তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
মমতা বলেন, “আমি কথা দিচ্ছি, এই সরকার দিল্লিতে চেঞ্জ হলে কাস্টমস, ইডি, আয়কর দফতর, সিবিআই অভিযান (নিয়ে) আমরা পলিসি করব। আমি যদি সে দিন ওদের সঙ্গে থাকি, আমি না থাকলে তো হবে না। আমরা সবাই মিলেই করব। কারণ আমি জানি ব্যবসায়ীদের খুব হ্যারাস হতে হয়।”
কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “আপনি বলেছিলেন, সব কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনবেন। সেটাও করেননি। ছোট ছোট শিল্পপতিদের বাড়িতে ইডি, সিবিআই, আয়কর দফতর পাঠিয়ে দেন। তাদের ডিস্টার্ব করেন। বণিকমহলকে, ব্যবসায়ীদের, হকারদের ডিস্টার্ব করেন।”
মমতা বলেন, “আমরা লোকাল লোকেদের নিয়ে মিটিং করি। কারণ, স্থানীয় মানুষদের আমি বেশি গুরুত্ব দিই। তারাই আমাদের অ্যাসেট। তারাই বাজাবে ক্যাসেট।”
বিজেপি প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “৯৩ শতাংশ ভোট দেখে বলছে, এখন খুব কড়া হতে হবে। আরও বেশি করে অত্যাচার করতে হবে। যাতে মানুষ ভোট দিতে পারে। সকলে নিজে ভোট দেবেন। নিজের অধিকার রক্ষা করার জন্য ভোট দেবেন। এটা এসআইআর-এর অত্য়াচারের ফল। আগামী দিনেও পাবে টের।”
মমতা বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললে আপনারা দিল্লিতে মারেন, অত্যাচার করেন। বিহার, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশে মারেন। আপনারা বাঙালিদের হোটেল দেন না। আইটি সেক্টরের একটা অফিসার তাঁর বাচ্চা ছেলেকে নিয়ে নয়ডায় গিয়েছিল। বাংলায় কথা বলেছে বলে ঢুকতে দেয়নি। যার যা ভাষা, সে তা-ই বলবে। আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার তুমি কে?”
মমতা বলেন, “বলে নাকি আমি কলকাতাকে বস্তি বানিয়ে দিয়েছি। এই তো চারদিকে দেখতে পাচ্ছি আপনাদের বড় বড় বাড়ি। কেউ গরিব থাকবে, কেউ বড়লোক থাকবে। শুনুন সকলকে নিয়েই চলতে হয়। তুমি গরিবকে বলছো, মমতাদি কলকাতাকে বস্তি বানিয়ে দিয়েছে। আরে কলকাতা দেশের মধ্যে এক নম্বর শহর। এটা এখন শিল্প এবং পর্যটনের ডেস্টিনেশন। আমাদের দুর্গাপুজো ইউনেসকোর হেরিটেজ।”
মমতা বলেন, “পহেলগাঁও হামলা কারা করেছিল? পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কেন কিছু করা হয়নি? তখন আপনাদের সাঁজোয়া গাড়ি কোথায় ছিল? এখানে ইডি, সিবিআই, আয়কর দফতর, সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এসে গিয়েছেন। যেমন যুদ্ধকামান নিয়ে এসে গিয়েছেন। যখন পহেলগাঁওয়ে আমাদের ভাই-বোনেদের মৃত্যু হল, আপনারা কোথায় ছিল? জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ কেন্দ্রের। দিল্লিতে যখন হামলা হয়েছিল, আপনারা কী পদক্ষেপ করেছিলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে?”
মমতা বলেন, “আপনাদের যাদের নাম ভোটার লিস্টে আছে, ভোট দিয়েও ভোটার স্লিপটা সঙ্গে রেখে দেবেন। যাতে আগামী দিনে আর আপনাদের বিপদে ফেলতে না পারে। এদের আমি বিশ্বাস করি না।”
মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “আসল উদ্দেশ্য ছিল ৫৪৩-এর জায়গায় ৮৫০টা আসন করার। লোকসভায় ঝামা ঘষে দিয়েছি মুখে। এই প্রথম হারল। এই যে হারা শুরু হয়েছে, এখন শুধু হারবে, হারবে, হারবে। বিনাশের শুরু হয়ে গিয়েছে। পতনের শুরু হয়ে গিয়েছে। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।”
মমতা বলেন, “বাঙালি দেখলেই, বাংলায় কথা বলছে দেখলেই বলছেন অনুপ্রবেশের কারখানা। পঞ্জাবিদের বলছেন খলিস্তানি। মুসলিমদের বলছেন পাকিস্তানি। তুমি কে হরিদাস? মানুষকে অসম্মান করার অধিকার কে দিয়েছে?”
বিজেপি নেতৃত্বকে বিঁধে মমতা বলেন, “এত গর্জন করছেন যে মনে হচ্ছে সব সিটে আপনি জিতে গিয়েছেন। ঘেচু।” আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদে বিরোধীরা ‘গোল্লা’ পাবে বলেও জানান তিনি।
বিজেপি-কে বিঁধে মমতা বলেন, “সাইক্লোন, বন্যা, ভাঙন, কোভিডের সময়ে এদের পেয়েছেন? আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছি। নিজের জীবনের পরোয়া করিনি। মানুষকে বাঁচিয়েছি। হাওড়ায় আমরা নতুন করে ড্রেজ়িং প্রোগ্রাম করছি। এটা চুক্তিও হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ড্রেনেজের যে সমস্যা আছে, সেটা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। মনে রাখবেন।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, “আপনার চেয়ারের তো একটা রেসপেক্ট আছে! আপনি মিটিংয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলছেন, ইলেকশন হয়ে গেলে সকলকে পা নীচে করে আর মাথা উপরে করে ঝোলাবেন? আর পেটাবেন? এ কি আপনার মুখে সাজে? এত কথা বাজে। এত খারাপ ভাষায় কথা বলতে পারেন। এত নির্লজ্জ কথা বলতে পারেন।”
বিজেপি-কে বিঁধে মমতা বলেন, “বাংলা কামড়ে অমিতবাবুকে মিটিং করতে হয়েছে প্রশাসনকে নিয়ে। ভয় দেখাচ্ছেন সকলকে। কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? ৪ তারিখের পরে তোমার দেখা নাই গো, তোমার দেখা নাই। আর কাউকে পাবেন না।”
মমতা আরও বলেন, “ধাপ্পার ফুলঝুরি ক’দিন চলবে? মণিপুর জ্বলছে, মণিপুরকে সামলাও। যাও দিল্লি। নয়ডা জ্বলছে। বন্দুক দিয়ে নয়ডাকে শাসন করবে? মেয়েরা পর্যন্ত বেরোচ্ছে, তাদের গলা টিপে মারছে।”
মমতা বলেন, “৪ তারিখ ফল বেরোলে দেখবেন। জ্বলবেন, আর লুচির মতো ফুলবেন। আমাদের যে মাইনাস জায়গাগুলো ছিল, কাল আমরা এগিয়ে গিয়েছি। বিজেপি অনেক সিটে হারবে। এ বার মনে রাখবেন, যা সিট ছিল, তার অর্ধেকও পাবে না।”
মমতা বলেন, “কখনও ছাত্রছাত্রীকে অ্যাটাক করছো। কখনও মা-বোন নাকি রাস্তায় হাটতে পারে না বলছো। আজ আবার উনি নৌকাবিহার করেছেন। আমি বলি, পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা আর আপনার দিল্লির যমুনা মিলিয়ে নিন। পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা পরিষ্কার। তাই নৌকাবিহার করে হাওয়া খেয়েছেন সকালবেলায়। এটা ভোটের রাজনীতি। ফটোশপিং। চ্যালেঞ্জ করছি, গঙ্গায় নৌকাবিহার করেছেন, ভাল করেছেন। স্বাগত। আমিও যান চন্দননগরে পুজোর সময়ে গঙ্গাবিহার করতে করতে। আমি গঙ্গাসাগরেও যাই। আপনি একবার দিল্লির যমুনাতে ডুব দিয়ে আসবেন? দিল্লির যমুনা ক্যায়সা হ্যায়, পুরা দূষণ হ্যায়, পলিউটেড হ্যায়। আপনি দিল্লির যমুনাকে সামলাতে পারেন না। আর আমাদের গঙ্গায় এসে ফটো তোলেন।”
মমতা বলেন, “আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একজন প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, আমি মনে করি ছাত্রসমাজ, যুবসমাজের এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা আমাদের গর্ব। আমাদের যুবক-যুবতীরা আমাদের গর্ব। আমাদের ভাই-বোনেরা আমাদের গর্ব। বলছে ওখানে নাকি নৈরাজ্য চলছে। তুমি এক পয়সাও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছ? তুমি কি জানো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ১ নম্বর র্যাঙ্কে আছে? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি, সেন্ট জেভিয়ার্স আছে। মাথায় রেখে দিও।”
মহিলাদের এবং মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে মমতা বলেন, “এখন বলছ, তোমাকে ‘ক্যা’ করে দেব। যারা পশ্চিমবঙ্গে বাস করে, তাদের অধিকার নেই। আর ২০২৫-এ যারা এসেছে, তাদের তুমি সাথী করে নিয়ে এসেছ অন্য জায়গা থেকে— তাদের বলছো নাগরিক অধিকার দেব। লজ্জা করে না?”
মমতা বলেন, “ভোট কেটেও কিছু হবে না। কাল দেখেছ গ্রাম বাংলায়? ৯৩ শতাংশ। মোদীবাবু, তোমার বিরুদ্ধে এই ভোটটা। কারণ, তোমরা এসআইআর-এর নামে মানুষের উপরে অত্যাচার করেছো। প্রায় ৩০০ জন মারা গিয়েছে। কালকেও ভোটের লাইনে চারজন মারা গিয়েছে। মনে রাখবেন, মানুষ ক্ষমা করবে না।”
মমতা বলেন, “যখন এসআইআর (করে) নাম বাদ দিয়েছে, একমাত্র তৃণমূল কংগ্রস আপনাদের জন্য লড়েছে। এই বিজেপি বাদ দিয়েছে। ১ কোটি ২০ লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছিল। তার মধ্যে আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করে ৩২ লক্ষ লোকের নাম তুলে দিয়েছি। বাদ বাকিদেরও তুলব আগামী দিনে। বাকিদেরও তুলব আগামী দিন।”