—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১ এপ্রিল।
বিচারপতি বাগচী: বুঝতে পারছেন, আমরা কতটা চাপ দিয়েছি বিচারপতিদের? তাঁরা রাতদিন কাজ করছেন। এটা দোষারোপের সময় নয়। কমিশনকে বলব, যাতে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করা যায়, সে জন্য হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর দলকে সাহায্য করতে। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে আমরা নিশ্চিত করব, গণতান্ত্রিক অধিকার যেন সুনিশ্চিত করা যায়। ভোটারদের অধিকার যেন সুরক্ষিত থাকে। ওয়েস্ট বেঙ্গল জুডিসিয়াল সার্ভিসের সাহায্য নেওয়া যাবে।
আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী: নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত নাম যোগ করা যায়। তার পর ফ্রিজ় করে দেওয়া হয়। তবে ফ্রিজ় করার তারিখ বাড়ানোর আবেদন করব। যার প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে।
প্রধান বিচারপতি বলেছেন, অন্য রাজ্যগুলিতে সমস্যা রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে হয়তো বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে। তখন আইনজীবী কল্যাণ সওয়াল করেন, অন্য কোথাও লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি নেই। এটা কেবল পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে। অনেক দিন আগে এসআইআরের কাজ করা উচিত ছিল। দু’বছরের কাজ দু’-তিম মাসে শেষ করার চেষ্টা করেছে কমিশন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘এসআইআরে কেবল নাম বাদ গিয়েছে, তা নয়। কোথাও ভোটার সংখ্যা বেড়েওছে।’’ তখন কল্যাণ বলেন, ‘‘এটা স্বাভাবিক। ২০০২ সালের পর ২০ শতাংশ জনসংখ্যা বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে ভোটার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।’’
নির্বাচন কমিশন: আমরা প্রতি দিন অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতে প্রস্তুত। এই প্রস্তাব আমরা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে দিয়েছি। প্রধান বিচারপতি: পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর অন্য কোথাও এই ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের থেকে অন্য রাজ্যে নাম মুছে দেওয়ার সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।
রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের কথা জানানো হলেও সব তালিকা এখনও পর্যন্ত ডাউনলোড করা যাচ্ছে না। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: কিছু সমস্যা হতে পারে। পূর্ণ তালিকা প্রকাশ হবে। আমরা তা নিশ্চিত করব।
প্রধান বিচারপতি: রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান বিচারপতি বা বিচারকদের কাছে গিয়ে বলুন, যাঁরা (বিধানসভা নির্বাচনে) প্রার্থী, তাঁদের তথ্য দ্রুত নিষ্পত্তি করতে। প্রশাসনিক দিক থেকে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের কাছে নিয়মিত চিঠি পাঠাচ্ছেন।
৬ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের মনোনয়নের শেষ দিন। ওই দিনের মধ্যে সব কাজ শেষ করা খুবই কঠিন। সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী।
মমতার আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান: সোমবার ২৬ লক্ষের কাছাকাছি নিষ্পত্তির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষে এসআইআর মামলায় সওয়াল করবেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে সওয়াল করবেন আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের হয়ে শীর্ষ আদালতে উপস্থিত হয়েছেন আইনজীবী ডিএস নাইডু।
সোমবার বেশি রাতে কেন এসআইআরের তালিকা প্রকাশ হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘‘তালিকা বার করতে এত ভয় কেন? তা হলে কি তালিকায় স্বচ্ছতা নেই? কেন মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ করা হল? বিচারকেরা তো ছ’দিন আগে কাজ শেষ করে দিয়েছিলেন। তার পরেও দেরি কেন? এক তরফা কোনও পার্টির নাম ঢুকিয়েছেন?’’
আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানালেন, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলায় কিছু নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মামলাটির শুনানি করা হোক। প্রধান বিচারপতি জানান, এখন একটি মিটিংয়ে তিনি যাবেন। দুপুর আড়াইটে নাগাদ ফিরে শুনানি হবে।
একই দিনে রাজ্যের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। একটি এসআইআর অন্যটি, আইপ্যাক মামলা। প্রথম মামলার শুনানি রয়েছে দুপুর ১২টা নাগাদ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মাফিক, বিবেচনাধীন ভোটারদের তালিকা বিচারকদের দিয়ে নিষ্পত্তি করানো হচ্ছে। সোমবার গভীর রাতে তালিকা প্রকাশ হয় বলে জানায় কমিশন।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত তালিকা বার করেছিল কমিশন। তাতে প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি মানুষকে বিবেচনাধীন আওতায় রাখা হয়। তথ্যগত অসঙ্গতিতে আটকে যাওয়া ওই ৬০ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার দিতে হবে, দাবি জানিয়ে ধর্না কর্মসূচি করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে বিচারকেরা ওই বিবেচনাধীনদের নথি ধরে তথ্য যাচাই করবেন। এ-ও নির্দেশ ছিল, ওই কাজ এগোনোর সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বা অতিরিক্ত তালিকা দিতে হবে।
সোমবার রাতে প্রায় ২৯ লক্ষ মানুষের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানায় কমিশন। তবে এখনও পুরো তালিকা দেখা যাচ্ছে না। প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় কত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সেখান থেকে কত জন ভোটার যোগ হয়েছেন— তা-ও জানায়নি কমিশন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে প্রাথমিক ভাবে বলা হয়েছিল, নিষ্পত্তির থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। রাতে তালিকা বার হওয়ার পরে এ বার সেই সংখ্যা কত হল, স্পষ্ট করেনি কমিশন। তার আগে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, ২৯ লক্ষ তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে। কত নাম প্রকাশ হবে, তা বিচারকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হওয়ার আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ নাম। সেই তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে ভোটার বাদের হিসাব দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনে।