আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জাহাজ দখলের বর্ণনা দিয়েছেন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
হরমুজ় প্রণালীর কাছে কী ভাবে ইরানের পণ্যবাহী জাহাজ দখল করে নেওয়া হল, তার বর্ণনা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ়ে অবরোধ চালাচ্ছে আমেরিকা। ট্রাম্পের দাবি, অবরোধ ভঙ্গ করার চেষ্টা করেছিল ইরানের ওই জাহাজ। বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও কথা শোনেনি। তাই জাহাজটি লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালানো হয়। তার পর তা দখল করে নেওয়া হয়। মার্কিন হামলায় ইরানি জাহাজের ইঞ্জিন রুমে বড় গর্ত হয়ে গিয়েছে বলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন।
হরমুজ়ে আমেরিকার এই আগ্রাসন মোটেই ভাল চোখে দেখছে না ইরান। জাহাজ দখলের পর সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে ফোন করেন। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। আমেরিকার আচরণে পাকিস্তানের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পেজ়েশকিয়ান। জানিয়েছেন, আমেরিকার কার্যকলাপ, আগ্রাসন এবং অযৌক্তিক আচরণ তাঁদের সন্দেহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, ফের মার্কিন সেনা আগের মতো আচরণ করবে এবং ‘কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ করবে। সংবাদসংস্থা এপি ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য উল্লেখ করে শাহবাজ়ের সঙ্গে পেজ়েশকিয়ানের ফোনালাপের কথা জানিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অনেকের আশঙ্কা, হরমুজ়ে আমেরিকার অবরোধ এবং ইরানি জাহাজ দখলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা মঙ্গলবারের আগেই ফের সংঘর্ষ শুরু করে দিতে পারে। এর মধ্যে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসার কথা ছিল ইরান এবং আমেরিকার প্রতিনিধিদের। ট্রাম্প আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল পাঠিয়েও দিয়েছেন। কিন্তু তেহরান বৈঠক খারিজ করে দিয়েছে। জানিয়েছে, আমেরিকার অতিরিক্ত চাহিদা এবং হরমুজ়ে অবরোধের কারণে বৈঠকে যোগ দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
ইরানি জাহাজ দখলের বর্ণনা দিতে গিয়ে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী মার্কিন রণতরী স্প্রুয়ান্স ইরানের পতাকাবাহী জাহাজটিকে সতর্ক করেছিল। বলা হয়েছিল ওই জলপথে অবরোধ চলছে, তারা যেন আর না-এগোয়। কিন্তু নাবিকেরা কথা শোনেননি। আমরা ওই জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছি এবং তার ইঞ্জিন রুমে বড় গর্ত করে দিয়েছি। জাহাজটি আপাতত মার্কিন নৌবাহিনীর দখলে। ভিতরে কী আছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।’’ ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, ইরানের জাহাজটির নাম তৌস্কা। ৯০০ ফুট লম্বা জাহাজটি বিমানবাহী রণতরীর প্রায় সমান। অভিযোগ, অতীতের কার্যকলাপের জন্য ইরানের এই জাহাজটি আমেরিকার রাজস্ব বিভাগের নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে।
ইরান প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জাহাজটি চিন থেকে পণ্য পরিবহণ করে ইরানে আসছিল। এই জাহাজ দখল করে নেওয়াকে আমেরিকার ‘সশস্ত্র ছিনতাই’ বলে উল্লেখ করেছে তেহরান। তাদের দাবি, শীঘ্রই এর জবাব দেবে ইরানের সেনাবাহিনী। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে অনেকের মত।