মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
ভোটের দিন তাঁর ‘আদিবাসী ভাইবোনেরা’ বুথে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়তে পারেন বলে শনিবার ঝাড়গ্রামের সভার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘আপনাদের ধামসা, মাদল আছে, ভয় কী! ধামসা বাজাতে বাজাতে, মাদল বাজাতে বাজাতে, ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে করতে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। আপনাদের তিরন্দাজেরা খুব শক্তিশালী।’’
বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে মাছ-মাংস খেতে দেওয়া হত না বলে শনিবার ঝাড়গ্রামের সভায় অভিযোগ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমরা তো বলি না, ছাতু খাবে না। কে কী খাবেন, কে কী পরবেন, তার উপর হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই। বাংলায় তা হতেও দেব না।’’
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। তা কার্যকর হলে আদিবাসীদের নিজস্ব আচার এবং প্রথা বিপন্ন হয়ে পড়বে বলে শনিবার অভিযোগ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ঝাড়গ্রামের সভায় জনতার উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু করতে চাইছে। তা হয়ে গেলে আপনাদের ধর্মের অস্তিত্ব থাকবে না। আপনাদের বিয়ে হয় যে প্রথা মেনে, তা থাকবে না।’’
ঝাড়গ্রামের জামদা ময়দানের সভায় আদিবাসীদের ধর্ম সংক্রান্ত প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিশ্রুতি, বিধানসভা ভোটে জিতে তৃণমূল ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করলে আদিবাসীদের সারি-সরনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম না করে ‘বিরসা মুন্ডার মূর্তিতে মালা বিতর্কে’র পুরনো প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির পরে শনিবার ঝাড়গ্রামের জামদা সার্কাস ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করতে গেলেন। সেখানে তিনি মাওবাদীদের নাম না করে জানালেন, ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, জঙ্গলমহলে যে সব ছেলেমেয়ে আত্মসমর্পণ করবেন, তাঁদের হোমগার্ডের চাকরির ব্যবস্থা করবেন। শনিবার মমতার সভায় হাজির ছিলেন একদা জঙ্গলমহলের আন্দোলনের নেতা ছত্রধর মাহাতো।
পর পর জনসভা থেকে বিজেপিকে তোপ দাগছেন মমতা। শুক্রবার এক জনসভা থেকে বলেছিলেন, বিজেপি দু’মুখো সাপ, নির্বাচনের সময় একটা ছোবল দেয়, আর নির্বাচনের পর আর একটা ছোবল দেয়। যদি ছোবল খেতে না হয়, তৃণমূলকে ভোট দিন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার জনসভা থেকে বলেছিলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারী যদি ঢোকে, তা হলে অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব মনে করিয়ে তাঁর দাবি, ‘‘আমরা অনুপ্রবেশকারী ঢোকাইনি। কারণ, আমাদের ঢোকানোর ক্ষমতা নেই। সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।’’
নির্বাচনী প্রচারে জোরদার কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর শনিবার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সভা রয়েছে। তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি, ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ও ঝাড়গ্রাম শহর, পাশাপাশি বড়জোড়ায় জনসভা। এই ধারাবাহিক সভার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটারদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দেবেন এবং উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরবেন।