তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা ছবি। —সংগৃহীত।
কালীঘাট থানার ওসির হোয়াট্সঅ্যাপ স্টেটাসের ছবি ‘আপত্তিকর’ বলে দাবি তুলে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করল তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার ওই ছবি পোস্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে এই বিষয়টি চিঠি লিখে অবগত করা হয়েছে।
চিঠির মর্মও নিজের সমাজমাধ্যমের পোস্টে তুলে ধরেছেন জয়প্রকাশ। তাঁর দাবি, ওই ছবিটি কালীঘাট থানার বর্তমান ওসি গৌতম দাসের। তিনি নিজেই ফেসবুক এবং হোয়াট্সঅ্যাপ স্টেটাসে সেই ছবি পোস্ট করেছেন বলে দাবি তৃণমূল নেতার। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি অত্যাধুনিক বন্দুক হাতে থানায় নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন গৌতম। তার পরনে পুলিশের উর্দি (যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
জয়প্রকাশের দাবি, গৌতম তাঁর পোস্টে নিজের ছবি দিয়ে সেখানে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত।’ জয়প্রকাশ তাঁর এক্স পোস্টে একটি ফেসবুক আইডিও দিয়েছেন। যদিও সেই আইডির পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। তৃণমূল নেতার মতে, ‘এ ধরনের ছবি শুধু অস্বস্তিকর নয়, আইনের চোখেও অত্যন্ত আপত্তিকর। ওই ছবি থেকে স্পষ্ট তিনি অত্যাধুনিক বন্দুক নিয়ে কাউকে নিশানা করছেন।’
জয়প্রকাশ তাঁর আপত্তির সপক্ষে কয়েকটি যুক্তি খাঁড়া করেছেন। তাঁর মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গে কর্তব্যরত কোনও পুলিশ কর্মকর্তা ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় নিজের ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতে পারেন না। সেটি কলকাতা পুলিশের সমাজমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকাতে উল্লেখ রয়েছে। অন্য অনেক রাজ্যেই এ ধরনের বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে। পাশাপাশি, সমাজমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত ভারত সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, হুমকিমূলক কোনও ধরনের ক্যাপশন-সহ অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।’
জয়প্রকাশ এ-ও প্রশ্ন তুলেছেন, কালীঘাট থানার ওসির হাতে যে ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, তা তাঁর জন্য বরাদ্দ আদৌ রয়েছে তো? তিনি কি ওই ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষিত? তৃণমূল নেতার মতে, গৌতমের সমাজমাধ্যমের পোস্ট এবং তার সঙ্গে দেওয়া ‘ক্যাপশন’ শুধু বিপজ্জনক নয়, তা অত্যন্ত বিতর্কিতও! জয়প্রকাশ মনে করেন, ‘এ ধরনের পোস্ট সাধারণ জনগণের জন্য সরাসরি হুমকি।’ তৃণমূল নেতার কথায়, “এমন আপত্তিকর এবং আইন ভঙ্গকারী কাজ ক্ষমার যোগ্য নয়। তদন্ত করে যথাযথ শাস্তি দেওয়া উচিত।” এ ব্যাপারে জ্ঞানেশ, মনোজ এবং অজয়ের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন জয়প্রকাশ। তিনি এই পোস্টের প্রথমেই উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ হিসাবে তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরছেন।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগে গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি এক দফা বদল করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করে আনা হয়েছিল। সেই নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই উৎপলকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হয় গৌতমকে। তিনি কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে ছিলেন।