পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
হুমায়ুন কবীরের বিতর্ক প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘মমতাজির ক্ষমতা আপনারা জানেন না। উনি এমন অনেক ভিডিয়ো বানাতে পারেন। হুমায়ুন কবীর আর বিজেপি আদর্শগত ভাবে উত্তরমেরু ও দক্ষিণমেরু। এই ধরনের দলের সঙ্গে বোঝাপড়া করার চেয়ে বিরোধী আসনে বসা আমাদের কাছে শ্রেয়।’’
বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গ থেকেই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হবে। জানালেন অমিত শাহ।
শাহকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। বলেন, ‘‘আমরা যেখানেই ক্ষমতায় এসেছি, গরিবদের জন্য করা পূর্বতন সরকারের কোনও প্রকল্প বন্ধ করিনি। মাছ-ডিমও বন্ধ হবে না।’’
‘সংকল্পপত্র’ পাঠ সম্পন্ন করলেন শাহ। এ বার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন তিনি। জানালেন, ইস্তাহারের ভিত্তিতেই প্রশ্ন করতে হবে। আগে প্রকাশিত ‘চার্জশিট’-এর ভিত্তিতে নয়।
দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হবে। পর্যটন শিল্পে জোর দেওয়া হবে। কলকাতাকে সারা বিশ্বের সামনে ‘লিভিং সিটি’ হিসাবে প্রকাশ করা হবে। শাহ বলেন, ‘‘ভয়রহিত বাংলা গড়া আর ভরসাযুক্ত বাংলা গড়া— আমাদের সংকল্পপত্রের মূল ভাব এটাই। গত প্রায় পাঁচ দশক বাংলাকে শুধু নীচে নামানো হয়েছে। আমরা বাংলায় আবার সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ আনব। দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য বানাব। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অনুপ্রবেশ মুক্তি, শিল্পোন্নয়ন, কৃষকের উন্নয়নে জোর দেবে নতুন সরকার।’’
চৈতন্য মহাপ্রভু আধ্যাত্মিক সার্কিটের উন্নয়ন হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হবে। থিয়েটারের জন্য আধুনিক ইনস্টিটিউট তৈরি করা হবে। থিয়েটারের বার্ষিক অনুদান বাড়িয়ে এক লক্ষ করা হবে। কুড়মালি এবং রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে আনা হবে বলেও জানিয়েছেন শাহ।
প্রধানমন্ত্রী কিসান প্রকল্পের টাকা বাড়ানো হবে। কেন্দ্রের ৬০০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের ৩০০০ টাকা যোগ করে মোট ৯০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর যোজনাও যোগ করা হবে। প্রত্যেক গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। উত্তরবঙ্গে নতুন ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি হবে, যেখানে সব সুবিধা থাকবে।
উত্তরবঙ্গে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা হবে। কৃষকদের ধানের মূল্য নির্দিষ্ট করা হবে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যুবদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া, যাঁরা দুর্নীতির জন্য চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সে ছাড় দেওয়া হবে।
রাজ্যে চারটি নতুন উপনগরী তৈরি করা হবে। জায়গা বেছে করা হবে। আগামীর সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করাই লক্ষ্য। হলদিয়া বন্দরের বিকাশের জন্য আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।
মহিলাদের জন্য ১০০ শতাংশ বিনা শুল্ক পরিবহণ নিশ্চিত করবে বিজেপি সরকার। সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাত্রার বন্দোবস্ত করে দেওয়া হবে। সন্দেশখালির মতো ঘটনা আটকাতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে তদন্ত হবে। তাজপুর, কুলপিতে বিশেষ ‘ডিপ সি পোর্ট’ তৈরির পরিকল্পনা। চা এবং পাট শিল্পেও জোর দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গকে ‘ব্লু ইকোনমি’র প্রধান রফতানি ক্ষেত্র বানানো হবে বলে জানান শাহ।
রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। সব মণ্ডলে মহিলা থানা থাকবে। প্রতি পুলিশ জেলায় মহিলা ডেস্ক থাকবে। দিনরাত সেখানে কাজ হবে। শাহ বলেন, ‘‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে কখনও এমন কথা বলতে হবে না যে, মহিলারা কেন রাতে বাইরে বেরিয়েছেন।’’
ইস্তাহারে কলকাতার জন্য বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করলেন শাহ। ১০ বছর ধরে শহরের অগ্রগতির পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির।
সুনির্দিষ্ট ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যোগ্যদের মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে।
যে সব জমির কাজ আটকে আছে, ৪৫ দিনের মধ্যেই ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তা ছেড়ে দেবে। মাফিয়ারাজের মোকাবিলার ‘রোড ম্যাপ’ সরকারে এলে প্রথম ছ’দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
রাজ্যে বন্দেমাতরম মিউজ়িয়াম গঠন করার কথাও জানালেন অমিত শাহ।