WB Elections 2026

শুভেন্দুর নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মীদের ‘পরিকল্পিত পুলিশি হেনস্থা’র অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে নালিশ ডেরেকের

তৃণমূলের চিঠিতে সরাসরি নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিরোধী দলনেতার রাজনৈতিক প্রভাবেই এই ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:১৫
Share:

নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের তৃণমূলের । গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট সেখানে। ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ‘পরিকল্পিত পুলিশি হেনস্থা’র শিকার বলে অভিযোগ তুলল তৃণমূল। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে জরুরিভিত্তিতে হস্তক্ষেপের দাবি জানান তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। রবিবার নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ভবানীপুরে তাঁর প্রচারে নজরদারি করছে সাদা পোশাকের পুলিশ । সেই চিঠির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তাঁর নন্দীগ্রাম বিধানসভায় তৃণমূল কর্মীদের উপর পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ করা হল।

Advertisement

ঘটনাচক্রে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু দু’টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিজের জেতা আসন নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

তৃণমূলের চিঠিতে সরাসরি নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দুর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিরোধী দলনেতার রাজনৈতিক প্রভাবেই এই ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, শুভেন্দু অতীতে একাধিক বার পুলিশ অফিসারদের বদলি করার হুমকি দিয়েছেন, যা এখনকার পরিস্থিতির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। তৃণমূলের অভিযোগ, গত ৫ এপ্রিল থেকে নন্দীগ্রাম ব্লক-১ এলাকায় পুলিশি সক্রিয়তা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে। কোনও আগাম পরোয়ানা বা বৈধ কারণ ছাড়াই গভীর রাতে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নন্দীগ্রাম ব্লকের তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য শেখ আব্দুল আলিম আলরাজির মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের গ্রেফতারের ভয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি, তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের মহিলা ও বয়স্ক সদস্যদেরও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের নামে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

Advertisement

ডেরেক তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের পুলিশি পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। তাঁর দাবি, পুলিশ ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও নন্দীগ্রামে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে একে ব্যবহার করা হচ্ছে। তৃণমূলের কর্মীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং তাঁদের অভিযোগগুলি পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের হানা তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। তৃণমূলের আশঙ্কা, এই ভয়ের পরিবেশ বজায় থাকলে ভোটগ্রহণের দিন বুথদখল, প্রক্সি ভোট এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

আগামী ২৩ এপ্রিল নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের কাছে তৃণমূলের তরফে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, নন্দীগ্রামে পুলিশের এই বেআইনি তল্লাশি ও আটকের ঘটনার তদন্ত শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তৃণমূল কর্মীদের উপর যে কোনও ধরনের বৈষম্যমূলক ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিতে হবে। তৃতীয়ত নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন লঙ্ঘনকারী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তৃণমূল।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement