—প্রতীকী ছবি।
গোটা রাজ্য থেকে ৮০০ দলীয় নেতা এবং কর্মীকে গ্রেফতারের আশঙ্কা করে সোমবার সকালেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। সেই ঘটনায় কাদের কাদের গ্রেফতার করা হতে পারে, এ বার জেলা ধরে ধরে নাম উল্লেখ করে আদালতের কাছে তালিকা জমা দিল তৃণমূল। তাদের আশঙ্কা এই সব দলীয় নেতা এবং কর্মীদের গ্রেফতার করতে পারে কমিশন। তৃণমূলের দাবি, এই তালিকায় যেমন দলীয় সদস্য রয়েছে, তেমন নেতা থেকে সাংসদ, বিধায়ক, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যেরাও রয়েছেন। যদিও কমিশনের দাবি, কোনও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে বলা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, এমন ব্যক্তিদের নির্বাচনের আগে গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসার একটি রিপোর্ট বানিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সেই রিপোর্টে অনেককেই অভিযুক্ত করেছিল তারা। সেই অভিযুক্তের তালিকায় ছিলেন এ বারের নির্বাচনে দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক উদয়ন গুহ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই এ রকম ৮০০ জনের তালিকা তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন বলেও দাবি করেন উদয়ন। যার মধ্যে দিনহাটা ও মেখলিগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থীর নাম রয়েছে বলে তিনি জানান। দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘‘গোটা বিষয়টি দলের রাজ্য নেতৃত্ব দেখছেন। ইতিমধ্যে হাই কোর্টে এ বিষয় নিয়ে মামলা করা হয়েছে দলের তরফে।’’
সোমবার হাই কোর্টে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বিষয়টিতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানান। তৃণমূলের আর্জির প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেয় আদালত। তার পরেই তৃণমূলের তরফে মামলা দায়ের করা হয়। শুধু তা-ই নয়, দলীয় নেতা-কর্মী, সাংসদ-বিধায়কদের মধ্যে কাদের গ্রেফতারির আশঙ্কা রয়েছে, জেলা এবং বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে তাঁদের তালিকা দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারি নিয়ে। এ বার সেই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আদালতের দ্বারস্থ হল তৃণমূল।
জেলা ধরে ধরে যে নাম প্রকাশ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে বিশেষ কিছু নাম—
কোচবিহার: পরেশ অধিকারী (বিদায়ী বিধায়ক তথা ২০২৬ সালের তৃণমূল প্রার্থী), অভিজিৎ দে ভৌমিক (কোচবিহার দক্ষিণের প্রার্থী), প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়, উদয়ন গুহ (বিদায়ী বিধায়ক তথা দিনহাটার প্রার্থী)-সহ আরও অনেকে।
আলিপুরদুয়ার: অজিত বর্মণ, ভিক্টর বর্মণ (কুমারগ্রাম), মনোরঞ্জন দে-সহ আরও অনেকে।
জলপাইগুড়ি: উত্তম সরকার, দিলীপ রায় (ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি)-সহ আরও অনেকে।
দার্জিলিং: রঞ্জন সরকার (মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি), দুলাল দত্ত (শিলিগুড়ি)-সহ অনেকে।
উত্তর দিনাজপুর: হামিদুল রহমান (চোপড়ার বিদায়ী বিধায়ক বর্তমান প্র্রাথী), জাকির হোসেন (ইসলামপুর), সত্যজিৎ বর্মণ-সহ অনেকে।
দক্ষিণ দিনাজপুর: উদয় বর্মণ (বালুরঘাট), উত্তম জৈন (হরিরামপুর)
মালদহ: রেজাউল করিম বক্সী (রতুয়া)-সহ অনেকে।
মুর্শিদাবাদ: মনিরুল ইসলাম (প্রাক্তন বিধায়ক), আমিরুল ইসলাম-সহ অনেকে।
নদিয়া: আজিজুর হরমান মল্লিক, শ্যামল ভট্টাচার্য, পিন্টু দত্ত-সহ বেশ কয়েক জন।
উত্তর ২৪ পরগনা: নারায়ণচন্দ্র ঘোষ (বনগাঁ উত্তর), নারায়ণ গোস্বামী (স্বরূপনগর)-সহ অনেকে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পিন্টু প্রধান (কুলতলি), অনিমেষ মণ্ডল (গোসাবা), সেলমি নস্কর (মগরাহাট পূর্ব)-সহ অনেকে।
কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ: শান্তনু সেন ( প্রাক্তন সাংসদ), স্বরূপ বিশ্বাস (রাসবিহারী), বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু-সহ অনেকে।
হাওড়া: কুন্তল ভট্টাচার্য (বালি), রিয়াজ় আহমেদ (হাওড়া উত্তর), তাপস মাইতি (ডোমজুড়)-সহ অনেকে।
হুগলি: কল্লোল বন্দ্যোপাধ্যায় (উত্তরপাড়া), কমল দাস, সোনা শীল (চুঁচুড়া), ইমাম হোসেন, বাবু পাল (সপ্তগ্রাম)-সহ আরও অনেকে।
পূর্ব মেদিনীপুর: নিরঞ্জন সিহি (তমলুক), আব্দুল খালেক কাজী (রামনগর)-সহ অনেকে।
ঝাড়গ্রাম: প্রেমানন্দ মুর্মু (বিনপুর), দীপক বেজ (ঝাড়গ্রাম)-সহ অনেকে।
পশ্চিম মেদিনীপুর: রাম সামন্ত (সবং), শিবপ্রসাদ রায় (ঘাটাল)-সহ অনেকে।
পুরুলিয়া: সুশান্ত মাহাতো (বাঘমুণ্ডি), সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় (মানবাজার)-সহ অনেকে।
বাঁকুড়া: মলয় মুখোপাধ্যায় (শালতোড়া), বঙ্কিম মিশ্র (ছাতনা), রবিউল হুসেন (ইন্দাস)।
পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান: আমিনুর খান (খণ্ডঘোষ), আজগর আলি (মন্তেশ্বর), সৌমিত্র গুপ্ত (কালনা), মণিকান্ত রায় (বর্মান উত্তর)-সহ অনেকে।
বীরভূম: পীষূষ পাণ্ডে (দুবরাজপুর), বিকাশ রায়চৌধুরী (সিউড়ি), আলি মুর্তাজা খান (মুরারই)-সহ অনেকে।
যদিও কমিশনের দাবি, কোনও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে বলা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এমন ব্যক্তিদের নির্বাচনের আগে গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দাগি আসামিদেরও গ্রেফতার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, সুষ্ঠু ভাবে ভোটের জন্য এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই নিয়ম আগেও ছিল। অনেক ক্ষেত্রে হয়ত তা কার্যকর হয়নি। এ বার কার্যকর করতে বলা হয়েছে।