প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।
সভাশেষে মোদী বলেন, “২৩ তারিখ প্রথম দফার ভোটের জন্য আর অল্প সময় বাকি আছে। আপনাদের সকলকে মনে রাখতে হবে— ভয় আউট, ভরসা ইন। বিজেপি-কে ভোট দিন।”
মোদী বলেন, “আমাদের প্রেরণা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে আবার শিক্ষা এবং কৌশলের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করবে। পশ্চিমবঙ্গে কয়েকশো আধুনিক পিএমশ্রী স্কুল খোলা হবে। আদিবাসী যুবকদের জন্য একলব্য মডেল স্কুল খোলা হবে।”
মোদী বলেন, “বিজেপির মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আয়ুষ্মান প্রকল্প চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে মহিলারা পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্য চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে জনঔষধি কেন্দ্রে ১০০ টাকার ওষুধ ২০ টাকায় পাওয়া যাবে। ৮০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ পাওয়া যাবে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ৭৫ লক্ষ মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ অভিযানে জুড়বে।”
মোদী বলেন, “তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজে মা-শিশুরা হাসপাতালেও সুরক্ষিত নয়। আমাকে লোকে বলে, এখানে মেডিকেল কলেজে ভেজাল স্যালাইন দেওয়ার ফলে এক মায়ের মৃত্যুও হয়েছে। বিজেপি সরকার গর্ভবতী মায়েদের ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা করবে।”
মোদী বলেন, “তৃণমূল মহিলাদের উপর নির্মমতার সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা আজকাল দিল্লি, মুম্বইয়ে থেকে এখানে ভোট দিতে আসছেন। যে কাজটা তাঁদের এখানে পাওয়ার কথা ছিল, সেই কাজের জন্যই তাঁদের বাড়ি, বাবা-মা, বন্ধুদের ছেড়ে যেতে হয়েছে। আপনাদের ভাগের কাজ তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের দিচ্ছে। তৃণমূলের এই ডাকাতি বিজেপি বন্ধ করবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এ বার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠন নিশ্চিত। শুধু তা-ই নয়, এমনও কিছু জেলা থাকবে যেখান থেকে তৃণমূল একজনও বিধায়ক পাবে না। পুরো জেলাই বিজেপি জিতবে।”
মোদী বলেন, “তৃণমূল মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করছে। কিন্তু নিজের ব্যাঙ্ক (ভোটব্যাঙ্ক)-কে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দিতে শুরু করেছে। ভোটব্যাঙ্কের জন্য ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়ার খেলা চলছে। ওবিসিদের সংরক্ষণ ছিনিয়ে মুসলিমদের সংরক্ষণ দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। এটা সংবিধানের হিসাবে, আদালতের হিসাবে ভুল। এর জন্য তৃণমূলের এ বার শাস্তি পেতেই হবে।”
মোদী বলেন, “তৃণমূলের মহিলাবিরোধী চেহারাও স্পষ্ট নজরে এসেছে। দেশের মহিলাদের সংসদে এবং বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার জন্য সংসদে আলোচনা হল। কিন্তু তৃণমূল মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার আইনকে পাশ হতে দেয়নি। মহিলাদের স্বপ্নের গলা টিপে দিয়েছে। তৃণমূল মনে করে এই আইন কার্যকর হয়ে গেলে, গ্রামগঞ্জ থেকে উঠে আসা মহিলারা বিধানসভায় গিয়ে তার অপকর্মের হিসাব চাইবে।”
মোদী বলেন, “তৃণমূল শুধু নিজের ভোটব্যাঙ্কের কথা ভাবে। অনুপ্রবেশকারীদের কথা ভাবে। বাকিদের নিয়ে ওদের কিছু যায় আসে না।”
মোদী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার জিরামজি আইন কার্যকর করবে। এর মাধ্যমে গ্রামে ১২৫ দিনের রোজগার নিশ্চিত হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি। মোদীর গ্যারান্টির অর্থ, গ্যারান্টি পূরণ হওয়ার গ্যারান্টি।”
কৃষকদের উদ্দেশে মোদী বলেন, “আপানারা এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিন। তার পরে প্রধানমন্ত্রী আর মুখ্যমন্ত্রী মিলে প্রত্যেক কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘কিষান সম্মান নিধির’ সরাসরি ৯ হাজার টাকা পাঠানো হবে। কৃষকমাণ্ডিগুলি থেকেও তৃণমূলের দালালদের তাড়ানো হবে। যাতে কৃষকেরা ফসলের সঠিক দাম পেতে পারেন।”
রাজ্যের সরকারী কর্মীদের উদ্দেশে মোদী বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের সকল কর্মচারীদের বলছি, আপনারা আমাদের হাত-পা, আমাদের চোখ-কান। আপনাদের শক্তি আমরা জানি। আপনাদের ভয় দেখিয়ে রাখা হয়েছে। বিজেপি সরকার এলে আপনাদের কোনও ভয় থাকবে না। আপনারা সপ্তম পে কমিশনের সুবিধাও পাবেন।”
মোদী বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের যুবকদের আশ্বাস দিচ্ছি, বিজেপি সরকার ভাতাও দেবে, রোজগার মেলার মাধ্যমে নিয়োগপত্রও দেবে। কিন্তু যাঁরা হাজার হাজার যুবকের সঙ্গে অন্যায় করেছে, তাঁদের বিজেপি ছাড়বে না। বেছে বেছে হিসাব নেওয়া হবে।”
মোদী বলেন, “আমি আপনাদের ভরসা দিচ্ছি, বিজেপির সরকার ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ করবে। কিন্তু লুঠেরাদের কাছ থেকে পুরো হিসাব নেবে। বেছে বেছে হিসাব নেবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৫ বছরে তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজে দাঙ্গা এবং রাজনৈতিক খুনের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের সাহস বেড়ে গিয়েছে। মা-বোনেদের উপর অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের হাত থেকে মা-ও বাঁচেনি, মাটিও বাঁচেনি। মানুষ তো ত্রাহি ত্রাহি করছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৫ বছরে ওরা লুঠ করার উপর পিএইচডি করে ফেলেছে। এই মেদিনীপুরেই বালিপাচারকারী কোটি টাকার মালিক হয়ে গিয়েছে।”
মোদী বলেন, “তৃণমূলের নির্মমতার ১৫ বছর হয়ে গিয়েছে। এই ১৫ বছরে নতুন নতুন শহর হয়ে গিয়েছে। দেশে ২৪টিরও বেশি শহরে মেট্রো পৌঁছে গিয়েছে। ১৫ বছরে তৃণমূলের নির্মম সরকার কী বদলেছে? ১৫ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের যে শিশু প্রথম শ্রেণিতে পড়ত, আজ সে অন্য রাজ্যে পালাতে চাইছে।”
‘জয় জগন্নাথ, জয় মা দুর্গা’ বলে বক্তৃতা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পৌঁছোলেন বেলদার সভামঞ্চে। ‘মোদী মোদী’ ধ্বনিতে তাঁকে স্বাগত জানান বিজেপির নেতা-কর্মীরা।
নারায়ণগড়ের বেলদায় প্রধানমন্ত্রীর সভামঞ্চে রয়েছেন খড়্গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুরুর আগে সভামঞ্চে বক্তৃতা করেন তিনি। দিলীপ জানান, প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খাচ্ছেন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। ঝালমুড়ি খেয়ে তার পরে বক্তৃতা করতে আসবেন বেলদায়।