West Bengal Elections 2026

কমিশনকে ‘আইসক্রিম’ দেওয়ার ডাক মমতার, শাহ-তোপে অনুপ্রবেশ

ভয়-মুক্ত ভোটের ডাক দিয়ে ডিইও দফতর সমাজমাধ্যমে বলেছিল, ‘যাঁরা ভয় দেখান, তাঁরা সতর্ক থাকুন, পর্যাপ্ত বার্নল ও বোরোলিন মজুত রাখুন। না-হলে এমন উত্তাপ হবে যে ভিতর থেকে পুড়ে যাবেন!’

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:০৬
Share:

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং অমিত শাহ (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

ভয়-মুক্ত ভোটের আহ্বান জানাতে গিয়ে ‘বার্নল, বোরোলিনে’র প্রসঙ্গ তুলে সমাজমাধ্যমে ‘পোস্ট’ করেছিল দক্ষিণ কলকাতা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (ডিইও) দফতর। সেই সূত্রেই নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করার পাশাপাশি তাদের আইসক্রিম দেওয়ার দাওয়াই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! নাম না-করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও ফের নিশানা করেছেন তিনি। উল্টো দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশে মদত দেওয়ার অভিযোগ ফের তুলেছেন শাহ।

ভয়-মুক্ত ভোটের ডাক দিয়ে ডিইও দফতর সমাজমাধ্যমে বলেছিল, ‘যাঁরা ভয় দেখান, তাঁরা সতর্ক থাকুন, পর্যাপ্ত বার্নল ও বোরোলিন মজুত রাখুন। না-হলে এমন উত্তাপ হবে যে ভিতর থেকে পুড়ে যাবেন!’ তাদের সংযোজন, হিংসা, ছাপ্পা-মুক্ত ভোট করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা দেওয়া হলে, এমন কঠোর ভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে, যেখানে ‘বার্নল, বোরোলিনও কাজে আসবে না!’ মমতা মঙ্গলবার জগৎবল্লভপুর, পিংলা ও তমলুকে নির্বাচনী সভা করেছেন। সেখানেই ওই পোস্ট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “ভাষার প্রয়োগ দেখুন। বলছে, গরমে পুড়ে যাবে। যদি গলে যায় বার্নল, বোরোলিন রেখে দাও। এই সব নির্দেশিকা দিয়েছে। কাকে এত ভয় দেখাচ্ছেন, চমকাচ্ছেন? ভাষাটার অর্থ কী? বিজেপিকে সমর্থন না-করলে অফিসারদের পুড়িয়ে দেবে?” তাঁর সংযোজন, “যারা বলছে, বার্নল রেখে দাও, তাদের বলুন, ‘বার্নল নেব না, তোমাদের আইসক্রিম দেব’। যাতে গরমে আইসক্রিম খেয়ে শরীরটাকে ঠান্ডা রাখতে পারো।”

এই আবহে শাহের বক্তব্য, “তৃণমূলের গুন্ডাদের ভয় পাবেন না। কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোট করাবে। গুন্ডাদের বলছি, ৫ তারিখের পরে দিদির কথায় বেরিয়ো না। না-হলে নিজেদের জেলে পাবে।” শাহ এ দিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তিনটি জনসভা, একটি রোড-শো করেছেন।

কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নাম না-করে আবার সরব হয়েছেন মমতা। তিনি বলছেন, “এরা হচ্ছে সব চেয়ে বড় বর্গি। সব সুট-বুট করে চলে এসেছে। লক্ষ লক্ষ বন্দুক নিয়ে এসেছে। আপনি মেশিন (ইভিএম) খারাপ করবেন? লোককে লাইন দিয়ে থাকতে দেবেন না? মেশিন খারাপ হলে লোককে অপেক্ষা করতে হবে। ওটাকে ‘বুথ জ্যাম’ বলে না।” বাহিনীকে নিশানা করে তাঁর সংযোজন, “এজেন্সি বিজেপির হয়ে সব কাজ করে দিচ্ছে। তারা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বলছে ভোটারদের তাড়িয়ে ছাপ্পা দাও।” এসআইআর-প্রক্রিয়ায় নাম বাদ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী ফের সরব হয়েছেন। পক্ষান্তরে, শাহ বলেছেন, “কমিশন এসআইআর-এর মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের বার করার চেষ্টা করছে।” তাঁর সংযোজন, “অনুপ্রবেশকারীরা ‘চিকেনস নেক’ থেকে রাজ্যকে আলাদা করতে চাইছে। তাদের মদত দিচ্ছেন দিদি ও ভাইপো।”

পাশাপাশি, মোদী-শাহকেও নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, “অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি। কিন্তু বিজেপি সরকারের মতো এত নির্লজ্জ, স্বৈরাচারী, দুর্নীতিগ্রস্ত, চোর-ডাকাতদের সরকার আগে দেখিনি।” তাঁর সংযোজন, “মোটা ভাইকে বিশ্বাস করেন? কেউটে সাপকে বিশ্বাস করতে পারেন, কিন্তু এদের বিশ্বাস করবেন না।” উল্টো দিকে, শাহ বলেছেন, “দিদি রাজ্যের ভাল চান না। চান, ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করতে। দিদি ও ভাইপো ‘টুকড়ে গ্যাং’য়ের প্রধান।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন