West Bengal Assembly Election 2026

বছরভর ডুবে এলাকা, ভোটের আগেও হাওড়ায় হুঁশ নেই কারও

উত্তর হাওড়ার পিলখানা মোড় থেকে এগিয়ে বাঁ দিকের গলিদিয়ে ঢুকলেই পৌঁছনো যাবে তিনকড়ি নাথ বসু লেন বা কালীচরণ দাস লেনে। সেখানে রাস্তার দু’পাশে রয়েছে ৩০-৪০টি টালির বাড়ি। প্রতিটি রাস্তাই ডুবে রয়েছে নর্দমারবিষাক্ত কালো জলে!

দেবাশিস দাশ

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ০৭:২৩
Share:

অসহনীয়: নিকাশির কালো জল জমে এলাকায়। হাওড়ার সালকিয়ার তিনকড়িনাথ বোস লেনে। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।

এলাকা যেন আস্ত আঁস্তাকুড়! এক দিকে বছরের পর বছর পরিষ্কার না করা নিকাশিনালায় ভাসছে কুকুরের লাশ, গোবর, প্লাস্টিক, এলাকার মানুষের নিত্যদিনের ফেলা গার্হস্থ্য বর্জ্য। আর এক দিকে সেই ভয়াবহ দূষিত নর্দমার কালো জলে ডুবে রয়েছে এলাকার পথঘাট, ঘরবাড়ি। এমনকি, সেই জল ঢুকেছে গৃহস্থের হেঁশেলেও। এলাকায়ঢুকলেই বিকট দুর্গন্ধে টেকা দায়। তবু সেই তীব্র দূষণের মধ্যেই এক রাশ ক্ষোভ নিয়ে বসবাস করছেন কয়েকশো বাসিন্দা।

এই ছবিটা উত্তর হাওড়ার নন্দীবাগান এলাকার। সেখানকার কালীচরণ দাস লেন, তিনকড়িনাথ বোস লেন-সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি এমনটাই। অথচ আগামী ২৯এপ্রিল হাওড়ার অন্যান্য কেন্দ্রের সঙ্গে ভোট এই কেন্দ্রেও। কিন্তুভোটমুখী উত্তর হাওড়ার একাংশের এমন বেহাল দশা নিয়ে হাওড়া পুরসভা বা শাসকদলের যে এখনও কোনও হুঁশ নেই, তা এলাকায় ঢুকলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে দাবি স্থানীয়দের।

উত্তর হাওড়ার পিলখানা মোড় থেকে এগিয়ে বাঁ দিকের গলিদিয়ে ঢুকলেই পৌঁছনো যাবে তিনকড়ি নাথ বসু লেন বা কালীচরণ দাস লেনে। সেখানে রাস্তার দু’পাশে রয়েছে ৩০-৪০টি টালির বাড়ি। প্রতিটি রাস্তাই ডুবে রয়েছে নর্দমারবিষাক্ত কালো জলে! কয়েকটি গলিতে জল নেমে গেলেও শেওলা,আর্বজনা মিশে একটা নারকীয় পরিবেশ তৈরি হয়ে রয়েছে। তার উপর দিয়ে হাঁটাচলা করার জন্য পাতা হয়েছে একটি করে ইট। এলাকার বাসিন্দা সুরজ দেও বলেন, ‘‘এই সব গলির আশপাশের নিচু জমির জন্য বছর কুড়ি আগে হাওড়া পুরসভা থেকে বড় বড় নর্দমা করে দিয়েছিল, যাতে বর্ষার জমা জল বেরিয়ে যায়। কিন্তু সেগুলির বছরের পর বছর ধরে সংস্কার হয়নি। ফলে বর্তমানে সেই নালা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। তাই এলাকার জল বেরোনোর পথ না পেয়ে রাস্তা ছাপিয়ে নোংরা জল ঘরে ঢুকে পড়ছে।’’

শুধু ওই এলাকাটুকুই নয়। আশপাশের অধিকাংশ এলাকাতেও যে পুর পরিষেবা দেওয়ার বালাইনেই, তা একটু ঘুরলেই চোখে পড়বে— রাস্তার পাশে পড়ে আবর্জনার স্তূপ, রেলের পরিত্যক্ত জমিতে বেআইনি ভাবে গড়ে ওঠা একের পর এক খাটাল। এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওই সব খাটাল থেকে বস্তা বস্তা গোবর এনে নর্দমায় ফেলা হয়। পুরসভাকে বার বার জানিয়েও ফল হয়নি। অনেক সময়ে পুরসভার ডাম্পারগুলিও এলাকা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে এই জায়গায় ফেলে যায়। এলাকার বাসিন্দা মামুন হালদার বলেন, ‘‘এলাকায় দূষণের জেরে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি। ইতিমধ্যে এক জন মারাও গিয়েছেন। বার বার পুরসভাকে জানিয়েও ফল হয়নি। যা অবস্থা, তাতে প্রয়োজনে আমরা ভোট বয়কট করব।’’

এই ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধি মনোজিৎ র‍্যাফেল জানান, ওই এলাকায় নিকাশি সংস্কারের জন্য জেট সাকশন মেশিন কাজ করছে। একটা পাম্প খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। নর্দমা থেকে পলি কাটার কাজও শুরু হচ্ছে। আশা করা যায়, জমা জলের সমস্যা মিটে যাবে। হাওড়ার পুরসভার এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘আর্থিক সমস্যার জন্য ঠিকাদারদের বকেয়া টাকা দিতে না পারায় পাম্প পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা একটা পাম্প ভাড়া করে ওই জায়গায় বসাচ্ছি। কিন্তু এলাকাবাসীদের একাংশ নর্দমাকে আবর্জনা ফেলার জায়গা ভেবে নেওয়ায় এই সমস্যা আরও গুরুতর হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন