WB Assembly Election 2026

‘গোপন বৈঠক ডেকেছেন শাহ, ১৫০ ঘণ্টায় গুরুতর কিছু ঘটানো হবে পশ্চিমবঙ্গে’! দাবি এবং আশঙ্কাপ্রকাশ তৃণমূলের

ভোটের মুখে ইডি, সিবিআই, আয়কর দফতরের ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। প্রায় প্রতি জনসভাতেই মমতা অভিযোগ করছেন, তাঁর দলের নেতা-মন্ত্রীদের নিশানা করা হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৫২
Share:

সাংবাদিক বৈঠক ডেরেক ও’ব্রায়েন। ছবি: সংগৃহীত।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গোপন বৈঠক ডেকেছেন। এমনই দাবি করে তৃণমূলের আশঙ্কা, আগামী ১৫০ ঘণ্টায় বড় কিছু ঘটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। অর্থাৎ, তৃণমূলের দাবি, ভোটের মুখে এ রাজ্যে আরও কিছু ঘটবে। আর যা হবে ‘কেন্দ্রের অঙ্গুলিহেলনে’! তবে কী ঘটবে বা হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ করা হয়নি রাজ্যের শাসকদলের তরফে।

Advertisement

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেন, তাঁদের কাছে খবর রয়েছে শাহ পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। সেই বৈঠকে কারা থাকবেন? ডেরেকের কথায়, ‘‘আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর আছে, অমিত শাহ সিবিআই প্রধান, ইডি প্রধান এবং এনআইএ প্রধানকে বৈঠকে ডেকেছেন। বাংলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য।’’ তার পরেই তৃণমূল নেতার আশঙ্কা, ‘‘আগামী ১৫০ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে বড় কিছু ঘটাতে চলেছে।’’

পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ঘটবে না কি কোনও নির্দিষ্ট জায়গায়— সে সম্পর্কে অনুমানও করেছেন ডেরেক। তিনি বলেন, ‘‘সম্ভবত এই ঘটনা ঘটাতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গে। অর্থাৎ দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং কলকাতায়।’’ ডেরেকের মতে, ‘‘এই সব জায়গায় বিজেপি বিগ জ়িরো।’’ তৃণমূলের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। সেই কারণে সর্বশক্তি লাগিয়ে দিচ্ছে। ডেরেকের কথায়, ‘‘এক জন মহিলাকে হারাতে মরিয়া হওয়ার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছে বিজেপি। এক দিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সহ ১৮ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, হাফ ডজন মুখ্যমন্ত্রী, সিএপিএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি, সিবিআই, এনআইএ, আর অন্য দিকে, এক জন মহিলা।’’

Advertisement

ভোটের মুখে ইডি, সিবিআই, আয়কর দফতরের ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। প্রায় প্রতি জনসভাতেই তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা অভিযোগ করছেন, তাঁর দলের নেতা-মন্ত্রীদের নিশানা করা হচ্ছে। বিজেপি-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলছেন, ‘‘রেড করানো হচ্ছে। বলছে, গাঁজা দিয়ে তৃণমূলের সবাইকে অ্যারেস্ট করে দাও।’’ সোমবার বেলেঘাটার সভা থেকেও মমতা অভিযোগ করেছেন, ‘‘মিলিটারিদের সঙ্গে মিটিং করছেন ভোট করার জন্য। কোনও দিন কেউ দেখেছেন? সব এজেন্সি নিয়ে এসেছেন। আমার প্রার্থীদের প্রচার করতে দিচ্ছে না। সব রেড করছে বাড়ি গিয়ে গিয়ে।’’ মমতার এই অভিযোগ আরও স্পষ্ট করে জানালেন ডেরেক। রাখঢাক না-করে শাহের নাম করে ‘গোপন বৈঠকের’ দাবি করল তৃণমূল।

শুধু তাই নয়, গোটা রাজ্য থেকে ৮০০ দলীয় নেতা এবং কর্মীকে গ্রেফতারের আশঙ্কা করে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। সেই ঘটনায় কাদের কাদের গ্রেফতার করা হতে পারে, জেলা ধরে ধরে নাম উল্লেখ করে আদালতের কাছে তালিকাও জমা করেছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, এই তালিকায় যেমন দলীয় সদস্য রয়েছে, তেমন নেতা থেকে সাংসদ, বিধায়ক, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যেরাও রয়েছেন।

Advertisement

তৃণমূল বার বার এ-ও দাবি করছে, নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ভোটে জেতার চেষ্টা করছে বিজেপি। নির্বাচন পর্ব জুড়ে এখনও পর্যন্ত বার বার তৃণমূল এবং কমিশনের সংঘাত দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি, একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাট প্রকাশ করে তৃণমূল দাবি করে, তাদের সব নেতা, মন্ত্রীদের গাড়ি তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আলাদা করে নাকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রীর গাড়ি তল্লাশি করতে বলা হয়েছে বলেও দাবি করে তৃণমূল। জনসভাগুলিতে সেই চ্যাটের বিষয় উল্লেখ করে মমতা দাবি করেন, তাঁর গাড়িতেও নাকি তল্লাশি চালাতে এসেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। যদিও সেই অভিযোগ পরে উড়িয়ে দেয় কমিশন। তবে শাহের ‘গোপন বৈঠক ডাকার’ বিষয় উল্লেখ করে তৃণমূল যা দাবি করল, ভোটের মুখে তা রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন অনেকেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement