West Bengal Assembly Election

কঠিন আসনে প্রার্থী চিকিৎসকেরা, দলের বার্তা কি তবে ‘লড়াই করে জিতে এসো’

তৃণমূল যে চিকিৎসক সমাজকে সব সময়ে অগ্রণী ভূমিকায় রাখত, সেখানে কী এমন ঘটল, যে কারণে এমন অদলবদল করা হল? দীর্ঘ দিন ধরেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম নিয়ে সরব হয়েছিল কার্যত গোটা চিকিৎসক মহল।

শান্তনু ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৪
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

নির্বাচনে জিতে ২০২১-এ বিধানসভায় গিয়েছিলেন সাত জন চিকিৎসক। শাসকদলের প্রার্থী তালিকায় এ বারও সংখ্যা সেই সাত। সেখানে পাঁচ জন নতুন মুখ। আর, পুরনো দু’জনের আসন বদল হয়েছে। এই সংখ্যক চিকিৎসকদের বাইরে আরও যে দু’জন এ বারেও টিকিট পেয়েছেন, তাঁরা অবশ্য কার্যত ডাক্তারি ছেড়ে দীর্ঘ দিন ধরেই সক্রিয় রাজনীতিতে রয়েছেন।
মঙ্গলবার শাসকদলের প্রার্থী তালিকায় চিকিৎসকদের নাম থাকার পরে প্রকাশ্যে এসেছে এমন সমীকরণ।

যা দেখে চিকিৎসক মহলেরই একাংশের প্রশ্ন, তৃণমূল যে চিকিৎসক সমাজকে সব সময়ে অগ্রণী ভূমিকায় রাখত, সেখানে কী এমন ঘটল, যে কারণে এমন অদলবদল করা হল? দীর্ঘ দিন ধরেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম নিয়ে সরব হয়েছিল কার্যত গোটা চিকিৎসক মহল। সেখানে ডান-বাম সব পক্ষেরই প্রায় এক সুর ছিল। আর জি করের ঘটনার পরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সকলেই অভিযোগ তুলেছিলেন এক শ্রেণির চিকিৎসক নেতাদের বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক মহল সূত্রের খবর, সেই সমস্ত খবরই ছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। কিন্তু সরাসরি কখনও কোনও পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি তাঁদের। বরং আর জি কর আন্দোলন স্তিমিত হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের চিকিৎসকদের নিয়ে প্রথমে সেবাশ্রয় প্রকল্প চালু করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর কিছু দিন পরে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এত কিছুর পরেও চিকিৎসক সমাজের অন্দরের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বরং তা ছিল ছাইচাপা আগুনের মতো। সেই বিষয়টি এ বারের প্রার্থী তালিকায় প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তা হলে প্রশ্ন, যে সমস্ত চিকিৎসক এ বার টিকিট পেলেন না, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধেই কি অভিযোগ ছিল? আর যাঁরা পেলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কি কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই?

শাসকদল-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকেরা বলছেন, ‘‘বিষয়টি তেমন নয়। অনেক কিছু বিচার-বিবেচনা করেই শীর্ষ নেতৃত্ব এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’ বাদ যাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য নাম সুদীপ্ত রায়। মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে হেল্‌থ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, সর্বত্রই তিনি ছিলেন শীর্ষ পদে। আর জি কর থেকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের বিভিন্ন অনিয়মে তাঁর বিরুদ্ধে পর পর অভিযোগ উঠছিল। তাঁর পাশাপাশি বাদ গিয়েছেন প্রদীপকুমার বর্মণ, সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়, রত্না দে নাগ, খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। তালিকায় নতুন মুখ হিসেবে এসেছেন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়া রাজীব বিশ্বাস, কল্যাণী জেএনএম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার অতীন্দ্রনাথ মণ্ডল এব‌ং ডিন সৌগতকুমার বর্মণ, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপথ্যালমোলজির শিক্ষক-চিকিৎসক অনুপ মণ্ডল, আবদুল আজিজ। পুরনোদের মধ্যে রয়েছেন রানা চট্টোপাধ্যায় ও নির্মল মাজি।

রাজনৈতিক মহল সূত্রের খবর, নতুন পাঁচ চিকিৎসকই অভিষেক-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অবশ্য সকলেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত, তেমনটা নয়। একমাত্র রাজীব তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক পদে রয়েছেন এবং প্রথম থেকেই সেবাশ্রয় প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, এ বারে তালিকায় থাকা চিকিৎসকদের মধ্যে পাঁচ জনকে যে সব আসনে প্রার্থী করা হয়েছে, সেখানে লড়াই মোটেই সহজ নয়। যেমন, হরিণঘাটা, কল্যাণী ও রানাঘাট (দক্ষিণ)— এই তিনটি আসন মূলত মতুয়া-অধ্যুষিত। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে তিনটিতেই জয়ী হয় বিজেপি। লোকসভাতেও এগিয়ে ছিল বিজেপিই। তবে, রানাঘাট (দক্ষিণ)-এর বিজেপি বিধায়ক পরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। যদিও তিনি এ বার আর টিকিট পাননি। অন্য দিকে, বাঁকুড়া ও গোঘাট আসনেও বিধানসভা ও লোকসভায় একই ফলাফল হয়েছিল।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সব সময়েই বিতর্কিত নির্মলকে টিকিট দেওয়া নিয়ে তীব্র জল্পনার পরে হাওড়া থেকে তুলে পাঠানো হয়েছে গোঘাটে। আর, রানাকে পাঠানো হয়েছে দুই নির্বাচনে জেতা আসন শিবপুরে। আজিজকে দেওয়া হয়েছে লালগোলায়। শাসকদল-ঘনিষ্ঠ এক চিকিৎসকের কথায়, ‘‘লড়াই করে জিতে এসো নীতিতেই এমন আসন বণ্টন বলে মনে হচ্ছে।’’ অন্য দিকে, দীর্ঘ দিন সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা মানস ভুঁইয়া ও শশী পাঁজা এ বারেও নিজেদের পুরনো আসনেই টিকিট পেয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘‘ওঁরা এখন চিকিৎসক কম, নেতা বেশি।’’ যদিও আর জি কর আন্দোলনের আবহে তৈরি হওয়া চিকিৎসকদের একটি সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন শশী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন