WB Elections 2026

এফআইআর খারিজ করতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র, শুভেন্দুর অভিযোগের পরেই পদক্ষেপ করেছিল কমিশন

নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর ২০২৩ সালে বিজেপির প্রতীকে বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০২৬ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হলেও তিনি সেই পদ থেকে ইস্তফা দেননি বলে অভিযোগ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৬
Share:

(বাঁ দিকে) পবিত্র কর, শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদন জানান। পাশাপাশি সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা চেয়ে রক্ষাকবচের আবেদনও করেছেন তিনি।

Advertisement

শুক্রবারই বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি চান পবিত্র। আদালত তাঁকে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদনও করেছেন তিনি। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ভোট নন্দীগ্রামে। তার আগেই এই মামলার শুনানি চান তৃণমূল প্রার্থী।

উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। বুধবার হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসে তিনি নিশানা করেন পবিত্রকে। বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু দাবি করেন, তিনি স্ক্রুটিনির সময় কোনও আপত্তি জানাননি, যদিও চাইলে পবিত্রর প্রার্থিপদ বাতিল হয়ে যেতে পারত। শুভেন্দুর আরও প্রশ্ন, “একই ব্যক্তি কী ভাবে দুই রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন?” তাঁর অভিযোগ, পবিত্র বিজেপির প্রতীকে পঞ্চায়েত সদস্য হয়েও তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়ছেন, যা আইনবিরুদ্ধ। এই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয় নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

বুধবার রাতের ওই অভিযোগের পর দ্রুত পদক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার পবিত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। যদিও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পবিত্র জানান, তিনি প্রথমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, আইনের পথেই তিনি নিজের পদক্ষেপ করবেন। সেই অনুযায়ী শুক্রবারই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

আইন অনুযায়ী, কোনও জনপ্রতিনিধি দলবদল করে অন্য দলের প্রার্থী হিসাবে ভোটে লড়তে চাইলে তাঁকে পূর্ববর্তী পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। এই প্রেক্ষিতে জানা গিয়েছে, পবিত্র কর ২০২৩ সালে বিজেপির প্রতীকে বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০২৬ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হলেও তিনি সেই পদ থেকে ইস্তফা দেননি বলে অভিযোগ।

Advertisement

অন্য দিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দলবদল করা একাধিক জনপ্রতিনিধিকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সুমন কাঞ্জিলাল, হরকালী প্রতিহার, তাপসী মণ্ডল ও তন্ময় ঘোষের মতো বিধায়ক নিজেদের পদ ছেড়েছেন। একই ভাবে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে পরে তৃণমূলে যোগদান করা সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসও পদত্যাগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে পবিত্রের মামলা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। আদালতের রায়ের দিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement