কাটোয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
কাটোয়ার সভামঞ্চে ওঠার আগে মোদীর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়। হেলিপ্যাড থেকে চড়া রোদে দাঁড়িয়ে তিনি ভিডিয়োবার্তা দিয়েছেন। এত গরমের মধ্যেও এত মানুষ তাঁকে দেখতে ভিড় করেছেন বলে তিনি আপ্লুত, জানান মোদী। বলেন, ‘‘আমার পিছনে দেখতে পাচ্ছেন বাংলার জনসমাগম। এখন সবে ১১টা-সাড়ে ১১টা বাজে। এটা আজকের আমার প্রথম সভা। শুধু হেলিপ্যাডেই হাজার হাজার মানুষ। এ এক অদ্ভুত দৃশ্য।’’
কাটোয়ার সভা শেষ করলেন মোদী। এর পর মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডিতে তাঁর জনসভা রয়েছে।
মোদী বলেন, ‘‘মতুয়া, নমঃশূদ্র, সব শরণার্থী পরিবার তৃণমূলের দয়ায় নেই। দেশের সংবিধান আপনাদের সুরক্ষিত করেছে। সিএএ করেছি, যাতে মতুয়া-সহ শরণার্থীরা সুরক্ষা পান। সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ আরও দ্রুত করা হবে।’’ অনুপ্রবেশকারীদের যাঁরা সাহায্য করেছেন, কাগজ করে দিয়েছেন, তাঁদেরও হিসাব নেওয়া হবে বলে জানান মোদী
মোদী বলেন, ‘‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনাতেও বাধা দিয়েছে তৃণমূল। ৪ মে-র পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্প চালু করা হবে, আমার গ্যারান্টি রইল।’’
মোদী বলেন, ‘‘পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের অধীনে শিল্পীদের কেন্দ্রীয় সরকার প্রশিক্ষণ দেয়। অসমে এক লক্ষ মানুষ এই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। বিহারেও পেয়েছেন। প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্যও পেয়েছেন। তৃণমূল এই প্রকল্প এখানে আনতে দেয়নি। অনেক বড় ক্ষতি করে দিয়েছে আপনাদের। আয়ুষ্মান ভারত যোজনাতেও বাধা দিয়েছে।’’
ইস্তাহার উল্লেখ করে মোদী আরও বলেন, ‘‘বিজেপি এলে যুবসমাজ লক্ষ লক্ষ চাকরি পাবে। বেকারদের ভাতাও দেওয়া হবে। দুর্নীতির জন্য যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। রোজগার মেলার আয়োজন করা হবে এখানেও। সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাবেন কর্মচারীরা। রাজ্যের সব শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে।’’
ইস্তাহারে মহিলাদের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা, বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াতের ঘোষণা করেছে বিজেপি। সেগুলি উল্লেখ করেন মোদীও। জানান, বিজেপির আমলে এ রাজ্যের মহিলারা নিরাপদে, নির্ভয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।
মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়েছে। একের পর এক মিথ্যা বলছে। বলছে, আমরা ক্ষমতায় এলে নাকি সব প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। আসলে তা নয়। আসলে বিজেপি ওদের দুর্নীতির দোকান বন্ধ করবে। লুট বন্ধ করবে।’’
বর্ধমান থেকে মোদী বলেন, ‘‘এখানকার সীতাভোগ আর মিহিদানার সুগন্ধ সারা দুনিয়ায় জনপ্রিয়। তৃণমূলের সরকার আলুচাষিদের বরবাদ করে দিয়েছে। আলু পচছে।’’ এর পর তিনি বাংলায় বলেন, ‘‘এটা চলবে না। বাংলা চুপ থাকবে না।’’ বিজেপি কৃষকদের জন্য ইস্তাহারে অনেক ঘোষণা করেছে বলে জানান মোদী। ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর সুবিধা পাবেন কৃষকেরা।
মোদী বলেন, ‘‘আপনাদের ছ’টি গ্যারান্টি দিয়েছিলাম। সেগুলি পূরণের সময় এসেছে। তৃণমূলের নির্মম সরকারের ভয়ের রাজকে সরিয়ে ভরসায় বদলে দেবে আমার গ্যারান্টি। দুর্নীতি নিয়ে বিজেপি শ্বেতপত্র জারি করবে। যাতে তৃণমূলের সব সিন্ডিকেট, সব দুর্নীতিগ্রস্তের হিসাব করা যায়। ১৫ বছরের হিসাব হবে। সব কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।’’
মোদী বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন, তিন রাজ্যে কোনও হিংসা ছাড়াই এত মানুষ ভোট দিয়েছেন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সফল হয়েছে। কয়েক মাস আগে আমরা বিহার, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানায় দেখেছি, যেখানেই অনেক ভোট পড়েছে, বেশি করে মহিলারা ভোট দিয়েছেন, সেখানেই বিজেপি এবং এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। কেরলে এলডিএফ আর ইউডিএফ জেতার কথা নিজেরাও বলছে না। বাংলাতেও বিজেপি জয়ের দিকে এগোচ্ছে। আপনাদের জোশই আমাদের জয় পাকা করে দিচ্ছে।’’
গুজরাতেও সকাল ১১-১২টায় এমন সভা আমি করতে পারি না। চাইলেও করা যায় না। আপনারা এখানে আশ্চর্য জমায়েত করেন প্রতি বার। আমি অভিভূত! এ রাজ্যে যে ৪ মে-র পর পরিবর্তন আসছে, তা এই সভা থেকেই নিশ্চিত।
কাটোয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য কয়েক জন শিশু ছবি নিয়ে এসেছিল। তাদের ছবি জমা দিয়ে দিতে বলেন মোদী। জানান, পিছনে নাম ও ঠিকানা লেখা থাকলে তিনি ধন্যবাদবার্তা পাঠাবেন।
মোদীর সামনে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন শমীক। জানান, বর্ধমানকে ধান উৎপাদনে এক থেকে তিনে নামিয়ে এনেছে শাসকদল।
পূর্ব বর্ধমানের জেলা নেতৃত্ব কাটোয়ার মঞ্চে স্বাগত জানিয়েছেন মোদীকে। উত্তরীয় পরিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।