West Bengal Elections 2026

পোস্টাল ব্যালট আগেই গোনা হবে? না কি পরে? ইভিএমের গণনা সাময়িক ভাবে থমকাতে পারে, কেন? কী জানাল কমিশন

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুম ঘিরে বিতর্কও এই পোস্টাল ব্যালটকে ঘিরেই। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, সেখানে নিয়ম না-মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজ করা হয়েছে। যদিও কমিশন জানিয়েছিল, ওই কাজের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ই-মেল করা হয়েছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ২২:০৮
Share:

গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ভোটগণনা পর্ব। —ফাইল চিত্র।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হবে। রাজ্যের ২৯৩টি আসন (ফলতা আসনে নতুন করে নির্বাচন ঘোষণা করেছে কমিশন)-এর গণনার জন্য মোট ৭৭টি গণনাকেন্দ্র রয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের গণনা আগে শুরু হবে। গণনাপর্ব শুরুর প্রথম আধঘণ্টা শুধু পোস্টাল ব্যালটই গণনা হবে। তার পরে সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হবে ইভিএমের গণনা। তখন থেকে পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম দুই-ই একসঙ্গে গণনা চলবে।

Advertisement

দিল্লির নির্বাচন সদন জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হবে ইভিএম গণনা। তার পরে উভয় গণনাই একসঙ্গে চলবে। কিন্তু পোস্টাল ব্যালটের গণনা আগে শেষ করতে হবে। অর্থাৎ, ইভিএমের সব রাউন্ড গণনা শেষ হওয়ার আগেই পোস্টাল ব্যালটের গণনা সেরে ফেলতে হবে। সে ক্ষেত্রে যদি দেখা যায়, ইভিএম গণনার শেষ দু’রাউন্ডে গিয়েও পোস্টাল ব্যালটের গণনা শেষ হয়নি— তখন ইভিএম গণনা সাময়িক ভাবে বন্ধ থাকবে। পোস্টাল ব্যালটের গণনা শেষ করে তার পরে আবার ইভিএমের বাকি রাউন্ডের গণনা শুরু হবে। শেষে ইভিএম দিয়েই পুরো রাউন্ডের গণনা শেষ হবে। সাধারণত ভাবে পোস্টাল ব্যালটের ভোটই আগে গণনা শুরু হয়। তবে ইভিএম গণনা শেষ হওয়ার আগে পোস্টাল ব্যালটের গণনা শেষ করে ফেলতে হবে— এই নিয়ম শুরু হয় বিহার ভোটের আগে থেকে।

গণনাকেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটগুলি গোনার জন্য পৃথক ঘর থাকে। রাজ্যে ২৯৩টি আসনের গণনার জন্য যে ৭৭টি গণনাকেন্দ্র রয়েছে, তাতে মোট ২৯৩টি ঘর রয়েছে পোস্টাল ব্যালট গোনার জন্য। ভোটকর্মীদের পাশাপাশি বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেওয়া হয়। রেল পরিষেবা, মেট্রো রেল পরিষেবা, রাজ্য দুগ্ধ ইউনিয়ন এবং সমবায়, স্বাস্থ্য দফতর, সড়ক পরিবহণ নিগম, অগ্নিনির্বাপক পরিষেবা (দমকল), পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং হোমগার্ড, কারা দফতর, আবগারি দফতর, ট্রেজ়ারি পরিষেবা, তথ্য ও জনসংযোগ দফতর, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, খাদ্য ও গণবণ্টন, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত সংবাদকর্মীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুবিধা পান। পাশাপাশি দেশের সকল সেনাকর্মী পৃথক উপায়ে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের সুযোগ পান। এ ছাড়া কোনও গোলমালের আশঙ্কায় আটক করা হয়েছে এমন ভোটারদেরও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের সুযোগ দেওয়া হয়।

Advertisement

বস্তুত, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুম ঘিরে বিতর্কও এই পোস্টাল ব্যালটকে ঘিরেই। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’ লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ ছিল, সেখানে নিয়ম না-মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজ করা হয়েছে। যদিও পরে কমিশন জানিয়েছিল, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের করিডরে বসে যে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছিল, সেই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ই-মেল করে জানানো হয়েছিল।

এ সবের মধ্যেই সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে গণনাপর্ব। গণনা শুরুর চার ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ, দুপুর ১২টার মধ্যেই ভোটের ফলের প্রাথমিক ধারণা আসতে শুরু করে। অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যেই কয়েক রাউন্ডের গণনা শেষ হয়। ফলে কারা জিতছেন, কারা হারছেন— তার প্রাথমিক আভাস ওই সময় থেকেই মোটামুটি স্পষ্ট হতে শুরু করে দেয়। তবে যে কেন্দ্রগুলিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে, সেগুলি ব্যতিক্রমী। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়— কোনও একটি রাউন্ডের শেষে এক জন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন, আবার পরের রাউন্ডেই অপর প্রার্থী এগিয়ে যান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement