সাত মণ তেল পোড়ার পরে রাধা হয়তো নাচল! কিন্তু দরবার ততক্ষণে মুলতবি হয়ে গিয়েছে!
কংগ্রেস এবং বাম শিবির থেকে দল বদলে আসা বিধায়কদের শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দেওয়ানো হল তৃণমূলের তরফে। দল বদল করার পুরস্কার হিসাবে ওই ১২ জনই এ বার তৃণমূলের টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু বিধানসভার কাগজে-কলমে তাঁরা ছিলেন তাঁদের পুরনো দলেরই বিধায়ক। এ বার মনোনয়ন পত্র জমা ও স্ক্রুটিনি শুরু হওয়ার আগে আইনি ও অন্যান্য প্রশ্ন এড়াতে ১২ জনই আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগ করলেন। যা দেখে বিরোধীদের প্রশ্ন, ভোট দোরগোড়ায়। এই সময়ে বিধায়ক-পদ ছেড়ে আর হবে কী!
সুজাপুরের আবু নাসের (লেবু) খান চৌধুরী সোমবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে ইস্তফা-পর্ব শেষ হয়েছে। কংগ্রেস ছেড়ে আসা লেবুবাবুর মতোই অসিত মাল, গোলাম রব্বানি, সুশীল রায়, সিপিএম থেকে আসা ছায়া দলুই, নবীনচন্দ্র বাগ বা ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে সদ্য-আগত উদয়ন গুহ, তাজমুল হোসেনরাও এর মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। নিজেদের দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেও এঁরা কেউই আনুষ্ঠানিক ভাবে এত দিন সেই পরিবর্তন কবুল করেননি! বাম বা কংগ্রেস পরিষদীয় দলের তরফে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। স্পিকার শুনানির জন্য ডাকলেও শাসক দলের পরামর্শে এই বিধায়কেরা বারেবারে ‘সময়’ চেয়ে নিতেন। তৃণমূলের মহাসচিব তথা বিদায়ী সরকারের পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ‘‘এখন নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। ওই বিধায়কেরা তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন। তাই জট়িলতা এড়ানোর জন্যই তাঁরা বিধায়ক-পদে ইস্তফা দিলেন।’’
পদত্যাগী বিধায়কদের মধ্যে এক জনের বক্তব্য, ‘‘বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়নি। আমি তৃণমূলের প্রার্থী কিন্তু অন্য দলের বিধায়ক আছি— এই বিষয়টা নিয়ে প্রচারের সময় কেউ প্রশ্ন তুলতে পারতেন। তাই সব দিক ভেবেই দল আমাদের বলেছে ইস্তফা দিতে।’’ যদিও বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র বা কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা মহম্মদ সোহরাবেরা বলছেন, নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইলে অনেক আগেই ‘দলবদলু’ বিধায়কদের পদত্যাগ করতে হতো! যে ভাবে অরুণাভ ঘোষ তৃণমূল ছাড়ার সময়ে বিধায়ক-পদও ছেড়ে এসেছিলেন। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান বিধায়ক মানস ভুঁইয়ার মন্তব্য, ‘‘এ তো ধরা পড়ার ভয়ে ইস্তফা! নইলে নির্বাচন কমিশন দলবদলুদের চেপে ধরতো! আদর্শগত কারণে তৃণমূলে যেতে হলে বিধায়ক-পদে ইস্তফা দিয়ে আবার উপনির্বাচনে জিতে আসতে পারতেন। ধন্যবাদ জানাব কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী আর অজয় দে-কে যে, তাঁরা পদ ছেড়ে আবার নির্বাচনে জিতে এসেছিলেন।’’