বন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা জাহাজে রাহুল পল্লি, মহম্মদ সাইদুল্লা শেখ, অরবিন্দ ঘোষ। — নিজস্ব চিত্র।
ভোটের আগে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন ছিল। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সে স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায়, বিদেশের বন্দরে জাহাজে আটকে রয়েছেন নদিয়ার এক ইঞ্জিনিয়ার-সহ একাধিক ভারতীয় কর্মী। কবে তাঁরা ফিরতে পারবেন, জানা নেই।
ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায়, আটকে রয়েছে আড়াইশোর বেশি জাহাজ। শারজার বন্দরে তেমনই এক জাহাজে রয়েছেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা মহম্মদ সাইদুল্লা শেখ। ২০২৩ সাল থেকে ওই জাহাজে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত তিনি। এই যাত্রায় যোগ দেন গত ১২ মার্চ। খালি অবস্থায় সেটির গুজরাতে পৌঁছনোর কথা ছিল। পরিকল্পনা ছিল, প্রণালী খুললেই গন্তব্যে পৌঁছে ছুটি মিলবে। তা হলেই ভোটের আগে বাড়ি ফিরতে পারতেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) শুনানির পরে, সাইদুল্লার নাম উঠেছে। তবে তাঁর স্ত্রীর নাম নেই। সাইদুল্লা জানান, বাড়ি ফিরে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কবে ফিরবেন, তা এখন অনিশ্চিত।
তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আরও দুই বাঙালি কর্মী, নবদ্বীপের অরবিন্দ ঘোষ ও হুগলির খানাকুলের রাহুল পল্লি। স্টুয়ার্ড ও পাম্পম্যান পদে কর্মরত তাঁরা। তাঁরা জানান, যুদ্ধবিরতির পরে কয়েকটি জাহাজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছিল। সাইদুল্লাদের জাহাজেরও ১৬ এপ্রিল রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্যাপ্টেনের পিতৃবিয়োগের কারণে সম্ভব হয়নি। শনিবার প্রণালী খোলার খবর মেলে। সন্ধ্যা ৬টায় রওনা দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়। শেষ মুহূর্তে জানা যায়, হরমুজ় ও ওমান উপসাগরে আমেরিকার সেনা মোতায়েনের প্রেক্ষিতে ইরান অনির্দিষ্ট কালের জন্য প্রণালী বন্ধ করছে। ফলে, ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবু আশা ছাড়েননি সাইদুল্লা। তাঁর কথায়, “বাবা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কর্মরত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার সাহস দিচ্ছেন।” তিনি জানান, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্রের দৃশ্য এখন তাঁদের নিত্যসঙ্গী। বাড়ি ফেরার আশায় যতটা উচ্ছ্বাস ছিল, নতুন করে প্রণালী বন্ধের খবরে ততটাই মুষড়ে পড়েছেন সকলে। এখন সারাক্ষণ চোখ ফোনের দিকে, এই বুঝি ভাল খবর আসে! সেই প্রতীক্ষাতেই দিন গুনছেন সাইদুল্লা, অরবিন্দেরা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে