ক্রিকেট খেলতে এসেছি, কোর্টে ছক্কা রেজ্জাকের

গিয়েছিলেন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে। কিন্তু কেন এসেছেন, জানতে চাওয়ায় ভাঙড় কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আবদুর রেজ্জাক মোল্লা বুধবার আদালত-চত্বরে দাঁড়িয়ে সপাট ছক্কার ঢঙে বলে দিলেন, ‘‘ক্রিকেট খেলতে এসেছি!’’

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০১৬ ০৪:৫২
Share:

গিয়েছিলেন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে। কিন্তু কেন এসেছেন, জানতে চাওয়ায় ভাঙড় কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আবদুর রেজ্জাক মোল্লা বুধবার আদালত-চত্বরে দাঁড়িয়ে সপাট ছক্কার ঢঙে বলে দিলেন, ‘‘ক্রিকেট খেলতে এসেছি!’’

Advertisement

বারুইপুর আদালতে এ দিন আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন রেজ্জাক। নির্বাচনী প্রচারে মহিলাদের উদ্দেশে নানা ধরনের কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনেও। ২১ এপ্রিল কমিশনের দায়ের করা এফআইআরের প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে শাসক দলের ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে। রেজ্জাকের আইনজীবী সুজিত চক্রবর্তী পরে জানান, তাঁর মক্কেল আদালতে এক হাজার টাকার বন্ড দিয়ে জামিন পেয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, মামলা হয়েছে, আত্মসমর্পণ করেছেন, জামিন দিয়েছে আদালত— সবই ঠিক। কিন্তু কোর্টে ধরা দিতে হাজির হয়ে কেন তিনি বললেন ‘ক্রিকেট খেলতে এসেছি’, সেই প্রশ্ন উঠছে। এবং যথারীতি নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে একদা-বাম-অধুনা-তৃণমূল রেজ্জাক। কেন তিনি ওই তির্যক উক্তি করলেন, সেটা অবশ্য ব্যাখ্যা করেননি ওই প্রার্থী। কিন্তু তাঁর নীরবতায় প্রশ্নের জবাব মিলছে না। রাজনীতির ময়দানে বাগ্‌যুদ্ধ, তাল ঠোকাঠুকি, বাক্যবাণ হয়েই থাকে। কিন্তু ন্যায়ালয়ে এমন মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আদালত এটাকে আমল না-দিলে সমস্যা নেই। কিন্তু তারাও যদি ওই প্রার্থীর এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে, রেজ্জাকের সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছে আইনজীবীদের একটি শিবির।

Advertisement

বিতর্ক আর রেজ্জাক অনেকটাই সমার্থক। উস্কে দেওয়া মন্তব্য করতেও রেজ্জাক বরাবর সাবলীল। বাম শিবিরে থাকার সময় নিজেদের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে তাঁর সেই ‘হেলে ধরতে পারে না, কেউটে ধরতে গিয়েছে’র মতো বচন এখনও মুখে মুখে ফেরে। শিবির বদলের পরে, নির্বাচনী বিধি বলবৎ থাকাকালীন মহিলাদের সম্পর্কে তাঁর কটাক্ষ রুচির গণ্ডি ছাড়িয়েছে বলে অভিযোগ। এ দিন আত্মসমর্পণ করে তাঁর জামিন হয়তো আটকায়নি। কিন্তু আদালত-চত্বরে ছেলেখেলার মতো নিজের ক্রিকেট-মন্তব্য রেজ্জাককে আবার বিতর্কের আবর্তেই ফেলে দিল।

আদালতে আত্মসমর্পণ করে এ দিন জামিন পেয়েছেন কলকাতার ১৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রহমত আনসারিও। গত শনিবার, দক্ষিণ কলকাতায় ভোটের দিন মেটিয়াবুরুজে সিপিএম-কর্মীদের উপরে হামলা এবং ক্যাম্প অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারেনি। কিন্তু এ দিন সেই রহমতই আলিপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিনও পেয়ে যান। আদালতের বাইরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘‘আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’’

ঘটনার পরেই সিপিএমের পক্ষ থেকে ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মেটিয়াবুরুজ থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছিল। ওই দিন লিচুবাগানে কটন লেনে রহমত এবং তাঁর বাহিনী তিন সিপিএম-সমর্থককে মারধর করেন বলে অভিযোগ। ভাঙচুর হয় সিপিএমের অফিসও।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে রহমত দাবি করেন, সিপিএমের কর্মী-সমর্থকেরাই তাঁর রক্ষীকে মারধর করেছে। ওই রক্ষীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এক জনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু সিপিএম অভিযোগ জানানোর পরেও রহমতকে গ্রেফতার না-করায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। তাদের বক্তব্য, পুলিশ ইচ্ছে করেই শাসক দলের ওই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেনি। পুলিশের বক্তব্য ছিল, তদন্ত চলছে। রহমতের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মিললেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে।

পুলিশ প্রমাণ জোগাড় করার আগেই অবশ্য এ দিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন রহমত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement