মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।
‘‘তোমাদের মতো আমরা দাঙ্গা করি না, খুন করি না, রক্তের রাজনীতি করি না। রক্ত তোমাদের নেশা, আর ভালবাসা আমাদের পেশা।’’
‘‘বলছে বেকারদের দেবে ৩০০০ টাকা ভাতা! আজ পর্যন্ত কাউকে এক পয়সা দেয়নি। ইলেকশন এলে কালোটাকার ভান্ডার নিয়ে আসে। আমি শুনেছি এগরা থেকে শুরু করে, পটাশপুর থেকে শুরু করে ২০ জন করে বেছে নিয়ে টাকা দিচ্ছে। মোটা টাকার গল্প। যদি ভোট দিলেন তো গেলেন। আপনার অধিকার কেড়ে নেবে। শুনেছি ১৫ তারিখ ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আসছে। আমাদের সরকার থাকলে কাউকে তাড়াব না, সবাইকে আশ্রয় দিয়ে যত্ন করে রক্ষা করব!’’
‘‘পুলিশ যদি আপনাদের উপর অত্যাচার করে, তা হলে কমপ্লেন করবেন। এখানে তো দেখে দেখে লোক নিয়ে আসা হয়েছে, যারা কাউন্টিংয়ের সময় লোডশেডিং করে দেবে। ইভিএম খারাপ করে দেবে। স্লো কাউন্টিং করবে। স্লো ইলেকশন করবে। সকালে থেকে দেখাবে বিজেপি জিতছে। জিতবে না। এটা ওদের পরিকল্পনা। কেউ বিশ্বাস করবেন না।’’
‘‘হিংসা তো তোমরা করো, আমরা তো করি না, এর প্রমাণ তো অনেক আছে! তোমাকে যদি শান্তি রক্ষা করতে হত, তুমি বাংলার পুলিশকে বিশ্বাস করতে। তা না করে বাংলার পুলিশের সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে আসছ কেন? সেন্ট্রাল ফোর্স দু’লক্ষ এসেছে, দাঙ্গার সময় পাওয়া যায় না। যুদ্ধের সময় পাওয়া যায় না, বন্যার সময় পাওয়া যায় না। সন্ত্রাসের সময় পাওয়া যায় না। যারা ৩৬৫ দিন আপনাদের রক্ষা করেছে, তাদের মুখে তালা-চাবি দিয়ে দিয়েছে। ইনডিরেক্টলি এটার মানে দাঁড়ায়, বিজেপির কথা না শুনলে তৃণমূলের সবাইকে অ্যারেস্ট করো। ইনস্ট্রাকশন গিয়েছে। আমরাও দেখতে চাই কাকে কাকে অ্যারেস্ট করছ, করো। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, বাংলা আবার তৃণমূল দখল করবে।’’
‘‘চোখে-মুখে সারাক্ষণ হিংসা-দাঙ্গা-সন্ত্রাস। বাংলা দখল করতে পারবে না, তাই ভোট কাটতে শুরু করে দিল। নতুন করে প্রমাণ দিতে হল আপনারা এদেশের নাগরিক কি না। আমি একটাই কথা বলি, ক্ষমতা থাকলে উত্তর দাও। ২০২৪-এর লিস্টে যদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারে বিজেপির, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারে, তা হলে ওই ভোটার লিস্টে কেন ৯০ লক্ষ লোকের নাম বাদ গেল? তা হলে প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়া উচিত প্রথমে।’’
‘‘বার্নল রেখে দিন, এত গরম, পুড়ে যাবেন, কথাটার অর্থ কী? ভাষাটার অর্থ কী? তার মানে বিজেপিকে সাপোর্ট না করলে অফিসারদের পুড়িয়ে দেবেন। কাল রায়গঞ্জে এক বয়স্ক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল পোস্টাল ব্যালটের ভোটটা বিজেপিকে দিতে হবে। কেন দেবে? আমাদের কি বন্ডেড লেবার পেয়েছে নাকি?’’
‘‘এরা বলে কানে কানে কথা বলো, মিথ্যা ছাড়া কিছু বোলো না। এরা বলে, ‘সকালে উঠিয়া আমি মিথ্যা কথা বলি, সারাদিন মানুষকে ভাঁওতা দিয়ে চলি’। এরা হল বড় বর্গি। ভয় দেখাচ্ছে, সার্কুলার আমার হাতে আছে। গরমে পুড়ে যাবেন। মানে ভোটের দিন। আরে ভোটের জন্য লোকে লাইন দেবে? মেশিন খারাপ হলে তো লোককে অপেক্ষা করতেই হবে। ওটাকে বুথ জ্যাম বলে না। ওটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বলে।’’
‘‘মেদিনীপুরের লোকেরা যখন ওড়িশায় যায়, অত্যাচার করেন। বাংলার লোকেরা যখন রাজস্থানে যায়, খুন করা হয়। দিল্লিতে যখন যায়, ঘর জ্বালিয়ে দেয়। কী অ্যাকশন নিয়েছেন? আপনার বিজেপি রাজ্যে বাংলার লোকেদের মারবে, আর বাংলায় এসে বলবে ভোট দাও!’’
‘‘রেলে চাকরি হচ্ছে না, ডিফেন্সেও না। রেলের বাজেট বন্ধ করে দিয়েছে। এলআইসি বেচে দিয়েছে। দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে। বলেছিল, বছরে ২ কোটি চাকরি দেবে, দিয়েছে একটাও? বাংলায় ৪০ শতাংশ বেকার আমরা কমিয়েছি। দিল্লিতে ৪০ পারসেন্ট বেকার বাড়িয়েছে।’’
‘‘মাত্র ন’মাসের মধ্যে ন’টা ব্রিজ করে দিয়েছিলাম। যখন কৃষক আন্দোলন চলছিল, সেই সময় কোলাঘাটে আটকে দেওয়া হল, সিপিএমের রাজত্ব ছিল এবং যিনি এখন বিজেপির বড় নেতা হয়েছেন, তাঁরও হাত ছিল। জগাই, মাধাই গদাই সব একসঙ্গে আন্ডারস্ট্যাডিং ছিল।’’
‘‘মাতঙ্গিনী হাজরা মহিলা কলেজ করে দিয়েছি। পুলিশেরও আলাদা ভবন আছে। এখানে মেডিক্যাল কলেজ করে দিয়েছি। মাতঙ্গিনী হাজরার নামে কালচারাল কমপ্লেক্সও করে দেওয়া হয়েছে। পিছাবনীতে একটি গ্যালারি তৈরি করে দিয়েছি। তমলুকের মাটি স্বাধীনতার মাটি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাড়ি সংস্কার করা হয়েছে। সকলেই কিন্তু এই জেলার। তাই এই জেলায় জগন্নাথ ধাম তৈরি করে আমি নিজেকে ধন্য মনে করেছি। কারণ, এটা আপনাদের ঐতিহাসিক পুণ্যতীর্থ।’’