ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো। — ফাইল চিত্র।
রবিবার দুপুরে ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো জানিয়েছিলেন, মরসুমের শেষেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন। পরিকল্পনার অভাবের জন্য এক হাত নিয়েছিলেন বিনিয়োগকারী সংস্থা ইমামিকে। সন্ধ্যাতেই সেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিল ইমামি। জানাল, ভারতীয় ফুটবলের পরবর্তী মরসুমের সূচি প্রকাশিত না হওয়ার কারণেই নিজেদের ফুটবল দল নিয়ে পরিকল্পনা এগোতে পারছে না তারা।
ইমামি জানিয়েছে, ফুটবলার এবং কোচেদের পেশাদারিত্বের উন্নতিই তারা বরাবর চেয়েছে। কিন্তু আইএসএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফেডারেশনের সূচি হাতে না আসায় ফুটবল দল নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারছে না তারা। ফুটবলার এবং কোচেদের কাছে সেই অনুমতি রয়েছে যাতে তারা ভাল সুযোগ পেলে তা গ্রহণ করে।
ইমামি জানিয়েছে, গত এক বছরে ভারতীয় ফুটবলে টালমাটাল অবস্থা চলাকালীন অনেক ক্লাব ফুটবলার, কোচেদের বেতন কমাতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু ইমামি কারও বেতন কাটেনি। আপাতত ইমামির নজর চলতি আইএসএলে। ফেডারেশনের সূচি প্রকাশিত হলেই তারা দল গঠন, পারফরম্যান্স পর্যালোচনা এবং ক্লাবের স্বার্থে সেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে কাজ শুরু করে দেবে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক বৈঠকে অস্কার বলেছিলেন, “আমি ঘোষণা করতে চাই যে, ৩১ মে, মরসুম শেষ হওয়ার পর আর কোচ থাকতে চাই না। এখনও তিন সপ্তাহ হাতে আছে। নিজের জীবন, ঘাম, সমস্ত পরিশ্রম উজাড় করে দিতে চাই যাতে ইস্টবেঙ্গল সেরা জায়গায় শেষ করতে পারে। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আমার নিজের।”
ইস্টবেঙ্গলের কোচের দাবি, এই মরসুমের পরিকল্পনা করা শুরু করেছিলেন গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে। একাধিক বার উচ্চারণ করেছেন ইমামি কর্তা বিভাস আগরওয়ালের নাম। অস্কারের দাবি, তিনি ফুটবলের বিষয়গুলি দেখতেন। বিভাস প্রশাসনিক বিষয়। কোন ফুটবলার নেওয়া হবে, কোন জায়গা মজবুত করা হবে, কোথায় কোথায় বাড়তি জোর দিতে হবে সবই বিভাসের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা এখন দেখা যাচ্ছে না।
কী রকম পরিকল্পনার অভাব রয়েছে দলে? অস্কার বলেছেন, “এ বছর দলের যা পারফরম্যান্স হয়েছে তার জন্য আমি দায়ী। এ বছরের পরিকল্পনা গত বছর শুরু করেছিলাম। এখন মে মাস। পরের মরসুম বা ভবিষ্যতের জন্য এখনও কোনও পরিকল্পনা তৈরি হয়নি। কোনও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই, দূরদৃষ্টি নেই। দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্লাবের কেউ কথা বলেনি।”