্থানীয় কর্মসংস্থানে জোর, কৃষি-শ্রমিকদের বছরে ২০০ দিন কাজ, দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরির মতো নানা কথা বলা হয়েছে লিবারেশনের ইস্তাহারে। শ্রমিক, কৃষক, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা, লিঙ্গসমতা-সহ নানা বিষয়েও রয়েছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। দলের ইস্তাহার প্রকাশ উপলক্ষে অভিজিতের সঙ্গে ছিলেন লিবারেশনের পলিটব্যুরো সদস্য কার্তিক পাল, দলের নেতা পার্থ ঘোষ, ইন্দ্রাণী দত্ত-সহ অন্যেরা।
একই ভাবে এসআইআর, সাম্প্রদায়িকতা, দুর্নীতি-সহ নানা বিষয়কে সামনে রেখে বিজেপি ও তৃণমূলকে হারানোর ডাক দিয়েছে এসইউসি-ও। দলের রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য-সহ অন্যেরা এ দিন বলেছেন, ‘এসআইআর-এর মাধ্যমে ঘুরপথে এনআরসি চালুর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। বাতিল ভোটারদের বেশির ভাগ সংখ্যালঘু, মহিলা, দরিদ্র শ্রমিক, মতুয়া, আদিবাসী।’ চণ্ডীদাসদের অভিযোগ, তৃণমূল আমলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ রয়েছে। সেই সুযোগে বিজেপির কথায় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর নামে জনসাধারণের বিরুদ্ধে ‘নাগাড়ে যুদ্ধ করছে।’ এসইউসি-র দাবি, ২০২৫-এর তালিকায় যাঁরা গণনা-পত্র পূরণ করেছিলেন, সবাইকেই ভোটাধিকার দিতে হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে