—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটের ময়দান ছাড়েন একা হয়ে যাওয়া তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে জাহাঙ্গির ঘোষণা করেন, ‘‘আমি এই ভোটে লড়ছি না।’’
যদিও এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার করেননি ‘পুষ্পা’। তৃণমূলের তরফে এক্সে পোস্ট করে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গিরের ব্যক্তিগত, দলের নয়।
ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু যখন ‘রোড শো’ করছেন ফলতায়, তখন প্রচারে না বেরিয়ে বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেকের পছন্দের জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভাল থাকুক। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’’ গলা ধরে আসে সাদা শার্ট-কালো ট্রাউজ়ার্স পরিহিত ‘পুষ্পা’র। তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’
গত ২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের শেষ দফা বিধানসভা ভোট। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু বুথে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইভিএমে আতর, কালি, টেপ লাগানোর মতো অভিযোগ পায় কমিশন। পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ফলতার খবর পেয়ে তাঁর মনে হয়েছে কমিশনের উচিত ওই কেন্দ্রে আবার ভোট করানো। ঘটনাক্রমে কমিশন পুনর্নির্বাচনেরই সিদ্ধান্ত নেয়। তার পর ৪ মে বাকি ২৯৩ আসনের ফলঘোষণা হয়ে যায়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে প্রথম বার ক্ষমতা দখল করে বিজেপি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে নতুন করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আজ ২৮৫ ভোটকেন্দ্রে আবার ভোটগ্রহণ হবে। আর ভোটগণনা হবে আগামী ২৪ মে।