স্বপ্না বর্মণ। — ফাইল চিত্র।
তৃণমূলের প্রার্থী, এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মণের রেলের চাকরি থেকে ইস্তফার প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা গড়াল হাই কোর্টে। সোনা জেতার পরে ওয়েলফেয়ার অধিকারিকপদে স্বপ্নাকে চাকরি দিয়েছিল রেল। সম্প্রতি স্বপ্না তৃণমূলে যোগ দেন। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনে তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।
কর্মরত অবস্থায় তৃণমূলের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত থাকায় ৯ মার্চ রেল স্বপ্নাকে সরকারি চাকরির বিধি ভাঙার অভিযোগে শো-কজ় করে। বিধানসভা ভোট ঘোষণার পরেরদিন, স্বপ্না রেলের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠান।তার পরে স্বপ্নার নাম তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা হলেও রেলের তরফে স্বপ্নার ইস্তফায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। রেল ছাড়পত্র না দিলে মনোনয়নে জটিলতা দেখা দেবে, এমনকি তা বাতিলও হতে পারে আশঙ্কায় স্বপ্না কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মঙ্গলবার সে মামলার শুনানি ছিল। শুনানিতে রেল জানায়, স্বপ্না ভুল স্বীকার করে পেনশন বা অন্য সুবিধা নেবেন না জানিয়ে এ দিনই বিকেল ৫টার মধ্যে রেলকে চিঠি দিলে দ্রুত আবেদন বিবেচনা করা হবে। সেই মতো স্বপ্না আদালতের রায়ের প্রতিলিপি পেয়ে রেলকে ই-মেলে ইস্তফাপত্র পাঠান এ দিন বিকেল ৫টার আগেই। শুক্রবার ফের মামলার শুনানি হবে।
সার্কিট বেঞ্চে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের এজলাসে মামলার শুনানি হয়েছে। ইস্তফাপত্র পেয়ে রেল কী পদক্ষেপ করল, শুক্রবার তা হাই কোর্টে জানানো হবে। স্বপ্নার আইনজীবী নিলয় চক্রবর্তী বলেন, “চাকরিরত অবস্থায় রাজনৈতিক মঞ্চে যাওয়ার কারণে রেল শো-কজ় করেছিল। এই বিভাগীয় পদক্ষেপের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে হয় চাকরি থেকে বরখাস্ত, না হলে চাকরির পরের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্বপ্না নিজেই বলেছেন, অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন নেই। গণতান্ত্রিক অধিকারে ভোটে লড়তে চান।’’ রেলের তরফে সহকারী সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার বলেন, “স্বপ্না আইন মেনে ফের চিঠি দিলে দ্রুত বিবেচনা করা হবে।” এ দিন স্বপ্না নিজেও সার্কিট বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তবেমন্তব্য করেননি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে