যশ দাশগুপ্ত। ছবি: সংগৃহীত।
২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন যশ দাশগুপ্ত। চণ্ডীতলা থেকে নির্বাচনে দাঁড়ান। যদিও হেরে যান তিনি। তখন অবশ্য তাঁর স্ত্রী নুসরত জাহান তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের টিকিট পাননি নুসরত। বিগত কয়েক বছরে সিনেমার প্রিমিয়ার থেকে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব— কোথাও কোনও ডাক পেতেন না নুসরতের স্বামী যশ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় যেন টলিউড থেকে খানিকটা ব্রাত্য করে রেখেছিল তাঁকে। এ বার রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। ক্ষমতায় বিজেপি সরকার। সম্প্রতি বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কলকাতা বন্দর এলাকার বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের একটি অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে যশকে। সেখানে মঞ্চ থেকে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান যশ। এ বার কি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে দেখা যাবে তাঁকে? নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন যশ দাশগুপ্ত।
গত পাঁচ বছরে যেন নির্বাসিত তিনি। কাজ পাননি, নুসরত ও তিনি এক বাড়িতেই থাকেন। নিমন্ত্রণ এসেছে স্ত্রীর নামে। তবু ডাক পাননি যশ। অভিনেতা আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘‘আমি তো দিনের পর দিনে কোথাও ডাক পাইনি। পুজোর সময় ফিতে কাটার ডাক পর্যন্ত পাইনি। ছবি পাওয়ার ক্ষেত্রে চাপ হয়েছে। তবে আমি যেহেতু নায়কের চরিত্রে অভিনয় করতাম, তাই নিজেই নিজের ছবি প্রযোজনা করেছি। তাতেও সমস্যা কম ছিল না। প্রেক্ষাগৃহ পাওয়া যেত না, নন্দনে ছবি দেওয়া হত না। তৃণমূলের যাঁরা বন্ধু তাঁরাই কাজ পেতেন, তাঁরাই কামাতেন।’’
যশের কণ্ঠে এ বার স্বরূপ প্রসঙ্গ। অভিনেতা জানান, পুরনো তারকাদের যে ভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে, তাতে নতুনদের অবস্থা যে কী হয়েছিল সেই ভেবে আতঙ্কিত তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, নারদা-কাণ্ড নিয়ে ছবি বানাতে চেয়েছিলেন যশ, পাশে পেয়েছিলেন রুদ্রনীল ঘোষকে। কিন্তু এমন বিষয়বস্তু নিয়ে ছবি করতে পারবেন না বলেই অলিখিত ‘নির্দেশ’ পান অভিনেতা।
তবে সরকার বদলে হয়েছে বলেই কোমর বেঁধে রাজনীতির ময়দানে নেমে যাবেন তেমনটা নয়। যশের কথায়, ‘‘এখন হঠাৎ উঠেপড়ে রাজনীতি করতে শুরু করলে কেমন একটা সুবিধাবাদী মনে হবে। তবে আমি এখন আাশাবাদী যে, শান্তিপূর্ণ ভাবে কাজ করতে পারব। ইন্ডাস্ট্রির সকলে আসলে খুশি বাকিরা ডিম খাচ্ছে দেখে।’’ আর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানটাও ‘অরাজনৈতিক’ ছিল বলেই যশের দাবি। যদিও রাকেশ সিংহের নামে প্রায় ৫৬টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা পরবর্তীকালে কোনও সমস্যা হতে পারে কি? তা নিয়ে ভাবিত নন তিনি। যশের কথায়, ‘‘আমার কাছে ব্যক্তিগত সম্পর্কটা আগে। আমি ওঁর বড় দাদার মতো।’’
স্ত্রী তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ। তাঁদের পরিবারে কি কোনও রাজনৈতিক মতভেদ হয়? যদিও যশ তা অস্বীকার করে বলেন, ‘‘একটা পরিবারে সকলের মতাদর্শ এক হবে এমনটা নয়। তবে আমি নুসরত সকলেই খুশি। এ বার হয়তো মন খুলে কাজ করতে পারব। যে কোনও অভিনেতাকে নিয়ে কাজ করা যাবে, যে কোনও বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারব।’’