জয়ের পরে আমজাদ হোসেন। ছবি: সুশান্ত সরকার।
ফুটবল মাঠে তিনি যেমন তিনকাঠি চিনতেন তেমনই সতীর্থকে নিখুঁত বল বাড়াতেন। দেশের মধ্যে ‘ইউটিলিটি প্লেয়ার’ হিসেবে এক সময় বিস্তর নাম কুড়িয়েছেন। কিন্তু ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতির বিস্তর ফারাক। চেনা মানুষও যেন এই মাঠে অচেনা। রাজনীতির পিচ্ছিল ময়দানেও তিনি ফাইনালে গোল করার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। অপেক্ষায় ছিলেন সতীর্থদের কাছ থেকে ফাইনাল পাসের। কিন্তু তা পেলেন কোথায়? ফলে ভারতখ্যাত ফুটবলার রহিম নবির বিধানসভার চৌকাঠ অধরাই থেকে গেল।
হুগলি জেলার দুই গ্রামীণ আসন ২০১১ সালে বামফ্রন্টের দখলে যায়। এবার বামেদের ভরাডুবির আবহেও পান্ডুয়া আসনটি ধরে রাখা গেলেও গোঘাট হাতছাড়া। সেখানে জিতেছেন তৃণমূলের মানস মজুমদার। পান্ডুয়ায় জিতলেন সিপিএমের আমজাদ হোসেন।
বস্তুত হুগলিতে সিপিএমের এবার একমাত্র সান্ত্বনা পান্ডুয়া। জয়ের পর এখানে বিরাট মিছিল করে সিপিএম। মিছিলে যখন লাল আবির খেলা চলছে তখন নবি দুষছেন দলে তাঁরই কাণ্ডারীদের। দলের নেতাদের ভূমিকায় রীতিমত হতাশ নবির কথায়, ‘‘পান্ডুয়ার বাইরে জিতলাম। কিন্তু শহরে হারলাম দলে নির্ভর করেছিলাম এমন কিছু স্থানীয় নেতার জন্য। এই নিয়ে যা বলার দলকেই বলব।’’
পান্ডুয়ায় নবির টিকিট পাওয়া ইস্তক তৃণমূলের অন্দরে ঝামেলার শুরু। নবি বহিরাগত না হলেও তিনি যেহেতু পান্ডুয়ায় সেভাবে থাকেন না। মূলত কলকাতা কেন্দ্রীক তাঁর জীবনযাপন তাই দলের স্থানীয় চার নেতা তাঁকে প্রার্থী হিসেবে চাননি। সারা বছর নিজেদের মধ্যে নানা দলীয় কর্মসূচী নিয়ে আকচা-আকচি করেন এমন চার নেতাই দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন, তাঁদের মধ্যে যে কাউকে টিকিট দেওয়া হোক, কিন্তু নবিকে কখনওই নয়। কিন্তু ওই নেতাদের নিজস্ব লড়াইয়ের বিষয়টি মাথায় রেখেই শেষ পর্যন্ত নবিকে টিকিট দেন তৃণমূল নেত্রী। এর জেরে এক সময় নবির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে দলের জেলা সভাপতিকে ঘেরাও, এলাকায় পথ অবরোধ পর্যন্ত হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত বদল হয়নি দলের।
এক রাজ্য নেতার কথায়, ‘‘আমরা পান্ডুয়ায় বিষয়টি মেনে নিলে রাজ্যের অন্যত্র ফ্লাড গেট খুলে যেত। তা ছাড়া ওটা আমাদের হারা আসন। তাই যদি সেটি চলেও যায়, তা ভেবেই সিদ্ধান্তে বদল হয়নি।’’
গতবার সিপিএম প্রার্থী আমজাদ মাত্র ৩৪৭ ভোটে জিতেছিলেন। এবারও তাঁর জয়ের ব্যবধান অল্পই।
তৃণমূলের জেলা নেতাদের একাংশের খেদোক্তি, সিপিএম পান্ডুয়ায় জয়ের ধারা অব্যাহত রাখলেও তাঁরাও গোষ্ঠী কোন্দলের ধারা বজায় রাখলেন। এই আত্মঘাতী মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে পান্ডুয়া বিজয় কিন্তু অধরাই থাকবে।
আর কী বলছে সিপিএম? কয়েক জন নেতা জানালেন, ভ্যাগিস পান্ডুয়ায় শাসকের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকট। না হলে হয়তো জেলায় এবার তাঁদের খাতাই খোলা যেত না।