দম্পতির সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
অভ্যাসমতো সকাল সকালই তৈরি হয়ে নিয়েছেন। শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী পক্ষের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষের সমর্থনে জনসভা করতে আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই রওনা হবেন তিনি। তরাইয়ের চা-বলয়ের রিসর্টটিতে আয়োজিত এক বিয়ের আসর থেকে আচমকা ‘মোদী-মোদী’ স্লোগান শুরু হল। রাজনৈতিক ভিড় যে ভাবে স্লোগান দেয়, ঠিক সে ভাবে নয়। সাধারণ জনতা আচমকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চোখের সামনে পেয়ে গেলে যে ভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পারে, সে ভাবেই। স্মিত হাসি নিয়ে, হাতজোড় করে বিয়ের আসরে ঢুকলেন মোদী। কিছু কথোপকথন হল। বিয়ের আসরটা আরও উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল। আচমকা এমন এক অতিথিকে পাওয়া কি চাট্টিখানি কথা! সমাজমাধ্যমে পোস্ট হতেই হু হু করে ছড়িয়েছে সে দৃশ্যের ভিডিয়ো।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে মোদী গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় ঝোড়ো প্রচার শুরু করেছেন। কখনও এক দিনে তিন-চারটি করে কর্মসূচিও রাখছেন তিনি। শনিবার রাজ্যে মোদী তিনটি জনসভা করেন। তার পরে রোড শো করেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে। রবিবার জনসভা ছিল শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে। তাই রাতে শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে চা-বলয়ের মাঝে একটি রিসর্টে রাত্রিযাপন করেন।
যে রিসর্টে মোদী উঠেছিলেন, সেটি অভিজাত বিবাহ বাসরের আয়োজক হিসাবেও জনপ্রিয়। রবিবার রিসর্টটির একাংশে বিবাহবাসরের বুকিংও ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাধারণত এ ধরনের বুকিং বাতিল করে দেওয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেনি। তাঁর নির্বাচনী সফরের কারণে কারও বিয়ের আসর ভেস্তে যাক, প্রধানমন্ত্রী নিজেই সম্ভবত তা চাননি। তাই রবিবার সকাল থেকে রিসর্টের নির্দিষ্ট অংশে বিয়েবাড়ির জমায়েত শুরু হয়। শ’তিনেক অতিথি-অভ্যাগতের জমায়েত ছিল। তাঁরাও খবর পেয়ে গিয়েছিলেন যে, ওই রিসর্টে প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। তাই অনেকেই তাঁকে দেখতে পাওয়ার আশায় ছিলেন। শিলিগুড়ির সভায় যোগ দেওয়ার জন্য রওনা হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বাইরে বেরোতেই তাঁকে দেখে ‘মোদী-মোদী’ স্লোগান শুরু হয়ে যায়। মোদী সে উচ্ছ্বাসকে অবহেলা করেননি। দূর থেকে দেখা দিয়ে রওনা হয়ে যাননি। সশরীরে হাজির হন বিয়ের আসরে।
সমাজমাধ্যমে যে পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, তা থেকে জানা গিয়েছে বর-কনের নাম অক্ষয় জৈন এবং শ্রেয়া জৈন। মোদী তাঁদের বিয়ের আসরে হাজির হয়ে প্রথমেই জানতে চান বর-কনে কোথায়? তাঁদের সঙ্গে আলাপ সারেন। হাতজোড় করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘আমার কারণে আপনাদের বিয়েতে কোনও অসুবিধা হয়নি তো?’’ সকলে সমস্বরে বলতে থাকেন, ‘‘কোনও অসুবিধা হয়নি।’’ প্রধানমন্ত্রী সকলকে শুভেচ্ছা জানান। আনন্দ করতে বলেন। আর বলেন, ‘‘আমার আশীর্বাদ রইল।’’ তার পরে বিয়ের আসর থেকে বিদায় নেন। রওনা হয়ে যান শিলিগুড়ির উদ্দেশে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বিয়ের আসরে হাজির হতে খুব বেশি দেখা যায় না। গত ১২ বছরে হাতেগোনা কিছু বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁকে হাজির হতে দেখা গিয়েছে। এ হেন মোদী পশ্চিমবঙ্গের চা-বলয়ে আয়োজিত কোনও বিয়েবাড়িতে আচমকা হাজির হয়ে যাবেন, এমন কথা কারও কল্পনাতেও ছিল না। বিয়ের সকালে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং আশীর্বাদ পেয়ে বর-কনে উচ্ছ্বসিত তো বটেই। উচ্ছ্বসিত অতিথি-অভ্যাগতেরাও।