অমিত শাহ। — ফাইল চিত্র।
‘‘বিজেপির সরকার হলেই দুর্নীতিবাজদের জেলে ভরা হবে। মমতার সরকার থাকলে বিকাশ হবে না। পরিবর্তন দরকার। মোদীজি বিকশিত ভারত করতে চান। বিকশিত বাংলা না হলে তা সম্ভব নয়। মমতাদিদি বিকশিত করতে পারবে না। আপনারা পদ্মের বোতামে চাপ দিন। এত জোরে চাপ দিন, যাতে গোটা দেশে শোনা যায়।’’
‘‘ধানের দাম ৩১০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল করা হবে। বিধবা, প্রবীণ, দিব্যজনদের পেনশন দ্বিগুণ করা হবে। বাগানের শ্রমিককে মালিক করব। বন্ধ জুটমিল চালু করা হবে। এই কাজ মমতাদিদি করতে পারতেন। করেননি। দুর্নীতি করেছেন। স্কুল, পুরনিয়োগে দুর্নীতি, গরু, ১০০ দিনের কাজ, পিএম আবাস নিয়ে দুর্নীতি করেছেন। কোটি কোটি টাকা তৃণমূল কর্মীরা খেয়েছেন। ওই টাকা আপনাদের।’’
‘‘বেকার যুবকদের ৩০০০ হাজার টাকা দেওয়া হবে প্রতি মাসে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ ফ্রি করা হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি যাঁরা নিচ্ছেন, তাঁদের ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।’’
‘‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হবে। মাসের প্রথম দিনে ৩০০০ হাজার টাকা পাবেন দিদিরা। সন্তানসম্ভবাদের ৩১ হাজার টাকা, ছ’টি পুষ্টির কিট, সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হবে মহিলাদের।’’
‘‘মমতাদিদির সরকার ৭০০০ শিল্প ফেরত পাঠিয়েছে। কর্মসংস্থান নেই। একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট এখানে হবে। বিষ্ণুপুরে।’’
‘‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি হবে। হিন্দু, মুসলিম, শিখ— সকলের জন্য এক হবে। কাউকে চারটি বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া যায় না। ’’
‘‘অনুপ্রবেশ বন্ধ করা উচিত তো? জোরে বলুন, যাতে মমতার কানে যায়। অনুপ্রবেশকারীদের দেশ, ভোটার তালিকা থেকে বার করতে হবে তো? এটা কি মমতাদিদি করতে পারবেন? এই অনুপ্রবেশকারীরা বিপদ। আমাদের যুবকের চাকরি নিচ্ছে। গরিবের অন্ন নিয়ে যাচ্ছে। বাংলা আর এক জন অনুপ্রবেশকারীকেও বরদাস্ত করবে না। ভারত ধর্মশালা নয়। আমাদের ভূমি। যারা কব্জা করেছে, তাদের আইনের মাধ্যমে জেলে পাঠাবে বিজেপি সরকার।’’
‘‘বিজেপির ৩০০ কার্যকর্তাকে নির্বাচনী হিংসায় খুন করেছে। তৃণমূল ভাবে ওদের কিছু হবে না। ওদের বলছি, যারা বিজেপি কর্মীদের বিরক্ত করেছেন, সরকার গঠন হলে তাঁদের হিসাব দেখব। ’’
‘‘একটা গুন্ডা বাংলার মানুষকে বিরক্ত করেছে। গুন্ডারা শুনুন, ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ঘরেই থাকবেন। নয়তো পরে রেহাই নেই। বাংলার মানুষ নির্ভয়ে ভোট দেবেন। এ বার মমতার গুন্ডারা যাতে ভোটে বাধা দিতে না পারে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।’’
‘‘আরজি করের ঘটনা গোটা দেশে বাংলাকে লজ্জিত করেছে। তৃণমূলের গুন্ডা মহিলাদের শোষণ করেছে সন্দেশখালিতে। অনুপ্রবেশকারী মহিলাদের শোষণ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চোখ বুজে বসেছিলেন। আজ বলে যাচ্ছি, এত ঘটনা হয়েছে, যাঁরা মমতার আশ্রয়ে এ সব করেছেন, তাঁদের জেলে পাঠাব।’’
‘‘মহিলাদের সুরক্ষা নেই। মমতাদিদি বলেন, ৭টার পরে মহিলাদের বাইরে যাওয়া উচিত নয়। অসমে দেখে আসুন, রাত ১টার সময়ে মহিলারা বিয়েবাড়ি যান স্কুটি চেপে। কারও কিছু হয় না। আপনারা কি তাঁর এই বক্তব্যে সহমত? বিজেপির সরকার গড়ে দিন, ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা দেব।’’
‘‘স্থির করেছি বালুচরি শাড়িতে, পাঁচমুড়ার কুম্ভকারের পণ্যে জিআই ট্যাগ আনব।’’
‘‘সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স নেই। রোগীদের থেকে গুন্ডারা ট্যাক্স নেয়। মোদীজি ৫ কেজি চাল দেয়। তার থেকে এক কেজি নিয়ে নেয় মমতা দিদির গুন্ডারা। আমরা এক গ্রাম চালও মমতার গুন্ডাদের হাতে যেতে দেব না।’’
‘‘মহিলাদের গরিমা রক্ষা করেননি এখানে মমতাদিদি। আপনার লজ্জা পাওয়া উচিত, আপনি মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, তবু এখানে মা-বোনেরা সুরক্ষিত নন। এ রকম চলবে না।’’
‘‘নিকুঞ্জপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৩০০ বিঘা জমি নদীর জলে ধুয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে কথা বলেন না মমতাদিদি। অবৈধ ভাবে বালি খননের জন্য এ রকম হচ্ছে। কেউ বলে না। হীরকরানি! কে হীরকরানি জানেন তো? তাঁকে টাটা করার সময় এসেছে।’’
‘‘এখান থেকে যুবকদের পালাতে হচ্ছে। কৃষকদের দাম মেলে না। মমতাদিদির অহঙ্কার, আলু ঝাড়খণ্ড, ওড়িশায় পাঠাবে না। তাই বাংলার আলুচাষিরা বিপাকে। কথা দিচ্ছি, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হলেই বাংলার আলু সারা ভারতে যাবে। আলুচাষিরা দাম পাবেন। আলুর বীজ পঞ্জাব থেকে থেকে আনতে হবে। বিষ্ণুপুরেই তৈরি হবে। এখানকার আলু সারা দেশে যাতে যায়, দেখব।’’
‘‘২৩ এপ্রিল এক বার কমল চিহ্নে ভোট দিন, বিজেপি সরকার গড়ুন, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, গোটা বাংলা থেকে মমতার সিন্ডিকেট শেষ করব।’’
‘‘সিমেন্ট নিতে হলেও সিন্ডিকেট। পাখা, বালি কিনতেও মাঝে আসে সিন্ডিকেট। বাংলার মানুষের রক্ত চুষতে সিন্ডিকেট রয়েছে। মমতা আর তাঁর ভাইপোর শাসন এটা। এক বার মমতার সরকার সরিয়ে বিজেপি-কে আনুন। সিন্ডিকেটকে উল্টো করে মারব।’’
‘‘ওন্দাকে প্রণাম। দুর্গামন্দির, শিবমন্দিরকে প্রণাম। পাঁচমুড়ার কুম্ভকার সমাজকে সম্মান করি। বিষ্ণুপুর ঘরানার সুমধুর গায়কি গুজরাতেও প্রসিদ্ধ। প্রণাম।’’
‘‘এই জায়গা গোটা দেশকে প্রেরণা দেয়।’’
বাঁকুড়ায় জোড়া জনসভা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। প্রথমে ওন্দা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অমরনাথ শাখার সমর্থনে রামসাগর ফিশারি ময়দানে এবং তার পরে ছাতনার বিজেপি প্রার্থী সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে ঝাঁটিপাহাড়ি লাগোয়া এথানি ফুটবল ময়দানে সভা করবেন শাহ।