Soumya Basu on Left Politics

বিজেপির সভায় অনিল বসুর পুত্র! ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে বললেন, ‘সেই সিপিএম আর নেই, তাই...’

সৌম্য বসুর বাবা অনিল বাম আমলে প্রতাপশালী নেতা ছিলেন। আরামবাগ থেকে ছ’বারের সাংসদ। তবে বিস্তর বিতর্কেও জড়িয়েছেন। ২০০৪ সালে আরামবাগ থেকে প্রায় ছয় লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২৬
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিজেপির নির্বাচনী সভায় উপস্থিত প্রয়াত বাম সাংসদ তথা বহিষ্কৃত সিপিএম নেতা অনিল বসুর পুত্র সৌম্য বসু। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতি করা যুবক সোমবার চুঁচুড়ার বিজেপির সভা থেকে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ার সঙ্গে রাজ্যে বামপন্থার সমালোচনা করে বললেন, ‘‘সেই সিপিএম আর নেই। তাই বিজেপি করছি।’’

Advertisement

হুগলি জেলার পাঁচ জন বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়া উপলক্ষে চুঁচুড়া ঘড়ি মোড়ে সভা হয়। তাতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ওই সভায় দেখা যায় সৌম্যকে। তিনি চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগকে শুভেচ্ছা জানান।

‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে সভা থেকে বেরোনোর সময় সৌম্য জানান, একদা নিজে এসএফআইয়ের জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। ডিওয়াইএফআইয়ের জ়োনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। পরে ভেবেচিন্তেই বাম রাজনীতি থেকে দূরত্ব রচনা করেছেন।

Advertisement

সৌম্যের বাবা অনিল বাম আমলে প্রতাপশালী নেতা ছিলেন। আরামবাগ থেকে ছ’বারের সাংসদ। তবে বিস্তর বিতর্কেও জড়িয়েছেন। ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে রেকর্ড গড়ে আরামবাগ থেকে প্রায় ছয় লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন তিনি। ‘ব্যাপক রিগিং’-এর অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। আবার চাঁছাছোলা মন্তব্যের জন্যও বিতর্কে জড়িয়েছেন। বাম জমানার শেষ দিকে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর ‘রুচিহীন’ মন্তব্যের জেরে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল সিপিএমকে। তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিবৃতি দিয়ে কড়া ভর্ৎসনা করেছিলেন অনিলকে। তারও পরে সাংবাদিক বৈঠক করে সিপিএমের তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক বিমান বসুর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন হুগলির ওই নেতা। তার জেরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কৃত হলেও আমৃত্যু মনেপ্রাণে তিনি ছিলেন সিপিএমেরই। হুগলি এবং কলকাতায় দলের বেশ কিছু কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যেত দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে।

২০১৮ সালের সালের ২ অক্টোবর অনিলের জীবনাবসান হয়। সোমবার অনিলের পুত্র সৌম্য জানান, তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, ‘‘বাবা সাংসদ-বিধায়ক-মন্ত্রী থাকলেই ছেলেকেও সেই দল করতে হবে, তার তো কোনও কারণ নেই। প্রত্যেক মানুষের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার আছে। পছন্দ-অপছন্দ রয়েছে। আমি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। উনি বলেছেন প্রার্থীদের জেতাতে হবে। প্রার্থী জিতবেই। আমি সুবীর নাগের সঙ্গে আছি।’’

Advertisement

তার পরে সৌম্য জানিয়েছেন, জ্যোতি বসু, অনিল বিশ্বাস, সুভাষ চক্রবর্তীদের বামপন্থার সঙ্গে এখনকার রাজ্য বামপন্থীদের বিস্তর ফারাক। এঁরা সকলে ‘এলিট ক্লাসের’ প্রতিনিধিত্ব করছেন। সৌম্যের কথায়, ‘‘এখন রাজ্যে বামপন্থার নামে যেটা চলছে, সেটার উপর বিশ্বাস রাখা যায় না। আর বিজেপি দেশভক্তদের দল। সেটাই আমায় আকর্ষণ করে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement