(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বিধানসভা ভোটের প্রচারে বৃহস্পতিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই দিনে রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। আগামী তিন দিনে মোদী-শাহের আধ ডজন জনসভা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। রয়েছে শাহের রোড শো-ও। বৃহস্পতিবারই পর পর তিনটি জনসভা করে ফিরে যাবেন মোদী। তার পরে রাতেই রাজ্যে আসবেন শাহ। শুক্র এবং শনিবার জেলায় জেলায় ঘুরে নির্বাচনের প্রচার করবেন তিনি। শুক্রবার সকালে অমিত শাহ দলের সংকল্পপত্র প্রকাশ করতে পারেন। তবে দলের তরফে সে কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলায় তিন জনসভা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রথমটি রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায়। দ্বিতীয়টি পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে। এর পরে বীরভূমের সিউড়িতেও একটি সভা করবেন মোদী। বৃহস্পতিবার তিন জনসভা সেরে মোদী চলে যাওয়ার পরে রাতেই কলকাতায় পৌঁছে যাচ্ছেন শাহ। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরে জোড়া কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। ওই দিন ডেবরায় একটি জনসভা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। খড়্গপুরে একটি রোড শো-ও করবেন। শনিবারও দু’টি জনসভা রয়েছে শাহের। একটি বাঁকুড়ার ছাতনায় এবং অন্যটি পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে।
রাজ্যে ভোট ঘোষণার ঠিক আগের দিনই ব্রিগেডে জনসভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভোট ঘোষণার পরে প্রথম সভা করেন কোচবিহারে। গত রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে ‘বিজয় সংকল্প সভা’ করে গিয়েছেন তিনি। শাহও সম্প্রতি ঘুরে গিয়েছেন কলকাতা থেকে। গত সপ্তাহে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন দাখিলে সঙ্গী ছিলেন তিনি। হাজরা মোড় থেকে রোড শো করেছেন শুভেন্দুকে সঙ্গে নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতার বাড়ির গলির কাছ দিয়ে গিয়েছে সেই রোড শো। তা ঘিরে উত্তেজনাও ছড়িয়েছিল। শুভেন্দুকে নিয়ে সে দিন রোড শো করার আগে হাজরা মোড়ের সভা থেকে বক্তৃতাও করেন শাহ। ওই সভামঞ্চ থেকেই শাহ জানান, ভোটের সময়ে তিনি ১৫ দিন পশ্চিমবঙ্গেই থাকবেন।
গত রবিবার কোচবিহারের সভা থেকে মালদহ কাণ্ডে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মোদী। তাঁর বক্তৃতায় উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ এবং এসআইআর-এর প্রসঙ্গও। তার পাল্টা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতাও। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার ফের রাজ্যে আসছেন মোদী। এ বার বৃহস্পতিবার তিন জেলার তিন সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে বিজেপির সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি ইতিমধ্যে শাহের হাত দিয়ে ‘জনতার চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে। রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে সেই ‘চার্জশিট’-এর রেশ ধরে মোদী এবং শাহ ফের আক্রমণ শানাতে পারেন তৃণমূলকে।