কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। —ফাইল চিত্র।
শাহ বলেন, “প্রত্যেক বার দিদির গুন্ডারা আপনাদের ভয় দেখান। এ বার ভয় পাবেন না। গুন্ডাদের সামনে রুখে দাঁড়ান। ওদের সময় শেষ হয়ে এসেছে। এ বার শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট করাবে নির্বাচন কমিশন। আমি তৃণমূলের গুন্ডাদের বলে যাচ্ছি, দিদির কথা শুনে রাস্তায় বেরিয়ে পড়বেন না। না হলে ৫ তারিখের পর জেলে ঢুকতে হবে। কেউ বাঁচাবে না।”
শাহ বলেন, “ওরা (তৃণমূল) লোকেদের ভুল বোঝাচ্ছে। বলছে, বহিরাগতরা এসে (রাজ্য) চালাবে। আমি আজ বলে যাচ্ছি, এ রাজ্যেরই থেকেই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। পশ্চিমবঙ্গে জন্মানো, বাংলাভাষী, বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করা বিজেপি নেতা হবেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।”
শাহ বলেন, “একজন নেতা বলতেন, শিলিগুড়ি থেকে চিকেন নেক বাদ দিয়ে দাও। তা হলে উত্তর-পূর্ব আলাদা হয়ে যাবে। কেন ভাই? আপনার বাবার দেশ নাকি! এই যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্যাং, এদেরও প্রশ্রয় দিচ্ছেন দিদি আর ভাইপো। আমি বলে যাচ্ছি দিদি, এটা ভারতের জমি। পশ্চিমবঙ্গের জনতা এই ভোটে আপনাকে হটাবে। পশ্চিমবঙ্গের যুবকদের কর্মসংস্থান দেওয়া, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নতি দিদির লক্ষ্য নয়। দিদির একমাত্র লক্ষ্য নিজের ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করা।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পুনর্ভবা নদীকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এটিকে সংস্কার করে পুনরায় আগের মতো করব।” বিজেপি সরকার গড়লে নদীবাঁধের সুরক্ষার জন্যও পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। শাহ বলেন, “আমরা কৃষকদের জমিকে ডুবতে দেব না।” তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গ দিয়ে সোনাপাচার, গরুপাচারের চেষ্টা করা হয়। বিজেপি তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে উত্তরবঙ্গকে সুরক্ষিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শাহ বলেন, “কাশ্মীর ভারতের অঙ্গ কি না? দিদি, কংগ্রেস সকলে মিলে ৭৫ বছর ধরে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদকে রেখে দিয়েছিলেন। নরেন্দ্র মোদীকে পশ্চিমবঙ্গবাসী ১৮টি আসন দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইয়ে দিয়েছেন। মোদীজিও ৩৭০ অনুচ্ছেদকে বিলোপ করে দিয়েছেন। কংগ্রেসের সময়ে সন্ত্রাসবাদীরা প্রতিদিন বোমা ফাটাত। কংগ্রেস ওদের বিরিয়ানি খাওয়াত। মোদীজির আমলে উরিতে হামলার পর আমরা সার্জিকাল স্ট্রাইক করেছি। পুলওয়ামায় হামলার পর আমরা এয়ারস্ট্রাইক করেছি। পহেলগাঁওয়ে হামলার পরে আমরা ‘অপারেশন সিঁদুর’ করে ওদের ঘরে ঢুকে সন্ত্রাসবাদীদের মেরেছি। আপনারা বলুন, কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, তৃণমূল কি দেশকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে? মোদী সরকার এ দেশ থেকে মাওবাদও নির্মূল করে দিয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে তাড়াব আমরা।”
শাহ বলেন, “দিদি হুমায়ুন কবীরকে নিজের সঙ্গে রেখে এখানে বাবরি মসজিদ বানাতে চাইছেন। দিদি কান খুলে শুনে নিন, বিজেপির সরকার আসছে। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আমরা বাবরি মসজিদ তৈরি হতে দেব না। এই হুমায়ুন কবীর দিদিরই এজেন্ট। দিদি, আপনার ইশারাতেই উনি বাবরি মসজিদ বানাচ্ছেন। কিন্তু দিদি, আপনার সময় শেষ হয়ে এসেছে। এখানে বিজেপির সরকার আসছে। এখানে বাবরি মসজিদ তৈরি হতে পারবে না।”
শাহ বলেন, “আপনারা বলুন, অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি করা উচিত ছিল কি ছিল না? ৫৫০ বছর ধরে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বিএসপি, ডিএমকে রামলালাকে তাঁবুতে রেখে দিয়েছিল। ব্রিটিশদের থেকে শুরু করে কংগ্রেস— সকলে রাম মন্দিরের বিরোধিতা করেছিল। ২০১৯ সালে আপনারা নরেন্দ্র মোদীকে জিতিয়েছেন। মোদীজি অযোধ্যায় রামমন্দির বানিয়ে দিয়েছেন।”
মহিলাদের উদ্দেশেও বার্তা দেন শাহ। বিজেপি সরকার গড়লে কী কী করবে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখানে এত দিদিরা এসেছেন। প্রত্যেক দিদির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পাঠাবে বিজেপির সরকার। প্রত্যেক প্রসূতি মহিলাকে ২১ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখবে বিজেপি। ৫ অগস্টের পর থেকে কোনও সরকারি বাসে আপনাদের টিকিট কাটতে হবে না।” যুবকদের এবং কৃষকদের জন্যও বিজেপির কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, সে কথাও গঙ্গারামপুরের সভামঞ্চ থেকে তুলে ধরেন শাহ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে না ভেঙেই আমরা গোর্খা সমস্যার সাংবিধানিক সমাধান করব। উত্তরবঙ্গকে চারটি বড় শহর গড়ে তুলব আমরা।”
শাহ বলেন, “আমরা উত্তরবঙ্গের জন্য দার্জিলিং থেকে সুন্দরবন একটি খুব বড় মহাসড়ক বানাব। গোটা উত্তরবঙ্গের বিকাশ করব। উত্তরবঙ্গে এমস তৈরি হবে। কল্যাণীর এমস দূরে আপনাদের জন্য। উত্তরবঙ্গের জন্য একটি পৃথক ৬০০ শয্যার ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করবে বিজেপি। উত্তরবঙ্গে আমাদের যুবকদের জন্য আইআইটি বানাবে বিজেপি সরকার। আপনাদের জন্য একটি আইআইএম-ও খোলা হবে উত্তরবঙ্গের কোনও একটি জেলায়। উত্তরবঙ্গে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করবে বিজেপি। আমরা রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করব। একটি আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে উত্তরবঙ্গের জন্য। দার্জিলিংকে একটি বড় ইকো অ্যাডভেঞ্চার হাবে পরিণত করা হবে।”
শাহ বলেন, “বালি, ইট, সিমেন্ট কিনতে গেলে সিন্ডিকেটকে ‘ট্যাক্স’ দিতে হয় কি হয় না? আপনারা চিন্তা করবেন না। পদ্মচিহ্নে বোতাম টিপুন। ৫ তারিখের পরে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের আমরা উল্টো করে টাঙিয়ে সোজা করব। পুরো রাজ্যে সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ হবে। দিদির দুর্নীতি শেষ হয়ে যাবে।”
শাহ বলেন, “বিএসএফকে কাঁটাতার লাগানোর জন্য ৬০০ একর জমি দিচ্ছেন না মমতাদিদি। আমরা স্থির করেছি, আমাদের সরকার আসার পর ৪৫ দিনের মধ্যে জমি দিয়ে দেবে বিজেপি।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি সংকল্প করেছে, ৫ মে বিজেপির সরকার গঠন হওয়ার পর পুরো পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবং দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে তাড়াবে। এই অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের দেশের সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক। আমাদের যুবকদের কর্মসংস্থান ছিনিয়ে নিচ্ছে। গরিবদের চালে ভাগ বসাচ্ছে।”
শাহ বলেন, “আজ বৈশাখী। পঞ্জাবে এবং দেশব্যাপী এটি খুব বড় একটি উৎসব। কাল ১৫ এপ্রিল। পয়লা বৈশাখের দিন। বাঙালি নববর্ষ শুরু হচ্ছে। বাংলা নববর্ষের দিন দিদিকে টাটা বাই বাই বলতে হবে। আপনারা সকলে দিদিতে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তৈরি তো?”
শাহ বলেন, “আজ অম্বেডকর জয়ন্তী। দেশব্যাপী দলিত, আদিবাসী, পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের জীবনে নতুন উদ্যম দিয়েছেন বাবাসাহেব বিআর অম্বেডকর।”
উত্তর দিনাজপুরের রোড শো শেষ করে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের সভামঞ্চে পৌঁছোলেন অমিত শাহ। মঞ্চে রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। রয়েছেন ত্রিপুরার বিজেপি নেত্রী প্রতিমা ভৌমিকও।
শাহের মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরে একটি রোড শো রয়েছে প্রথমে। তার পরে তিনটি জনসভা রয়েছেল তাঁর। প্রথমটি দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর, দ্বিতীয়টি মালদহের মানিকচক এবং তৃতীয়টি গাজোলে।