মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
‘‘অপিরণত, স্বৈরাচারী, স্বেচ্ছাচারী। সারা পৃথিবীতে এমন শাসক, এমন রাজনৈতিক দল নেই। আমার শোনা কথা একটা বলি। এখানে ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি হলে বাইরের লোকেরা টাকা দিয়ে নিয়ে নেয়। লোকালরা পায় না। আমি কথা দিচ্ছি, আপনারা যদি বাপ্পা, প্রদীপদাকে জেতান, এই সিস্টেম আমি বন্ধ করে দেব। তার পর যদি কেউ করে, দেখে নেব তার কত বড় সাহস! তৃণমূল কংগ্রেসের তার ঠাঁই হবে না। সে যে-ই হোক, যত বড় কেউকেটা হোক। অনেককে বাদ দিয়েছি। পরেও করব। আমার কর্মীরা অন্যায় করলে তাদের গালে থাপ্পড় দিতে পারি। এই ভালবাসা, অধিকার আমার আছে।’’
‘‘মাথায় রেখো বিজেপি এবং তার তোতাপাখি, বাংলাকে নিয়ে খেলতে এসো না। বড্ড বাড়াবাড়ি করে ফেলেছো। অতি বাড় বেড়ো না, ঝড়ে পড়ে যাবে। বিজেপিকে বিশ্বাস করবেন না। ডেঞ্জারাস! ডেঞ্জারাস! ৪৪০ ভোল্ট!’’
‘‘যাকে নির্বল করে একপক্ষ করছো, তারা ধনখড়ের কথা মনে রেখো। উপমুখ্যমন্ত্রী পওয়ারকে খুন করে দিল। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। মানুষ ভাবে এক, হয় আর এক। এত পাপ তোমরা করেছো, রেহাই পাবে না।’’ তার পর মমতা বলেন, ‘‘আমাকে চুপচাপ থাকতে দিন, গান লিখে দেব, সুর করে দেব। কিন্তু আঘাত করলে প্রত্যাঘাত করতে জানি। বাংলাকে আঘাত করেছো এ বার দিল্লিকে টার্গেট করব। দেশটাকে আমি ভাল চিনি। সব রাজ্যগুলো চিনি। কোথায় কী খায় জানি। ধোকলাও খাব, মাছ-ভাতও খাব।’’
‘‘একটা চেয়ারে থেকে কেউ মিথ্যা বলে? আমি যে কথা বললাম, চাইলে ক্রস চেক করুন। আমি বাজে কথা বলি না। তথ্য দিয়ে বলি। বলছে, বিজেপি এসে সেভেন্থ পে কমিশন চালু করবে। আরে সেভেন্থ পে কমিশন হয়ে গিয়েছে। খবর তো নিন। গান আছে, শুনেছেন তো? ‘চোখে চোখে কথা বলো, মুখে কিছু বলো না।’ বিজেপি নেতারা কানে কানে যা বলেন তাই বলেন। কানে কানে কথা বলো, সত্যি বলো না। ভাঁওতাবাজ! মহিলাদের এঁরা সম্মান দেবেন! আর মুখ খুলছি না। বুঝে নিন। ইশরাই কাফি।’’
‘‘মহাশয়ের রাজ্যে উন্নাওয়ের বিচার হয়েছে? বিলকিস বিচার পেয়েছেন? বলছেন, সোনার বাংলা গড়বেন। বলছেন, সব শূন্যপদ পূরণ করবেন। আগে নিজেদের রাজ্যে চাকরি দিন। বছরে ২ কোটি চাকরি কোথায়?’’
‘‘রেজাল্ট দেখে বলবেন, দেখ কেমন লাগে! বাংলাকে দেখবে আপর লুচির মতো ফুলবে। ওরা কিচ্ছু দেবে না। সব কেড়ে নেবে। কিছু টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে সব টাকা কেড়ে নেবে।’’
‘‘কোথাও কংগ্রেসের সঙ্গে, কোথাও সিপিএমের সঙ্গে আন্ডারস্টান্ডিং করে ভোট করেছে। আর আমাদের এখানে পাঁচশোর বেশি অফিসারকে বদলি করে দিয়েছে! কেন? যাতে ড্রাগ ধরতে না পারে। বর্ডার দিয়ে টাকা ঢোকার সময় ধরতে না পারে সে জন্য। এক পক্ষ রাজনীতি করছে। এই ভাবে দেশ চলছে। আপনি আমাকে কী ধরবেন? ২ লক্ষ পুলিশ নিয়ে আসছে দিল্লি থেকে। কেউ ভয় পাবেন না। এজেন্টরা শক্ত থাকবেন। কেউ বিজেপিকে ভোট দেবেন না। আমি মানুষকে চিনি। প্রধানমন্ত্রীর মিটিংয়ে বাইরে থেকে ট্রেনে করে লোক আনে। ৫০০ টাকা দিয়ে। আমাকে বাইরে থেকে লোক আনতে হয় না। আমায় ভালবেসে মানুষ আসেন।’’
‘‘কেউ কেউ তো বেড়ে খেলছে। শুধু নিজেকে আর সংসার বাচাতে। দালালি করতে গিয়ে চিফ সেক্রেটারি, হোম সেক্রেটারি বদলে দিয়েছে। আমি তো অ্যাক্টিং চিফ মিনিস্টার। আজ আমার কাছে খবর এল, সিএস ডিজিরা যাচ্ছে জেলায় জেলায়। তারা গিয়ে জেলা প্রশাসনের অন্যদের বলছে, তৃণমূলের যারা বুথ এজেন্ট হবে, তাদের গাঁজা কেসে গ্রেফতার করতে হবে। আমি বলি, নিজেরা গাঁজা খাও তো! লজ্জাও করে না? বলছে ভোটের দিন বিজেপির লোকেরা ইলেকশন কমিশনের লোক সেজে মনিটরিং সেলে বসে থাকবে। দালালগুলো! অত্যাচারীগুলো! যাদের নিজের চরিত্রের ঠিক নেই, তারা অন্যের চরিত্রের কথা বলে। এই করে ভোটে জিতবেন? তা হলে আমাকে জেলে পাঠিয়ে দিন না। জেলে বসে আমি আরও বেশি ভোটে জিতব। আর না হলে আমাকে গুলি করে মেরে দিন। আমার উপর এত রাগ কেন?’’
‘‘একটা একটা কেন্দ্রে এরা ২৪-২৫ হাজার করে নাম কেটেছে। বিজেপিকে মদত দিয়েছে সিপিএম এবং কংগ্রেস। এরা এসআইআরের সময় একটা কথা বলেনি।’’ তার আগে কমিশন এবং বিজেপিকে এক পঙ্ক্তিতে ফেলে আক্রমণ করে বলেন, ‘‘এটা নির্বাচন হচ্ছে না নির্বাচনের নামে প্রহসন? তার পরেও আমাকে দৌড়তে হচ্ছে ‘ভোট দাও-ভোট দাও’ বলে।’’
চার জায়গায় নির্বাচনী কর্মসূচি রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সিউড়ির পর কাঁকসায় সভা করবেন তিনি। সেখানে আউশগ্রামের প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহার এবং অলোককুমার মাঝির সমর্থনে প্রচার করবেন তৃণমূলনেত্রী। তার পর বাঁকুড়ার প্রার্থী অনুপ মণ্ডলের জন্য তামলিবাঁধ স্টেডিয়াম থেকে হিন্দু হাই স্কুল পর্যন্ত পদযাত্রা করেন। এর পর মুখ্যমন্ত্রী চলে যান দুর্গাপুরে। চতুরঙ্গ ময়দানে দুর্গাপুর পূর্ব এবং পশ্চিম বিধানসভার দুই প্রার্থী প্রদীপকুমার মজুমদার এবং কবি দত্তের সমর্থনে সভা করেন।