তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
গণনার টেবিল শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। ভবানীপুরের কাউন্টিং এজেন্ট, কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকে সেই বার্তাই দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, শেষ মুহূর্তের ওই বৈঠকে উপস্থিত সকলের কাছে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গণনা শেষ না-হওয়া পর্যন্ত টেবিল ছাড়া চলবে না।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হচ্ছে। দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলেই ভবানীপুর আসনের ভোটগণনা হবে। তার আগে রবিবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে নিজের বাড়িতে ভবানীপুরের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা। সেখানে ভবানীপুরের সব ওয়ার্ড সভাপতি এবং কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। গণনার দিন কী করতে হবে, কী করা চলবে না— সে বিষয়ে সকলকে বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা। সূত্রের খবর, বৈঠকে মমতা জানিয়েছেন, জয় নিয়ে তিনি নিশ্চিত। তবে প্রথম দিকে বিপক্ষ শিবির জিতছে— এমনটা দেখানো হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই অবস্থায় সকলকে তিনি বলেছেন, “শেষ পর্যন্ত গণনা টেবিল ধরে রাখবেন। দেখবেন শেষে আমরাই জিতেছি।”
ভবানীপুর আসনে তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদেরও ভোর ভোর গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়ার জন্য বলেছেন মমতা। সূত্রের খবর, ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে সকলকে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, গিয়েই সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে। গণনাকেন্দ্রের ভিতরে কেউ কোনও খাবার দিলে, সেটিও না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি বলেছেন, “গণনাকেন্দ্রের ভিতরে কেউ কোনও খাবার দিলে ভুল করেও খাবেন না। প্রয়োজনে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যান। খিদে পেলে অন্য সতীর্থকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে খেয়ে আবার গণনাকেন্দ্রে ঢুকে পড়ুন।”
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভবানীপুরে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ভবানীপুর। কারণ, সেখানে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী শুভেন্দু। গত বছর নন্দীগ্রামে যে রাজনৈতিক দ্বৈরথ দেখা গিয়েছিল, এ বার ভবানীপুরে সেটাই দেখা যাবে। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা। খাস কলকাতায় তৃণমূলের গড়ে শুভেন্দু গতবারের মতো সাফল্য পান কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সব মহলেই।
গণনাকেন্দ্রে যাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও গুছিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছেন তৃণমূলনেত্রী। কেউ যেন ভুল করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিচয়পত্র (আইকার্ড) বাড়িতে ফেলে না যান, সে বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে মমতা কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে বলেছেন, “দায়িত্ব সহকারে নিজের পরিচয়পত্র নিয়ে যান এবং সতীর্থদেরও পরিচয়পত্র নিয়ে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিন।”
গত শনিবার দলের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছিলেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে দলের সমস্ত প্রার্থী এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও যোগ দিয়েছিলেন। তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, ভোটগণনা নিয়ে কাউন্টিং এজেন্টদের একগুচ্ছ নির্দেশ দেন মমতা-অভিষেক। এ বার গণনার আগের সন্ধ্যায় নিজের আসন ভবানীপুরের কাউন্টিং এজেন্ট, কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড সভাপতিদের নিয়েও বৈঠক সেরে নিলেন মমতা।