সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। —ফাইল চিত্র।
ট্রাইবুনালে নাম নিষ্পত্তি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলে হাই কোর্টে আবেদন করা যাবে। শুক্রবার তা জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাও করার ঘটনাতেও জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-কে চার্জশিট দেওয়ার অনুমতি দিল শীর্ষ আদালত।
শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। সেখানে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এজলাসে বলেন, “২৭ লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র ১৩৬টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে।” তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কান্ত জানিয়ে দিয়েছেন, এ বিষয়ে চাইলে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে যেতে পারে মামলাকারী পক্ষ। তিনি জানান, ট্রাইবুনালে নাম নিষ্পত্তি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে হাই কোর্টে আবেদন করা যাবে।
বৃহস্পতিবারই পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট মিটেছে। মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটেছে প্রথম দফার ১৫২ আসনের ভোটগ্রহণ পর্ব। এ বার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতেও উঠে এল রাজ্যের প্রথম দফার ভোটের প্রসঙ্গ। ভোটদানের হার প্রসঙ্গে কল্যাণ জানান, এ বার ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এমনকি পরিযায়ী শ্রমিকেরাও রাজ্যে ফিরে ভোট দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও জানান, ৯২ শতাংশ ভোট পড়া ‘ঐতিহাসিক’। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল বলেও জানান তিনি। কেন্দ্রীয় বাহিনীও খুব ভাল কাজ করেছে বলে আদালতে জানান মেহতা।
প্রথম দফার ভোট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই বিচারপতিও। প্রধান বিচারপতি কান্ত বলেন, “একজন ভারতীয় নাগরিক হিসাবে ভোটদানের বেশি হার দেখে আমি খুবই খুশি। মানুষ যখন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে।” তিনি আরও জানান, ভোটাররা যদি নিজের ভোটের শক্তি উপলব্ধি করতে পারেন, তবে তাঁরা হিংসায় জড়ান না। প্রথম দফার ভোট প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচীও মন্তব্য করেন, কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, “রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।”
সুপ্রিম কোর্টের শুনানি চলাকালীন কমিশনের আইনজীবীকে ৪ মে নৈশভোজের জন্য আমন্ত্রণ জানান কল্যাণ। ঘটনাচক্রে, ওই দিনই রয়েছে ভোটগণনা। কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “৪ মে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” সে কথা শুনে বিচারপতি বাগচী বলেন, “উনি যদি আগে কলকাতায় আসতেন, তা হলে সেই দায়িত্ব আমারই থাকত।”