West Bengal Assembly Elections 2026

ভোটের আগে নিরাপত্তায় জোর, প্রতি দফায় ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের

কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে মোট কত বাহিনী প্রয়োজন, তা নিয়েই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ২১:১৫
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। প্রতি দফায় প্রায় ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে। কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে মোট কত বাহিনী প্রয়োজন, তা নিয়েই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

Advertisement

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। প্রশাসন সূত্রের খবর, জেলাভিত্তিক স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা কমিশনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে প্রতিটি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং অতীতে অশান্তির ইতিহাস রয়েছে এমন বুথগুলিকে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না এবং ভোটারদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

এ ছাড়াও, কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, কুইক রেসপন্স টিম এবং স্ট্যাটিক ডিউটির মতো বিভিন্ন কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। প্রশাসনের দাবি, এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে ভোটগ্রহণ আরও স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হবে।

Advertisement

সূত্রের খবর, ভোটে কোথায় কত কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে, তার একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তা অনুযায়ী কলকাতায় ২৮৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকতে পারে। প্রথম দফায় ২৫৬৯ এবং দ্বিতীয় দফায় ২১৪৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে প্রাথমিক ভাবে ঠিক করা হয়েছ। প্রথম দফায় ৩০০ কোম্পানির বেশি বাহিনী থাকবে মুর্শিদাবাদে। পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে থাকবে যথাক্রমে ২৮৬ এবং ২৮১ কোম্পানি। মালদহে ১৮৬ কোম্পানি, কোচবিহারে ১৫০ কোম্পানি, বাঁকুড়ায় ২১৩ কোম্পানি, বীরভূমে ১৮৭ কোম্পানি থাকবে। দ্বিতীয় দফায় পূর্ব বর্ধমান ২৫৬, হুগলি গ্রামীণ ১৯৮, ডায়মন্ড হারবারে ২১০ কোম্পানি বাহিনী থাকতে পারে।

কমিশন সূত্রে খবর, নির্বাচনের সময় আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ-সহ প্রায় দেড় থেকে ২ লক্ষ অভিযোগ জমা পড়ে সিইও দফতরে। ওই সব অভিযোগগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সচিব পদ মর্যাদার আধিকারিক নিয়োগ করছে কমিশন। একটি অভিযোগ-সেল গঠন করা হবে। সিইও দফতর সূত্রে খবর, আপাতত ন’জন আধিকারিক নিয়োগ করা হবে। তাঁদের মধ্যে ৬ জন মাইক্রো অবজ়ার্ভার থাকবেন। নবান্নের কাছে ৩-৪ জন অফিসার চাওয়া হবে। অভিযোগ পাওয়ার ৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হবে।

কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রায় ২০ হাজার ভোটার কার্ড ফেরত এসেছে। পোস্ট অফিস তিন বার বিলি করতে গিয়েও হস্তান্তর করতে পারেননি। ওই ভোটারদের তথ্য এ বার সরাসরি খতিয়ে দেখবে সিইও দফতর। কেন কেউ ভোটার কার্ড নিলেন না? সিইও দফতর সূত্রে খবর, নানা সময় ধরে প্রায় ২০ হাজার ভোটার কার্ড ফেরত এসেছে। এ বার ওই ভোটার কার্ডগুলি বুথ অনুযায়ী আলাদা করা হবে। তার পরে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের দিয়ে সরাসরি খতিয়ে দেখা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement