—প্রতীকী চিত্র।
দীর্ঘ দিন বাদে এ বারের ভোটের আগে ভোটার স্লিপ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার অথবা পরিবারের প্রবীণ সদস্যের হাতে দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এসআইআরের পরে বহু ভোটারের সিরিয়াল নম্বর বদলে যাওয়ায় এই স্লিপের গুরুত্ব এখন অনেক। তবে স্লিপটি কেউ না পেলে কী হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। স্লিপ না পেলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে কি না, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
কমিশন সূত্রের বক্তব্য, ভোটের অন্যান্য বাধ্যতামূলক কাজের মতো এই স্লিপ বিতরণের কাজেও অগ্রাধিকার রয়েছে। তবে কারও কাছে স্লিপ না পৌঁছলেও সমস্যা নেই। ভোটকেন্দ্রেই তৈরি ভোটার সহায়তা কেন্দ্র সেই ভোটারকে সাহায্য করবে।
বিগত বছরগুলিতে ভোটের সময় ভোটার স্লিপ দেওয়ার চিরাচরিত রীতি পালন করতে দেখা যায়নি নির্বাচন কমিশনকে। তবে এ বার এই ভোটার স্লিপ বিতরণের উপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে তারা। বিধিবদ্ধ পদ্ধতিতে সেই ভোটার স্লিপ বিলির ভার পড়েছে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) উপর। কমিশনের মতে, এসআইআর-এর পরে ভোটারদের সিরিয়াল নম্বর বদলে গিয়েছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। অথচ বেশির ভাগ ভোটারের কাছেই থাকবে পুরনো ভোটার কার্ড। ফলে কমিশনের দেওয়া ভোটার স্লিপ হাতে থাকলে নতুন সিরিয়াল নম্বর আগে থেকে জেনে যাওয়া ভোটারদের পক্ষে সহজ হবে। কিন্তু ভোটারদের একাংশের কাছে কমিশনের সেই স্লিপ পৌঁছে দেওয়া না গেলে নতুন সিরিয়াল নম্বর কী ভাবে ভোটার জানবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সঙ্গে আশঙ্কা থেকে যায়, অনেকে সিরিয়াল নম্বর না জানতে পারলে ভোটকেন্দ্রে ভিড় দীর্ঘায়িত এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।
কমিশন সূত্রের বক্তব্য, স্লিপ কোনও কারণে না থাকলে ভোটকেন্দ্রে থাকা ভোটার সহায়তা কেন্দ্রেও বিএলও এই সিরিয়াল নম্বর খুঁজে দিতে ভোটারকে সাহায্য করবেন। সেখানে সেই বুথে নামের আদ্যক্ষর হিসাবে ভাগ করা ভোটারদের তালিকা থাকবে বিএলও-দের কাছে। ফলে ভোটার নাম বললেই হাতে থাকা তালিকা মিলিয়ে সিরিয়াল নম্বর জানিয়ে দেবেন বিএলও। তা ছাড়া এই স্লিপ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতেই দেওয়ার কথা বিএলওদের। কোনও কারণে কাউকে তা দেওয়া না গেলে বিএলও-কে সেই তথ্য জানাতে হবে। তেমন ভোটারদের তালিকা জানা থাকবে প্রিসাইডিং অফিসারেরও। ফলে কারও কাছে স্লিপটি না থাকলেও তাঁকে সমস্যায় পড়তে হবে না। কমিশন সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছে, ভোট দিতে আসা ব্যক্তির ভোটার তালিকায় নাম, ছবি দেখে ভোটদানে অনুমতি দেবেন প্রিসাইডিং অফিসার। ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ১০০ মিটারে বৃত্তের সীমানার মধ্যে ভোটার এবং বিধিসম্মত ভোট-কর্মী ছাড়া আর কারও প্রবেশাধিকার থাকবে না। সেই সীমানার বাইরে বিএলও, একজন সরকারি আধিকারিকভোটারদের যাচাই করবেন। সীমানার মধ্যে আরও একটি স্তরে ভোটারের যাচাই হবে।
পোস্টাল ব্যালটের ভোট নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে কমিশনের কাছে অভিযোগ পৌঁছচ্ছে। সম্প্রতি লিখিত ভাবে কমিশন জানিয়েছে, মূল ভোটের দিনের তিন দিন আগে থেকে ফেসিলিটেশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন কেন্দ্রগুলিতে এই ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটগ্রহণ এবং সেই ব্যালট সংরক্ষণে কমিশনের বিধি কার্যকর করতে হবে। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট যেখানে হবে, সেই জায়গাগুলিতে প্রশিক্ষণের শেষ দিনে ৫০-৬০ জন কর্মীর জন্য একটি করে পোস্টাল ব্যালট ভোট-কম্পার্টমেন্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ায় থাকবে নজরদারি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে