প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।
‘‘আলুচাষিরা এখানে বঞ্চিত। যত দিন সিন্ডিকেট জারি থাকবে, শিল্পের বিস্তার হবে না। কমল ফুল ফোটান, এই সিন্ডিকেটের স্থায়ী অস্ত্রোপচার করে দেবে বিজেপি। সময়ে ভাতা দেবে, নিয়োগ করবে। মোদীর গ্যারান্টি।’’
‘‘আমাদের প্রার্থীদের জয়ী করুন। পিএম-সিএম একসাথে, উন্নয়ন হবে দিনে-রাতে।’’
‘‘এখানকার বালুচরী শাড়িও বাঁকুড়ার পরিচয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এক জেলা এক পণ্য প্রকল্পের লাভ মিলবে। তৃণমূল জনজাতিদের জন্যও কিছু করে না। বিরসা মুন্ডার নামে যোজনা করেছি আমরা। তৃণমূলের সিন্ডিকেট কাজ করতে দেয় না। ওড়িশায় জনজাতির জন্য ৩০ হাজার ঘর হয়েছে। বাংলায় হয়নি, কারণ এখানে জনজাতি-বিরোধী নির্মম সরকার রয়েছে— তৃণমূল সরকার।’’
‘‘বাঁকুড়া কলা, সুর, সঙ্গীতের ভূমি। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, যামিনী রায়ের মতো মহান সন্তান দেশকে দিয়েছে। এর শিরায় শিরায় শিল্প। টেরাকোটার সমৃদ্ধ কলা রয়েছে। মন্দির, মূর্তি, টেরাকোটা এখানকার পরিচয়। এই কারিগরদের জন্য পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা তৈরি করেছে। হস্তশিল্পীদের জন্য এই যোজনা। কেন্দ্র আধুনিক প্রশিক্ষণ, হাজার হাজার টাকার সাহায্য দিচ্ছে। সাড়ে সাত লক্ষ গরিব মানুষ বিশ্বকর্মা সাথী এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। দেড়শো কোটি টাকার বেশি সুবিধা ব্যাঙ্ক থেকে ইতিমধ্যে পেয়েছেন তাঁরা। বাংলা থেকে ৮ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছেন। কিন্তু তৃণমূলের নির্মম সরকার করতে দিচ্ছে না। নথিভুক্তকরণ হয়েছে এক জনের মাত্র। এই তৃণমূলের চেহারা! এটা টেরাকোটার অপমান। রামকিঙ্কর বেইজের উত্তরাধিকারের অপমান। আমরা ক্ষমতায় এলে বাংলায় পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের লাভ পাবেন শিল্পীরা। এটা মোদীর গ্যারান্টি।’’
‘‘বাংলার বাঘ কে? বাংলার জনতা হল বাঘ। এই জনতা ফুঁসছে, আর সহ্য করবে না। নির্মম সরকার হঠাতে তারা বদ্ধপরিকর। এখন বদল চাই।’’
‘‘সব সিন্ডিকেট, গুন্ডাকে শেষ বার বলছি, ২৯ এপ্রিলের আগে নিজের নিজের থানায় আত্মসমর্পণ করুন। ২৩ তারিখের আগে করুন। কারণ, ৪ মের পরে কেউ বাঁচবে না।’’
‘‘বিষ্ণুপুরের মাফিয়া, কয়লা পাচারকারী, সিন্ডিকেট কান খুলে শুনুন, এ সব চলবে না।’’
‘‘তৃণমূলের ভয়ের কাল চলে যাচ্ছে। বিজেপির ভরসার শাসন আসছে। সঙ্গীরা, ৪ মে যে ফল হবে, তার ঝলক তৃণমূলের বড় নেতাদের কথাবার্তায় স্পষ্ট। কলকাতার বড় নেতাদের গুন্ডামির ভাষা, কান্নাকাটি— সব শূন্য। এই হুমকির নেপথ্যে রয়েছে ভয়। যারা ভয় দেখাত, তারা এখন ভীত।’’
‘‘এখানে পানীয় জলের সমস্যা। তৃণমূলের সিন্ডিকেট আপনাদের নল, জল লুট করে। বিহারে এনডিএ সরকার সব ঘরে নলের জল পৌঁছে দিয়েছে। এখানে বিজেপির সরকার গড়ুন। তার পরে পিএম এবং সিএম মিলে বাংলার সব ঘরে জল পৌঁছোবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার ডবল বেনেফিট দেবে। নতুন ইতিহাস হবে।’’
‘‘বাংলার মেয়েরা বছরে ৩৬ হাজার টাকা পাবেন বিজেপি এলে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা ২১ হাজার টাকা পাবেন, সন্তান হলে ৫০০০ টাকা পাবেন। দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। মেয়েরা শিক্ষার জন্য ৫০ হাজার টাকা পাবে। লাখপতি দিদি যোজনায় জুড়ে নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে। যে মহিলারা চাষের কাজ করেন, তারাও সুবিধা পাবেন।’’
‘‘বিদ্যুতের বিল যাতে শূন্য হয়, তাই পিএম সূর্যগড় যোজনায় প্রতি পরিবারকে ৮০ হাজার টাকা দেবে। সস্তায় এলইডি বাল্ব দেবে বিজেপি সরকার। পাইপ দিয়ে সস্তায় গ্যাস দেওয়া হবে। প্রকল্পের শিলান্যাস আমি করেছি। এখানে সরকার হলে আরও দ্রুত কাজ করবে।’’
‘‘বোনদের সুরক্ষা, মা-বোনদের নিরাপত্তা বিজেপির প্রাথমিক লক্ষ্য। তৃণমূলের জন্য বাংলার মহিলারা বঞ্চিত। যা বিজেপি শাসিত রাজ্যে মেলে, তা এখানে তাঁরা পান না। অসম, ওড়িশা, গুজরাতে যা মহিলারা পান, এখানে তা পান না। এখানে বিজেপি সরকার হলে গরিব বোনেরা মুক্ত রেশন পাবেন। কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। বিজেপি সরকার পাকা ঘর তৈরি করতে পিএম আবাস যোজনায় দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য করবে। এখানে আয়ুষ্মান যোজনা করতে দেয় না। বিজেপির সরকার হলে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ দেবে।’’
‘‘কোনও মহিলার কিডনির অসুখ হলে সরকারি হাসপাতাল বিনা খরচে ডায়লিসিস হবে।’’
‘‘বাংলায় যখন রাষ্ট্রপতি এলেন, তৃণমূল কী রকম অপমান করেছে, গোটা দেশ দেখেছে। বাংলার বোন, জনজাতি মহিলারা রাষ্ট্রপতির অপমান ভুলবে না। এটা কি মেনে নেবেন? সাজা পাওয়া উচিত কি না!’’
‘‘বাংলার সব মেয়ে-বোনকে বলছি, তৃণমূলকে বড় সাজা দিতে হবে। ওরা জনজাতি মা-বোনদের ঘৃণা করে। বিজেপি দেশকে প্রথম জনজাতি রাষ্ট্রপতি দিয়েছে। কারণ, আমরা তাদের ক্ষমতায়ন চাই। কিন্তু তৃণমূল জনজাতি মেয়ের সামনে নিজের প্রার্থী দিয়েছিল। যেমন নেহেরুজি বাবা সাহেব অম্বেডকরকে হারাতে প্রার্থী দিয়েছিলেন। তেমন কংগ্রেস ও তৃণমূলও জনজাতি রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে হারাতে খেলা শুরু করেছিল। ওরা চায়নি, জনজাতির কেউ রাষ্ট্রপতি হোন। আজ গোটা দুনিয়া তাঁকে সম্মান করে।’’
‘‘তৃণমূল কুড়মিদের কথা শোনে না। অনুপ্রবেশকারীদের কথা শোনে। নিজের ভোটব্যাঙ্ক সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে নিশ্চিত করতে চায়। হাই কোর্ট বার বার বলছে, এ সব চলবে না। মহাজঙ্গলরাজ কোর্টের কথাও শোনে না। মহিলাদের সংরক্ষণের জন্য কোর্ট আইন করেছে। আর দেরি করা চলবে না। কিন্তু তৃণমূল তা চায় না।’’
‘‘সব আইন, কানুন ওরা ভাঙে। তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয়। সংবিধানের ভাবনার গলা টিপছে। তৃণমূলের সাজা পাওয়া উচিত তো? বোনদের অধিকার যারা লুটছে, তাদের সাজা হবে তো?
‘‘আপনারা দেখলেন, সংসদে কী হল? তৃণমূল বাংলার বোনদের আরও এক বার ধোঁকা দিয়েছে। ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ যাতে পান, মোদী সুনিশ্চিত করেন। ২০২৯ থেকে তা যাতে কার্যকর হয়, সেই চেষ্টাও মোদী করেন। তৃণমূল চায়নি যে বাংলার মহিলারা বেশি সংখ্যা বিধায়ক, সাংসদ হোক। কারণ, মহিলারা তাদের জঙ্গলরাজকে চ্যালেঞ্জ করছে। তাই কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে তৃণমূল ষড়যন্ত্র করেছে। ৩৭ শতাংশ সংরক্ষণ করতে (সংবিধান সংশোধন) করতে দিল না।’’
‘‘এটা মা সারদার পবিত্র ভূমি। এখানে এত বিপুল সংখ্যক মা-বোনেরা এসেছেন। বিজেপির পরিচয় হল মহিলা সশক্তিকরণ, মহিলা সুরক্ষায়। তাই দেশের সব রাজ্যে বোন-মেয়েরা বিজেপি-কে সবচেয়ে বেশি ভোট দেয়। আমরা চাই দীক্ষিত ভারত তৈরিতে মেয়েদের ভূমিকা উজ্জ্বল হোক। রাজনীতিতে আরও মহিলারা আসুক।’’
‘‘বাংলায় যেখানে যাচ্ছি, দেখছি সভার বহর বাড়ছে। আগের থেকে বেশি মানুষ আসছে। ২-৩ ঘণ্টা ধরে মানুষ বসে রয়েছেন। হেলিপ্যাডে বিপুল উৎসাহ দেখলাম। এটা আসলে এই নির্মম সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রকাশ। এর অর্থ, বাংলা মেনে নিয়েছে, পাল্টানো দরকার। চাই বিজেপি সরকার।’’
মোদী বাংলায় বলেন, ‘‘আপনাদের শুভ নববর্ষ জানাই।’’ তিনি বলেন, ‘‘পয়লা বৈশাখের পরে প্রথম সভা বাংলায়। সারা দেশবাসীর উপরে মা লক্ষ্মীর কৃপা বর্ষিত হোক। মন্দিরের শহরে এই সভা সৌভাগ্যের বিষয়।’’
মোদী বলেন, ‘‘কথা শুরুর আগে দেখছি, এখানে বহু মানুষ। যাঁরা ছবি এঁকে এনেছেন, আমার এসপিজি সংগ্রহ করে নেবে। আমি সভা শুরু করছি। আপনাদের ভালবাসা পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।’’
বিষ্ণুপুরে মঞ্চে মোদী। তাঁকে বরণ করছেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-সহ নেতা মন্ত্রীরা।
লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলাদের সংরক্ষণ চালুর উদ্দেশে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল শুক্রবার লোকসভায় পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। সে জন্য শুক্রবার রাতে ভাষণে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে কড়া ভাষা প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘ভ্রূণহত্যা’র অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র মতো দলগুলির বিরুদ্ধে। বিল পাশ করাতে না-পারার জন্য প্রধানমন্ত্রী ক্ষমাও চেয়ে নেন দেশের সমস্ত ‘মা-বোন-কন্যা’র কাছে।